ব্রেকিংরাঙামাটিলাইফস্টাইললিড

বসন্তবরণে বাসন্তীরঙে রঙিন ক্যাম্পাস

ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিতে যেন রঙের ফুলকি ছড়ালো রাঙামাটি সরকারি কলেজ। গত ৩ ফাল্গুন জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে বসন্তকে বরণ করে নেয় শিক্ষার্থীরা। রোববার সকাল থেকেই বাহারি রঙের পোশাকে প্রিয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। অধিকাংশ মেয়েরাই বাসন্তী রঙের শাড়ি আর মাথায় গাজরা।আবার ছেলেরা পাঞ্জাবি পরিধান করে সমাবেত হয় বটমূলে, তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে ক্যাম্পাস।

পাহাড়ি-বাঙালি মিলেমিশে তৈরি হয় সম্প্রীতির মিলন মেলা। এসময় অনেক পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে, বাসন্তী রঙের পিননখাদি পরিধান করে ঘুরে বেড়াচ্ছে ক্যাম্পাসে। তাদের একজন জোনাকি চাকমা। জোনাকি জানান, ‘আমরা ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করতে এসেছি। বাংলার আবহমান সংস্কৃতির মাঝে আমি মনে করেছি আমার সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে। তাই পিনন খাদি পরে আসা। এতে অনুষ্ঠানের মাধুর্য্য যেমন বেড়েছে, সাথে বৈচিত্র্যও। পাহাতো এমনই তাই না? বহু জাতি-গোষ্ঠীর যৌথ আবাস।’

সানজিদার মতে, রাঙামাটিতে এমন আয়োজন সচরাচর হয় না। এতো দিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের উদযাপন দেখে বেশ কষ্ট হতো, আমরা কেন পারি না এমন ভাবে উৎসবে মাততে। এবারের আয়োজন আমার সেই আকাক্সক্ষা পুরন করতে পেরেছে।এর জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ ও বড় ভাইদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, সাথে সাথে দাবি জানাবো এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা যেন থাকে।

মাঠের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন রাইসুল, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক। রাইসুল বলেন, অনুষ্ঠান যেহেতু উন্মুক্ত তাই উপভোগ করছি। রাঙামাটিতে পাঁচ বছর যাবৎ আছি। এমন আয়োজন আগে দেখিনি, খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে এক ঝাঁক রাজকণ্যা আর রাজপুত্র স্বপ্নের রাজ্যে বিচরণ করছে। যদিও কিছু ত্রুটি আছে। যেমন গানগুলো গাওয়া আগে হয়তো রিহার্সল করতে পারেনি। পাহাড়ি কিছু নাচ গান থাকলে আরও সুন্দর হতে পারতো। তবে যতটুকু হয়েছে তাতেও কমকি? যা হয়নি আগামীতে তা হবে। তবে আজ আমি নিজের অজান্তেই ফিরে গিয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে।

কীসের কমতি ছিলো বসন্ত বরণে?
শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় বসন্তের গান, কবিতা, নৃত্য প্রাণবন্ত উপস্থাপনা মন কেড়েছে সকলের। তবে সব কিছুকে পাশ কাটিয়ে ক্ষণিকর জন্য ঝড় তুলেছিল শিক্ষকের গাওয়া গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান বা একদিন বাঙালি ছিলামরে… গানগুলো। ফুল আর খাবারের পসরাও ছিল এই ছোট্ট আয়োজনে। খাবারের স্টলগুলোতে ছিল মুখরোচক সব খাবার, সাথে পোশাকও। তবে উপচেপড়া ভিড় ছিলো ফুলের দোকানে। সবাই নিজে মনের মত করে সাজাতে কিনছিলো ফুলের মালা ও গাজরা স্টিক।

ফুল দোকানি সাদেক জানিয়েছেন, এতটা চাহিদা হবে ভাবতে পারিনি, সব থেকে বেশি বিক্রয় হয়েছে গাজরা। আমি অনেককেই গাজরা দিতে পারিনি, মোট কথা বুঝতে পারিনি এতো ফুল বিক্রয় হবে। আগামীতে এমন আয়োজন যদি হয় তবে শতভাগ প্রস্তুতি নিয়েই আসব। কত টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো বিক্রি চলছে। শেষে হিসেব করলেই বুঝতে পারব। তবে এখন পর্যন্ত যা বিক্রয় করেছি ধারণা করছি, দশ হাজার টাকা হতে পারে।

তবে রাঙামাটির মত এমন বৈচিত্র্যপূর্ণ শহরে এ ধরণের আয়োজন যেমন সকলের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করবে তেমন সম্প্রীতির বন্ধনকে করবে আনও সুদৃঢ় করবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button