ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের উচ্ছ্বাস ছিল পাহাড়েও

ইয়াছিন রানা সোহেল

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও অধির আগ্রহে সকলে অপেক্ষায় ছিলেন কখন ফিরবেন তাদের প্রিয় নেতা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও অতৃপ্ত ছিল বাঙালির মন। বাঙালির স্বাধীনতা পূর্ণতা পাবে তাদের প্রিয় নেতাকে স্বাধীন বাংলার মাটিতে পেলে। অবশেষে ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন বঙ্গবন্ধু। সেখান থেকে প্রথমে যান লন্ডনে এবং সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তৃতা করেন। মিডিয়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মুক্ত এবং সুস্থ আছেন-এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আনন্দের বন্যা বয়ে যায় পুরো বাংলার ঘরে ঘরে। এবার অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন কখন ফিরবেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অবশেষে দিনক্ষণ ঠিক হলো-১০ জানুয়ারি প্রিয় স্বদেশে ফিরছেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের অলি-গলিতে খুশির বন্যা বইতে থাকে। সেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে সীমান্ত ঘেষা দূর্গম পার্বত্য চট্টগ্রামেও। সারাদেশের মত পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও (অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র জেলা) আয়োজন করা হয় আনন্দ মিছিলের। ছাত্রলীগ-আওয়ামীলীগ ছাড়াও আপামর জনগন আনন্দ-উচ্ছাসে নেমে আসে রাস্তায়। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর করে তুলে পাহাড়-সমতলের আকাশ-বাতাস। পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি এবং রামগড় মহকুমাতেও আয়োজন করা হয় আনন্দ মিছিলের।
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা নুরুল আবছার জানান, পাকিস্তান কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিলাভের খবরটি আমরা বেতারের মাধ্যমে জানতে পারি। এছাড়াও জাতীয় নেতৃবৃন্দের সাথেও আমাদের যোগাযোগ ছিল। মূলত চট্টগ্রামে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতারাই আমাদেরকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিতেন এবং সেই হিসেবে আমরা কাজ করতাম। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আনন্দের বন্যা বয়ে যেতে লাগল। এদিন শহরের তবলছড়ি বাজারে ছাত্রলীগ-আওয়ামীলীগ ছাড়াও আপামর জনতা আনন্দ মিছিলে শরীক হয়। মিছিলে মাহবুবুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, সৌমনাথ চাকমা, মোস্তফা কামাল, এনামুল হক, সুশান্ত দেওয়ান, আনোয়ার হোসেন মন্টুসহ অসংখ্য লোক অংশ নেন। মোট কথা সর্বস্তরের জনগন আনন্দ মিছিলে শরীক হন। শুধু রাঙামাটি শহরে নয়। আনন্দ মিছিল হয়েছিল বান্দরবান এবং রামগড় মহকুমার বিভিন্ন স্থানেও।
কাপ্তাইস্থ চন্দ্রঘোনা নিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্রলীগ নেতা এস এম মমিনুল হক হারুন বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ডিসেম্বরের শেষের দিকে আমি চন্দ্রঘোনায় ফিরে আসি। দেশ স্বাধীন হয়েছে ঠিক; কিন্তু সবার অপেক্ষা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে। বেতারের মাধ্যমে জানতে পারি বঙ্গবন্ধু ১০জানুয়ারি স্বাধীন দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খুশিতে আওয়ামীলীগ নেতা কাজী নুরুল ইসলাম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক বীর প্রতীকের নেতৃত্বে কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনায় আপামর জনসাধারন আনন্দ মিছিল বের করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খুশিতে আমরা তবলছড়িতে আনন্দ মিছিল বের করি। নুরুল আবছার, আনোয়ার হোসেন মন্টু, সৌমনাথ চাকমা, মোস্তফা কামালসহ আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা ছাড়াও সাধারন লোকজন মিছিলে অংশ গ্রহণ করেন।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button