বান্দরবানব্রেকিংলিড

বছর না ঘুরতেই ভারী যানে সড়কে আবারো ধস

বাইশারী-নারিচবুনিয়া সড়ক

পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী-নারিচবুনিয়ার গ্রামীণ সড়কে পাথর বোঝাই ৩০ টনের ভারী যানবাহন চলাচল করায় প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ধসে এবং ফেটে গিয়ে এক বছরের মাথায় শেষ হয়ে গেল কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বাইশারী-নারিচ বুনিয়ার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। গ্রামীণ সড়কের ওপর দিয়ে এত ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন ধ্বংস হয়ে পড়েছে।

গত বছর খানেক আগে কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ কাজ শেষ করা হয় এলজিইডি নাইক্ষ্যংছড়ির অধীনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একই সড়কের আবারও বাকী কাজ শেষ করতে ভারী যানবাহন দিয়ে মালামাল বহন করায় সড়কটি ধসে যায়। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসায় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা ও জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবগত করেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক বাইশারী-নারিচবুনিয়া ভায়া বাকখালী সড়কটি। গত এক বছর আগে সড়কটি কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন করা হয়। কিন্তু সড়কের বাকি অংশ কার্পেটিং করতে ভারী যানবাহন নিয়ে পাথর ও অন্যান্য মালামাল বহন করায় ৩ কিলোমিটার কার্পেটিং সড়ক বিভিন্ন জায়গায় ধস ও ফাটল দেখা দেয়। জনতার রোষানলে ৩০ টনের ১টি ট্রাক বটতলী বাজােের আনলোড করতে বাধ্য হয়। জানা গেছে, ঠিকাদার ভূট্টো ও মনসুর এই ভারী যানবাহন নিয়ে মালামাল এনে পুরো সড়কটি ধ্বংস করে ফেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল জব্বার, মোঃ হাবিবসহ অনেকেই জানান, এলাকাবাসী নিষেধ করা সত্ত্বেও কর্ণপাত করছে না। তবে অন্যান্য ঠিকাদারেরা ভারী যানবাহনের মালামাল বাজারের পাশে খালাস করে হালকা যানবাহনে করে গন্ত্যব্যে নিয়ে যায়।

ঠিকাদার জসিম উদ্দিন বলেন,সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল করে সড়ক ধ্বসে যাওয়া এবং ফেটে যাওয়ার বিষয়টি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা বরাবরে অবগত করেছেন। কারণ এর দায়ভার আমরা নিতে পারব না।

তবে ঠিকাদার ভুট্টো ও মনসুরের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে বলেন, সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে যানবাহন চলাচলের জন্য। ভারী যানবাহনের বিষয়ে জানতে চাইলে, ভারী যানবাহন নিয়ে মালামাল পরিবহন করেননি বলে অস্বীকার করেন। হালকা ১০ টনের ট্রাক নিয়ে মালামাল পরিবহন করেছেন বলে জানান।

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আলম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ভারী যানবাহন চলাচল করে ধ্বংস করে দেয়ায় তিনিও উদ্বিগ্ন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নিকট অবগত করবেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি এলজিইডি উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানিয়েছেন। উক্ত সড়কটি পুনরায় নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে বান্দরবান এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমানের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, সড়ক ধসে যাওয়া এবং ফেটে যাওয়ার বিষয়টি অবগত রয়েছেন। ঠিকাদার ঐ জায়গাগুলো পুনরায় ঠিক করে দিবেন। গ্রামীণ সড়কে ১০ টনের অধিক মালামাল নিয়ে যানবাহন চলাচল করা যাবে না বলেও তিনি জানান।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button