ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বনরূপা বাজার খোলা রাখা-না রাখা নিয়ে টানাপোড়েন

রাঙামাটি শহরের সবচে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বনরূপা বাজার ও ওই এলাকায় শুক্রবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন সাধারন ব্যবসায়ি,ক্রেতা এবং স্থানীয় মানুষ। ব্যবসায়ীদের মধ্যেও এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকরের জন্য শ্রম অধিকার আইনে আবেদন করেন দোকান কর্মচারিরা। এরপরেই শহরের ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে নোটিশ প্রেরণ করে অধিদপ্তর। চলে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রচারণা। ব্যবসায়ী নেতারাও একের পর এক মিটিং করতে থাকেন মালিক-কর্মচারিদের সাথে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে দীর্ঘ বৈঠকের পর শুক্রবার সকাল থেকেই বন্ধ রাখা হয় দোকানপাট। এতে করে সাধারন ক্রেতারাও বিপাকে পড়েন। তবে বন্ধের পক্ষে-বিপক্ষে নাটকীয় নানা গল্পও শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন কিছু ব্যবসায়ী নেতা কর্মচারিদের উস্কানি দিয়ে এসব করাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন এটি শ্রমিকদের অধিকার। কোনো কোনো ব্যবসায়ী মালিকের পক্ষে আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী কর্মচারিদের অধিকারের পক্ষে। কেউ কেউ আবার উভয়পক্ষের উস্কানিতে ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছেন। কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ পর্দার আড়ালে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন,এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে সাধারন ব্যবসায়ীরা চায়-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান,যাতে করে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। আবার কর্মচারিরাও তাদের ন্যায্য অধিকার পায়। এনিয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই সারাদিন বনরূপায় ব্যবসায়ি ও দোকান কর্মচারিদের মধ্যে দফায় দফায় কথা কাটাকাটি ও বিতন্ডা হয়।
বৃহত্তর বনরূপা দোকান কর্মচারী কল্যান সমিতির সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির রাসেল জানান, সমিতি গঠন করার আগে কর্মচারিদের মাসে তিনদিন ছুটি দিতো কিন্তু সমিতি গঠন করার পর সেটা বেড়ে ৪দিন করা হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী সাপ্তাহিক একদিন ছুটি থাকার কথা। আর এই ছুটির মধ্যেও খোরাকি পাওয়া কর্মচারিদের অধিকার। জুয়েলারী ও নির্মাণ সামগ্রি দোকানের কর্মচারিরা সাপ্তাহিক ছুটিও ভোগ করে এবং খোরাকিও পায়। কিন্তু এখানকার ব্যবসায়ীরা সেটা থেকেও আমাদের বঞ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কর্মচারিদের ন্যায্য অধিকারের জন্যই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। আমরা আন্দোলন হুমকি-ধামকি দিয়ে নয় এবং লাঠি দিয়ে নয়, কাগজে কলমে অধিকারের কথা বলব।
বিএম শপিং কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য এম কে আরিফুল ইসলাম জানান, যখন কর্মচারীরা সাপ্তাহিক বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছে। তখন সমিতির প্রবীন সদস্য বিভাষ সাহা, সাধারন সম্পাদক এম এ জাহান লিটনসহ সিনিয়র কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে পরামর্শ করি। তারা সাপ্তাহিক ছুটি আপাতত স্থগিত ও বিষয়টি বিবেচনার জন্য বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির কাছে লিখিত আবেদন করতে বলেন। আবেদনে সাধারন ব্যবসায়ীদের পক্ষে ৭১জন ব্যবসায়ী স্বাক্ষর করেন। যারা পরামর্শ দিয়েছেন তারা স্বাক্ষর করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সদস্য আরিফ জানান, পরামর্শদাতাদের মধ্যে প্রবীন সদস্য বিভাষ সাহা স্বাক্ষর করেছেন তবে সাধারন সম্পাদক এম এ জাহান লিটন সাক্ষর করেননি।
