করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বাইরে তালা ভিতরে খোলা !

রাঙামাটিতে করোনা প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার কারনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাঁচা বাজার, মুদি  ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকান বন্ধের নির্দেশনা জারী করা হয়। প্রশাসনের সে নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা মেনে নিয়েছিলেন রাঙামাটির বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতারা।

বর্তমানে ঈদের মৌসুমে সরকারি নির্দেশনা না মেনে অভিনব কায়দায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন শহরের অনেক ব্যবসায়ী। বাহির থেকে তালা মারা দেখা গেলেও ভিতরে খোলা আছে দোকান গ্রাহক ভিতরে বসে কেনাকাটা করছেন নিশ্চিন্তে। অন্যদিকে দোকানের বাহিরে তালা দিয়ে পাহাড়ায় আছে দোকানের কর্মচারী যারা কাস্টমার আসলে তালা খুলে দেয় দোকানের ভিতরে কাস্টমার ডুকলে আবার তালা মেরে দেয়। প্রশাসনের গাড়ি দেখলে লুকিয়ে যায় বাহিরে পাহারা দেয়া কর্মচারী।

সরজমিনে শহরের তবলছড়ি, রিজার্ভবাজার, বনরুপা, কলেজ গেইট সহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। অনেক দোকান বাহির থেকে বন্ধ মনে হলেও আসলে দোকন চালু আছে দোকানের ভিতরে রয়েছে কাস্টমারও। অনেক কাপড়ের দোকানের নাম্বার গ্রাহকদের কাছে আছে তারা ফোন করে দোকানে আসলেই খুলে দেয় তালা ভিতরে চলে ঈদের কেনাকাটা। কাপড়ের দোকান থেকে শুরু করে হার্ডওয়ারের দোকান, স্টেশনারী, খাবারের দোকান সহ বিভিন্ন দোকান খোলা আছে এই অভিনব কায়দায়। এমনকি যে কেউ চাইলে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক দোকান বা শোরুম থেকে ফ্রিজ, টেলিভিশন, এসি সহ যেকোন ইলেক্টনিক্স পণ্য কেনা যায় খুব সহজে। এসব শোরুম বাহির থেকে বন্ধ মনে হলেও ভিতরে চলছে পণ্য কেনাবেচা। প্রায় সব বড় ইলেক্ট্রনিক দোকান খোলা আছে ভিতরে।

বনরূপা, কলেজ গেইট সহ কিছু বাজারের ভিতরে দেখা মেলে আরো ভিন্ন চিত্র কিছু দোকান খোলা আছে ভিতরে আনেক গ্রাহক একসাথে ঈদের কেনাকাটা করছে এমনকি কেনাকাটায় মানা হচ্ছে না কোন কোনধরনের সামাজিক দুরুত্ব। প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে এমন ব্যবসা পরিচালনা করা যেমন প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো তেমনই করোনার জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। অবশ্য প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট নানা সময়ে অনেক দোকনদারকে আইন আমান্য করায় জরিমানাও করেছে তারপরও নানা অভিনব কায়দায় চালিয়ে যাচ্ছে অনেকে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের ব্যবসা।

উন্নয়ন কর্মী এম জিসান বখতেয়ার বলেন, সকলের উচিত সরকারি নির্দেশনে মনে চলা কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তা শুনছেন না যার মাশুল হয়তো সবাইতে দিতে হবে। প্রশাসনকে আরো কঠোরভাব মনিটরিং করার আহবানও জানান তিনি।

দোকান খোলা রাখা প্রসঙ্গে এক ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের মৌসুম চলে যাচ্ছে আমাদের ব্যবসার খুব খারাপ অবস্থা তারপরও নিরুপায় হয়ে ঈদে যা পাই তাই লাভ সেজন্য এমনভাবে খোলা রেখেছি।

বনরূপা বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি আবু সৈয়দ বলেন, আমরা এ ব্যপারে সচেতন আছি সকল ব্যবসায়ীদের আমরা বারবার অনুরোধ করেছি সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য। আমরা জানি আমাদেরর ব্যবসায়ীরা করোনার কারনে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তারপর ও যদি কেউ প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে ব্যবসা চালায় তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।

রিজার্ভবাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি আনোয়ার মিয়া ভানু বলেন, আমরাও প্রশাসনের সাথে সাথে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দিয়েছি তারপরও যদি কেউ দোকান খোলা রাখে তাহলে প্রশাসনকে বলব তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক আমরা সে সব ব্যবসায়ীদের পক্ষে দাঁড়াবো না।

তবলছড়ি ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি জহির আহম্মেদ অভিনব কায়দায় দোকান খোলা রাখার বিষয়টি তার নলেজে নেই দাবী করে বলেন, আমরা নিষেধ করে দিছি দোকান বন্ধ রাখার জন্য। আমি একবার ঘুরে আসলে বাজার সব বন্ধ দেখি আর যেতে পারি না দেখতে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
Close