নীড় পাতা / ফিচার / অরণ্যসুন্দরী / বছর পেরিয়ে কাপ্তাই কায়াক ক্লাব,স্বপ্ন:সম্ভাবনার….

বছর পেরিয়ে কাপ্তাই কায়াক ক্লাব,স্বপ্ন:সম্ভাবনার….

ভরদুপুরের রোদেও আদুরে আমেজ। হীম হাওয়ায় কর্নফুলীর সবুজাভ শীতল জল।পাহাড়ঘেরা জলের বুকে পিনপতন নীরবতায় ছুটছে কায়াক।ভেসে আসে কেবল জলের নাচন। জলজুড়ে একই সাইযের রঙ বেরংয়ের ছোট ছোট পানকৌড়ি যেন। কায়াকিং,কদিন আগেও খুব কম জানাশোনা এই গন্ডীটা অল্প কদিনেই বেশ পরিচতি হয়ে উঠেছে কাপ্তাই কায়াক ক্লাবের সুবাদে। রানা,আবছার,পাভেল,বাবর।একজন পেশায় ডাক্তার দুজন ব্যবসায়ী একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার।বাড়ি চারজনের চার জায়গায়।মিল এক জায়গাতেই ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন ভীষন রকম।আর চারজনেরই নেশা সাইক্লিং।পরিচয়ের সূত্রও ঠিক সেখানে। চারজনই এ্যাডভেঞ্জার ক্লাব অফ চিটাগং’য়ের মেম্বার।

সেই থেকে সখ্যতা, হৃদ্যতা বন্ধুত্ব।বন্ধুরা মিলে কিছু করার প্ল্যান থেকেই মাথায় আসা কায়াকিং।মেরিন ইঞ্জিনিয়ার বন্ধু আল আমিন পাভেলের করা নকশায় তৈরি কায়াক প্রথমে শুধুমাত্র বিক্রিটাই মাথায় নিয়ে মাঠে নেমেই বুঝতে পারলো নিজ দেশেই কায়াক কায়াকিং পরিচিত হয়নি এখনো ততটাও!দেশের মাটি চষে বেড়ানো মানুষগুলোর কাছে ব্যাপারটা মন খারাপের হয়ে দাঁড়ালো।সেই থেকেই ভাবনা বদলে নিজেরাই দায়িত্ব নিয়ে নিলো দেশে এবং দেশের তরুন প্রজন্মের মাঝে কায়াকিংকে পরিচিত করে তোলার। যেই ভাবা সেই কাজ,এবার জায়গা নির্ধারনের পালা প্রথমে কক্সবাজার কেই নির্ধারণ করা হলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারনে জায়গা বদলে নির্ধারন করা হলো শহর রাঙামাটির জীব বৈচিত্র‍্য এবং গাছ গাছড়ার অভয়ারন্য কর্ণফুলী আর কাপ্তাই লেকের মোহনা উপজেলা কাপ্তাই। বন্ধুদের মধ্যে আবছার উদ্দীনের বাড়ি কাপ্তাইতে হওয়ায় কাজটা হয়ে গেলো আরো সহজ।তার সার্বিক সহযোগীতায় কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্যায় কর্ণফুলীর তীর জুড়ে ছোটখাট একটা ঘাট।ঘাটের গোড়ায় বাধা লাল সবুজের কেতন।৬টি কায়াক নিয়ে শুরু করা এই যাত্রায় এখন আছে ১৩টি কায়াক।সামনে আসবে আরো বিভিন্না নকশার কায়াক।উপরে ছোট্ট চারকোনা টেবিলে বসা থাকেন আবুল কালাম।আপনাকে নাম এন্ট্রি করার সাথে সাথে আরেকটি সাইন করতে হবে দায়ভার মুক্তির খাতায়। আবুল কালাম বন্ধুত্বসুলভ ভাবে আপনায় শিখিয়ে দিবে কিভাবে চালাবেন কায়াক।স্রোতের বিপরীতে স্রোতের সাথে কিভাবে খেলবেন পানির সাথে।