এই ব্যাপারে বনরূপা বিএম শপিং কমপ্লেক্স মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক এম এ জাহান লিটন বলেন, কর্মচারিরা শ্রম আইনকে ব্যবহার করে যা করছে তা ঠিক নয়। কর্মচারিরা যা করছে তা খুবই বাড়াবাড়ি করছে। এটা অনাকাঙ্খিত এবং এটা কোনোমতেই ভাল হচ্ছেনা। মালিকদের চাপে রেখে দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য করছে। দোকানপাট বন্ধ রাখলে ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা এসে বলবেন, কিন্তু কর্মচারিরা যেভাবে মালিকদের বাধ্য করছেন তা ভাল হচ্ছেনা। কর্মচারিদের মাসিক তিনদিন ছুটি দিয়ে থাকি। কিন্তু দেখা যায় প্রায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিরা মাসে ৬/৭দিন এমনকি দশদিনও ছুটি ভোগ করে।
এদিকে বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি আবু সৈয়দ বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা কর্মচারিদের সাপ্তাহিক ছুটি দেয়ার বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক। কিন্তু পার্বত্যাঞ্চলের লোকজন সমতলের মত অতটা সচ্ছল নয়। এখানকার বাজারগুলোতে দুর-দুরান্ত থেকে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর গরীব কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলাদি নিয়ে আসেন। তারা দিনে এনে দিনে খায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলে এসব কৃষকদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাছাড়া এটি পর্যটন এলাকা। বন্ধের দিন এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি থাকে। সবদিক বিবেচনা করে সবপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সুন্দর একটি সমাধান চেয়েছিলাম যাতে ব্যবসায়ীরাও ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হন আবার কর্মচারিরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন। এজন্য দফায় দফায় বৈঠকও করেছি। তিনি জানান, কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর গত ২/১/১৮খ্রি: ও ৪/২/১৮খ্রি: তারিখে সমিতির সভাপতি/সম্পাদক বরাবরে দুটি নোটিশ প্রদান করেন। এবং নোটিশে উল্লেখ করেন তিনদিনের মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাধ্যতামুলক না করলে সমিতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ শ্রম অধিকার আইন-২০০৬ এবং শ্রম বিধিমালা-২০১৫ অনুসারে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, কিছু ব্যবসায়ী কিছুক্ষণ মালিক পক্ষে আবার কিছুক্ষন কর্মচারিদের উস্কানি দিচ্ছে। এতে করে সমাধান হচ্ছে না। সব মালিক ও কর্মচারিদের নিয়ে সামনাসামনি বৈঠক করলে বিষয়টি স্পষ্ট হতো।
শ্রম ও কর্মসংস্থান অধিদপ্তরের কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারি মহাপরিদর্শক (সাধারন) তপন বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী দেশের সব মার্কেট সপ্তাহে একদিন বন্ধ রাখতে হবে। সেই হিসেবে গত অক্টোবরে ২৬তারিখ রাঙামাটিতে মিটিং করি এবং সপ্তাহের কোনদিন কোন মার্কেট বন্ধ রাখবে সেটি জানানোর জন্য একমাসের সময় বেধে দিই; যাতে ক্রেতাদের ভোগান্তি পোহাতে না হয়। বনরূপায় মার্চের ২তারিখ থেকে কার্যকর করবে বলে সমিতির সাধারন সম্পাদক তাপস ফোনে জানিয়েছিলেন। শ্রম আইন অনুযায়ী সপ্তাহে দেড়দিন বন্ধ রাখার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ সাপেক্ষে বলেছি যেনো তা একদিন রাখে। সারাদেশে কোনদিন কোন মার্কেট বন্ধ রাখা হবে তা নির্ধারন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান অধিদপ্তর নোট করবেন এবং এটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে গেজেট আকারে প্রকাশ হবে।
রাঙামাটি পর্যটন এলাকা হিসেবে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পর্যটন এলাকা হিসেবে বিশেষ বিবেচনার আলাদা কোনো বিধান নেই। এটি সিলেট ও কক্সবাজারেও ইতোমধ্যে চালু হয়েছে।
কোনো মালিক কর্মচারিকে ছুটি দিয়ে মালিক নিজে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ধরনের কোনো বিধান নেই।
জানা গেছে, তবলছড়ি বাজারে ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে সাপ্তাহিক বন্ধ রাখার ব্যাপারে জরিপ চালানো হচ্ছে। এদিকে রিজার্ভবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো: আনেয়ার মিয়া ভানু জানান, রিজার্ভ বাজারের কর্মচারীরা সাপ্তাহিক দোকানপাট বন্ধ রাখার ব্যাপারে কিছু বলেনি। কর্মচারীরা চাইলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

