ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বসন্তের বিকেলে দুই বাংলার কবিদের মেলবন্ধন

‘বাংলা সাহিত্যের প্রয়োজনে আমার আছি একসাথে বাংলাদেশ-ভারত’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে ভারত-বাংলাদেশের বেশ কিছু কবিদের কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে বসন্তের এক বিকেল বেলায় দুই বাংলার মিলন ঘটেছে।

শুক্রবার রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘পার্বত্য কাব্য’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত পার্বত্য কাব্য’র প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী, অরণ্যে সূর্যোদয় কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, গুনীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় কবিদের এ মিলন ঘটে।

অনুষ্ঠানে দুই বাংলারই কবিদের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে বসন্তের ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া হয় শ্রোতাদের মাঝে। এই উৎসব দুই বাংলার হৃদয়ের সহজাত সংগ্রামী মনোভাব সুদীর্ঘ কালের ঐতিহ্যময় অভিন্ন ধারাটিকে নতুন যুগের নতুন পটভূমিতে সাফল্যের সাথে প্রবহমান রাখুক এমনই প্রত্যশা দুই বাংলার কবিদের।

অরণ্যে সূর্যোদয় কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, গুনীজন সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি ছিলেন- বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবি সিংইয়ং ¤্রাে। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন- পশ্চিম বঙ্গ থেকে আগত পার্বত্যকাব্য অনলাইনের প্রধান পরিচালক ও অঙ্কুরোদগম’র পরিচালক সুমিতা মুখোপাধ্যায়।

রাঙামাটি সহিত্য পরিষদের সভাপতি ও পার্বত্যকাব্য’র পরিচালক কবি হাসান মনজু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারত থেকে আগত পার্বত্য কাব্যর পরিচালক কবি ইলা কারকাট্টা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সাধন বিকাশ চাকমা, বাংলাদেশ বেতার রাঙামাটি আঞ্চলিক পরিচালক এসএম মোস্তফা সারোয়ার, রাঙামাটি সাহিত্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কবি মনির আহমেদ, পার্বত্য কাব্য’র পরিচালক কবি কাছেন রাখাইন। সভার উদ্বোধন করেন পার্বত্য কাব্য’র প্রতিষ্ঠাতা কবি রেজাউল করিম।

আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন, বাংলাদেশ বেতার রাঙামাটির নিয়োমিত উপস্থাপক, সংবাদ পাঠক লিটন দেব এবং তানিয়া ফরাজী। অন্যদিকে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন নাট্যকার ও উপস্থাপক মনি পাহাড়ী।

আলোচনা সভায় বক্তারা দুই বাংলার মিলনকে বহু বছর ধরে বয়ে আসা একই নদীর ধারার সাথে তুলনা করে আত্মার মেলবন্ধনে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন। একই সাথে সভা থেকে বাংলা ভাষার যে দুরাবস্থা এবং ভাষার প্রতি বাঙালিদের যে মনোভাব তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় বলা হয়, এ ভাষা মায়ের ভাষা, নিজের ভাষা, নিজেদের ভাষা। অন্য ভাষা বলার মধ্যে কোনও স্বার্থকতা নেই। মায়ের ভাষায় মিলে আত্মতৃপ্তি। বাংলা ভাষা রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান দুই বাংলার কবিরা।

আলোচনা সভা শেষে সাহিত্য অঙ্গণে অবদান রাখায় দুই বাংলার কবিদের সম্মাননা এবং পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button