পুরো দিক নির্দেশনা দিয়ে তবেই আপনাকে নামতে দিবে পানিতে।এর আগে আপনি সাঁতারে যতই দক্ষ দাবি করেন না কেন আপনাকে অবস্থা বুঝে পরিয়ে দিবে লাইফ জ্যাকেট।তার সুন্দর সাবলীল দিক নির্দেশনাই আপনার জলে কায়াকিং ভয় কাটিয়ে দিবে মূহুর্তেই। ঘন্টা হিসেবে পেয়ে যাবেন কায়াক।ঘন্টায় ২৫০টাকা।আধ ঘন্টা ১৫০টাকা।এক ঘন্টায় পাওয়া যাবে পাঁচ মিনিট বাড়তি কায়াকিং। দেশের প্রথম এই কায়াকিং ক্লাবের রয়েছে নিজেস্ব ফেইসবুক গ্রুপ পেইজ।বিভিন্ন দিবস এবং বিশেষ উপলক্ষ্যে আয়োজন করে থাকেন নানা ইভেন্টেরও।সামনে আসছে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন কায়াকিং।

কিছুদিন আগেই মাত্র শেষ করলো সবচেয়ে বড় ইভেন্ট কাপ্তাই-বিলাইছড়ি কায়াকিং।আছে মেম্বারশীপের ব্যবস্থাও।৩০০০টাকায় সদস্য হওয়া প্লাটিনাম মেম্বাররা পাবেন ১ বছর ফ্রী কায়াকিং এবং সাথে আগত মেহমানদের জন্য ৯টি কায়াকে ৩০% ডিসকাউন্ট।আর ১০০০ টাকায় সদস্যপ্রাপ্ত গোল্ড মেম্বাররা পাবেন প্রতিবার কায়াকিংয়ে ১০%ডিসকাউন্ট।ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলে দেয়া কায়াকিং ক্লাবের সূত্রে কাপ্তাইতেও বেড়েছে পর্যটক সমাগম।বিশেষ করে তরুন প্রজন্মের।চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় আর সময় কম লাগায় চট করেই ঘুরে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরাও।রুম্মান আফিফারা কজন বন্ধু মিলে এসছে কায়াকিং করতে।বেশ উৎফুল্ল চারজনই।স্বছ জলের হাওয়ায় মুগ্ধতার রেশ চোখে মুখে। মূল সমস্যা কায়াকিং করতে আসা পর্যটকদের জন্য রাতে থাকার নেই স্থানীয় তেমন কোন উন্নত ব্যবস্থা।কথা হচ্ছিলো কাপ্তাই কায়াক ক্লাবের অন্যতম একজন পেশায় ব্যবসায়ী ইউসুফ রানার সাথে।জানাচ্ছিলেন শুরুর গল্পটা।স্বপ্ন আর ভালোবাসার জায়গা থেকেই শুরু করার গল্পটা সহজ ছিলোনা অতটা।এখনো সহজ নয় তত।বাধার মুখে পড়তে হয় প্রায়শই।

লাভের চিন্তা করেন না শুধু ভাবেন দেশের পর্যটন শিল্প নিয়ে।ভাবেন দেশেই এত এত সম্ভাবনা থাকতে কেন ছুটিতে ছুটতে হবে বিদেশে!সেই ভাবনা থেকেই দেশের মাটিতেই উন্মুক্ত করতে চান পর্যটনশিল্পের নানা স্তর।ভাবনায় আছে ফ্লোটিং রেস্টুরেন্ট,রিভার ক্রুজও। ফ্রেব্রুয়ারীর ২৪ তারিখ পালন করেছে নিজেদের প্রথম বর্ষপূর্তি নানা আয়োজনে।২১ফেব্রুয়ারীতেও ছিলো ২১টাকা ছাড়ের বিশেষ আয়োজন। দিবস ভেদে আয়োজনের ভিন্নতায়ও সৃজনশীলতা স্পষ্ট।চার তরুণের এই ভাবনা ভালোবাসা স্বপ্ন এভাবেই এক এক করে হাজার তরুণে ছড়িয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে আমার দেশকে,আমাদের সম্ভাবনাকে……

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধু ফুটবলে রাঙামাটির চ্যাম্পিয়ন লংগদু

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 × five =