ি কমেন্ট

  1. এইটা ২০০৬ শ্রম আইন এর একটা বিধান দয়া করে পড়বেন

    ১। (১) এই আইন বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ নামে অভিহিত হইবে।

    (২) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

    (৩) এই আইনের অন্যত্র ভিন্নরূপ কিছু নির্ধারিত না থাকিলে, এই আইন সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে।

    (৪) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানসমূহ বা শ্রমিকগণের উপর প্রযোজ্য হইবে না, যথাঃ-

    (ক) সরকার বা সরকারের অধীনস্থ কোন অফিস;

    (খ) সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস;

    (গ) সমরাস্ত্র কারখানা;

    (ঘ) অসুস্থ, অক্ষম, বৃদ্ধ, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, এতিম, পরিত্যক্তা মহিলা বা শিশু অথবা বিধবাদের চিকিৎসা, যত্ন বা সেবার জন্য পরিচালিত কিন্তু মুনাফা বা লাভের লক্ষ্যে পরিচালিত নহে, এইরূপ কোন প্রতিষ্ঠান;

    (ঙ) প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে ইহার প্রয়োজনে স্থাপিত এমন দোকানপাট বা স্টল যাহাতে শুধু খুচরা বেচাকেনা চলে;

    (চ) প্রকাশ্য মেলায় বা বাজারে ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে স্থাপিত দোকানপাট বা স্টল;

    (ছ) ১[ মুনাফা বা লাভের জন্য পরিচালিত নহে এমন] শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান;

    (জ) মুনাফা বা লাভের জন্য পরিচালিত নহে এমন ছাত্রাবাস বা মেস ২[ ,হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার];

    (ঝ) দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্রে, সরকারের মালিকানাধীন এবং সরকার কর্তৃক সরাসরিভাবে পরিচালিত এমন কোন দোকান বা শিল্প বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান যাহাতে শ্রমিকগণ সরকারী কর্মচারীগণের উপর প্রযোজ্য আচরণবিধি দ্বারা পরিচালিত হন;

    (ঞ) এমন কোন শ্রমিক যাহার নিয়োগ এবং চাকুরির শর্তাবলী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬২, ৭৯, ১১৩ বা ১৩৩ এর অধীন প্রণীত আইন বা বিধি দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায় প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কোন শ্রমিক এই নিষেধের অন্তভূর্ক্ত হইবেন না, যথাঃ-

    (১) রেল বিভাগ;

    (২) ডাক, তার ও টেলিফোন বিভাগ;

    (৩) সড়ক ও জনপথ বিভাগ;

    (৪) গণপূর্ত বিভাগ;

    (৫) গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ;

    (৬) বাংলাদেশ সরকারী মুদ্রণালয়।

    (ট) দফা (খ), (গ), (ঘ), (ঙ), (চ), (ছ), ও (জ)- তে উল্লিখিত কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কোন শ্রমিক, তবে দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত, শিক্ষক ব্যতীত, অন্য কোন শ্রমিক এই নিষেধের অন্তভুর্ক্ত হইবেন না;

    (ঠ) দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে, কোন নাবিক;

    (ড) ষোড়শ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে, সমুদ্রগামী জাহাজ;

    (ঢ) এমন কোন কৃষি খামার যেখানে সাধারণতঃ ৩[ পাঁচ] জনের কম শ্রমিক কাজ করেন;

    (ণ) গৃহ পরিচারক; এবং

    (ত) এমন কোন প্রতিষ্ঠান যাহা উহার মালিক কর্তৃক পরিবারের সদস্যগণের সাহায্যে পরিচালিত হয় এবং যাহাতে মজুরীর বিনিময়ে কোন শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন না।

  2. আমরা ও চাই কর্মচারি রা সপ্তাহে একদিন ছুটি কাটুক কিন্তু মালিকের ক্ষতি করে নয়, আমরা চাই প্রতি শুক্রবার কর্মচারি রা ও ছুটি কাটুক আর দোকানের মালিকরা ও তাদের দোকান করুক, কারন এইটা কোনো ঢাকা কিংবা শহর নয়, এইটা একটা পর্যটক এলাকা এই খানে মানুষ ঘুরতে আসে কিন্তু বন্ধ এর দিনেই

  3. মোবাইলে ভিডিও দেখে নেট থেকে টাকা ইনকাম করতে চাইলে যোগাযোগ করুন বি:দ্র কোন টাকা ইনভেস্ট করতে হবেনা শুধু কাজ শিখতে একটু কয়েকদিন ধৈর্য্য ধরতে হবে।

  4. দোকান বন্ধ করার অধিকার কারো নাই, তবে ঐদিন কমচারি রা ছুটিতে থাকুক, কিন্তু সব দোকান তো আর কমচারী করে না, দোকান বন্ধ রাখলে কি ঐ দিনে আয়ের ভাতা কি বাজার কমিটি বা সরকার দিবে?

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
%d bloggers like this: