নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / খাগড়াছড়ি / বরখাস্ত হলেন জেলা পরিষদের ২৭ বছরের ‘অতিপ্রিয়’ জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী !!
parbatyachattagram

দায়িত্ব নিতে আসা নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীকে অপমান !

বরখাস্ত হলেন জেলা পরিষদের ২৭ বছরের ‘অতিপ্রিয়’ জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী !!

অবশেষে বরখাস্তই হলেন ২৭ বছর ধরে একই কর্মস্থলে কর্মরত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের খাগড়াছড়ি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: সোহরাব হোসেন। তাকে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়। সরকারী শৃংখলা ভঙ্গ এবং অসদাচরণের দায়ে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে খাগড়াছড়িতে নতুন পদায়নকৃত কর্মকর্তা মো: কামাল হোসেন সরকারি প্রজ্ঞাপন হাতে নিয়ে জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব নিতে এসেই লাঞ্চিত হলেন একদল চিহিৃত যুবকদের হাতে। সেখানে দায়িত্ব গ্রহনের পর কর্মচারীদের সাথে কুশল বিনিময়কালে জেলা পরিষদ সদস্য পার্থ ত্রিপুরা জুয়েলের নেতৃত্বে একদল যুবক তাকে হেনস্থা করে জোরপূর্বক তুলে নেয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১১ জুলাই মো: কামাল হোসেনকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে খাগড়াছড়িতে পদায়ন করে মন্ত্রনালয়। একই সাথে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেনকে নতুন পদায়ন করা কর্মকর্তার কাছে ২৮ আগষ্টের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের আদেশ জারি করা হয়েছিল। সোহরাব হোসেনকে শুধু বান্দরবান বিভাগের দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়। অফিস নির্দেশে কামাল হোসেন ১৬ জুলাই খাগড়াছড়িতে যোগদান করলেও ২৫ জুলাই অপর এক চিঠিতে পার্বত্য জেলা পরিষদ তাকে গ্রহন না করার কথা জানিয়ে মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তরকে চিঠি পাঠায়। এদিকে পার্বত্য জেলা পরিষদ তাকে ছাড়তে রাজি হচ্ছেনা; এমন অজুহাত দেখিয়ে সোহরাব হোসেন দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় মন্ত্রনালয় ক্ষুব্দ হয়।

সর্বশেষ গত ৬ আগষ্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সোহরাব হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, সোহরাব হোসেন সরকারী কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের দায়ে বিভাগীয় মামলার আনীত অভিযোগসমূহ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে চাকুরী হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। এসময়ে তিনি শুধুমাত্র খরপোষ ভাতা পাবেন।

একই তারিখে মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব মো: খাইরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আরেক চিঠিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়ন কাজের গতিশীলতা আনয়নের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দুই জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব প্রদান না করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তাই সোহরাব হোসেনকে বান্দরবান এবং মো: কামাল হোসেনকে খাগড়াছড়িতে দায়িত্ব পালনে পদায়ন আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদকে নির্দেশনা দিতে পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সচিবকে অনুরোধ করা হয়। এছাড়া একই দিনের আরেক চিঠিতে পূর্বের পদায়ন আদেশ বহাল থাকবে বলেও দুই জেলা পরিষদকে অবহিত করা হয়।

উল্লেখ্য যে, গত ১৬ জুলাই খাগড়াছড়িতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেছিলেন মো: কামাল হোসেন। তবে ২৫ জুলাই পার্বত্য জেলা পরিষদ তার যোগদানপত্র গ্রহন না করে সোহরাব হোসেন এর পক্ষে পাল্টা পত্র লিখে পাঠায় অধিদপ্তরকে।

নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীকে হেনস্থা
মন্ত্রনালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ এর প্রজ্ঞাপন নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের খাগড়াছড়ি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনে করতে এসে লাঞ্চিত হয়েছেন পদায়ন হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামাল হোসেন। বুধবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নতুন পদায়নকৃত কর্মস্থলে গিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আপনা আপনি দায়িত্বভার গ্রহন করেন। পরে ওই কার্যালয়ের কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময়কালে (দ্বিতীয় তলা) আকস্মিকভাবে একদল যুবক অফিসে ডুকে পড়েন। উচ্ছৃংখল যুবকরা তাকে জোরপূর্বক ভবনের নিচে নামিয়ে আনেন। এসময় অকথ্যভাষায় গালগালাজ করা হয়। এ বিষয়ে মো: কামাল হোসেন কালেরকন্ঠকে জানান, ‘জনৈক পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল এর নেতৃত্বে একদল লোক এসে আমাকে হেনস্থা করে অফিস ছেড়ে চলে যেতে হুককি দেন। নিরাপত্তা সংস্থার বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ও লোকজন এগিয়ে এলে তারা চলে যান।’ কামাল হোসেন দাবী করেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অফিসের সিসি ক্যামেরা বন্ধ রেখে তাকে হেনস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ফোনে ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও জানান।

পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল জানান, ‘দলবল নিয়ে জনস্বাস্থ্য অফিসে গিয়ে নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীকে হেনস্থা করার অভিযোগ সঠিক নয়। মূলত: পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে ন্যস্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আহবায়ক হিসেবে সেখানে গিয়েছি। পার্বত্য চুক্তির শর্ত অনুয়ায়ী জেলা পরিষদের অনুমতি ব্যতিরেকে কেউ দায়িত্ব গ্রহন করতে পারেন না; এ বিষয়টি তাকে (কামাল হোসেন) বুঝিয়ে বলেছি মাত্র।’

খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রশিদ বলেন, ‘১০/১৫টি মটর সাইকেলে কিছু যুবক এসে নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল হোসেনকে হুমকি ধমকি দেয়। এবং ১০ মিনিটের মধ্যে অফিস ছেড়ে চলে যেতে বলে। তবে নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীর নিরাপত্তার কোন সমস্যা নেই জানিয়ে সদর থানার এই কর্মকর্তা জানান, মামলা করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, দায়িত্ব ছাড়তে নারাজ নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সোহরাব হোসেন বিগত ২৭ বছর ধরে খাগড়াছড়িতেই কর্মরত রয়েছেন। তিনি প্রাক্কলনিক থেকে এখন নির্বাহী প্রকৌশলী হয়েছেন একই কর্মস্থলে থেকে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মাছের ড্রামে দখল ফুটপাত!

রাঙামাটি শহরের ব্যস্ততম সড়ক বনরূপা থেকে ফিসারি বাঁধ সড়কটি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এ পথে যাতায়াত …

Leave a Reply