নীড় পাতা / ব্রেকিং / বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের হৃদয়স্পর্শী ভাষণ
parbatyachattagram

শাহাদাৎ বার্ষিকীর আলোচনায়

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের হৃদয়স্পর্শী ভাষণ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিসব উপলক্ষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে রাঙামাটি পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবীর হৃদয়স্পর্শী ও শিক্ষনীয় বক্তব্য প্রদান করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

ইতোমধ্যেই নানান সামাজিক কাজ ও উদ্যোগের জন্য জেলাজুড়ে প্রশংসিত এই পুলিশ সুপার বলেন ‘১৫ আগস্টে অন্যান্য দিনের মত বই খাতা নিয়ে স্কুলে গিয়েছি। ১৫ আগস্টে বাংলাদেশের ইতিহাসে, বাঙালি জাতির ইতিহাসে কোন ঘটনা হয়েছিলো কিনা আমরা কিন্তু বুঝতে পারিনি, সে ছোট্ট শৈশবে। আজকে দেখলাম রাঙামাটির সমস্ত প্রতিষ্ঠানের সব স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরাকালো ব্যাচ পরে র‌্যালিতে অংশ গ্রহণ করল, তখনকার দিনের কথা আমার মনে পড়লো, আসলেই এরা সৌভাগ্যবান। আজকে দিনটা জাতীয় শোক দিবস, এবং আজকে কিছুটা সময় হলেও জাতির পিতাকে বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ করছি, তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি, তার স্মৃতিচারণ করছি।’

‘সানোয়ার সাহেব বলে গেলেন তারা সেই ভাষণ শুনেছেন, আমরাতো পারিনি কারণ তখন আমাদের জন্ম হয়নি। সেই ভাষণ আমরা শুনলাম ৯৬ সালের নির্বাচনে পর জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করার আহবান পেলেন তখন। সে দিন হঠাৎ আমার হলের টেলিভিশনে রাত ৮টা সময় ‘ভাইয়েরা আমার’ চিৎকার শুনলাম, শুনেই লুঙ্গি গেঞ্জি পরা অবস্থায় একটা সেন্ডেল আরেকটা হলে রেখেই দিলাম একটা দৌড়, বিষয়টা কি দেখার জন্য। চারদিক থেকে খালি দরজা খোলার শব্দ আর কমনরুমের দিকে ছাত্রদের ¯্রােত, এ যেন বাঁধ ভাঙ্গা স্রোতের মত। তখন মনে হচ্ছিল কোন দিন ইউনিভার্সিটিতে এমন আবেগ দেখি নাই, চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছিল। কারণ তখন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়া, স্বাধীনতার স্বপক্ষে কথা বলা অনেক কঠিন ছিল, অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হতো, যারা বঙ্গবন্ধুর নাম নিত, শেখ হাসিনার নাম নিতো তাদের অনেক নির্যাতন ভোগ করতে হত।’

‘এটা অনেক দিন চলেছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর হতে ৯৬ সালে সরকার গঠন করার আগ পর্যন্ত এভাবে চলেছে। অনেক ভাই জান হারিয়েছে, অনেক মা নির্যাতিত হয়ে অনেক ভাই তার সহায় সম্পত্তি সব কিছু হারিয়েছে এই ২১ বছরে। আমরা আত্মবিস্মৃত জাতি, সহজেই সব কিছু ভুলে যাই। ২১ বছর যখন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় ছিল না, তখন বোঝা গিয়েছে স্বাধীনতা কি জিনিস। ২০০৮ সাল থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামীলীগকে ম্যান্ডেট দিয়েছে দেশ পরিচালনার জন্য।

আমি আপনাদের আহবান করবো এই যে এই দিবসগুলো কেন পালন করা হচ্ছে?? আমরা কি বাধ্য হয়ে এখানে আসছি?? সরকার আমাদের বাধ্য করছে?? আমার মনে মাঝে একটা প্রশ্ন জাগে, র‌্যালিতে দেখলাম দুই হাজার লোক, অথচ এই হলের সিটগুলো পূরন করতে আমার বাহির থেকে লোক ডেকে ডেকে বসালাম, এগুলো কেন হচ্ছে, এই প্রশ্নটা আপনাদের কাছে।’

আজ সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর থেকে সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে ঠিক করেছি আজ শুধু স্মৃতিচারণ করবো। র‌্যালি শুরু হবার পরে মাইকে গান বাজছিল, আমি আবছার সাহেবকে ডেকে বললাম, আজ আমরা কি স্বাধীনতা দিবসের র‌্যালিতে এসেছি না বিজয় দিবসের র‌্যালিতে এসেছি নাকি ভাষা দিবসের র‌্যালিতে এসেছি?? তিনি বুঝতে পেরে সাথে সাথে গান বন্ধ করে ভাষণটা চালিয়ে দিলেন। টুঙ্গিপাড়াতে আমি নিজেও গিয়েছি, এই সূর্য্য সন্তান কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন তা দেখে এসেছি। আমরা মানুষকে দেখানোর জন্য শোকের ভান করি। কিন্তু না এভাবে নয়, শোকটাকে যদি আমরা মনে প্রাণে অনুভব করি, যে না এটা আমাদের জন্য সত্যিকারের একটা কষ্টের দিন, বাঙালি জাতি একটা বড় কিছু হারিয়েছে, বাংলাদেশ বড় একটা কিছু হারিয়েছে, এই উপলব্ধি যদি আমাদের আপনাদের মাঝে আসে তাহলেই এর স্বার্থকতা।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার আইন করে ১৫ আগস্ট পালন করবে এটা কিন্তু তাদের কাম্য নয়, আমাদের জাতির কাম্য নয়। আমি আপনাদের বলবো ১৫ আগস্টের ভাবগাম্ভির্যতা, এর উদ্দেশ্য, আমাদের সন্তানরা জানবে, তাদের যেন না বলতে হয়। আমার ছেলে আজ সকালে আমাকে বললো আজ তো ১৫ আগস্ট, আমি শোক র‌্যালিতে যাবো, আমি তাকে বললাম তাহলে কিন্তু চলে আসার বায়না ধরতে পাবরে না, তখন সে বললো ঠিক আছে তাহলে একটা কালো ব্যাচ দাও ওটা পরেই আমি বাসায় শোক দিবস পালন করবো।’

‘আমরা আমাদের সন্তানদের এমনভাবে শিক্ষা দিবো যাতে সে মন থেকেই জাতির জনকের সম্পর্কে জানবে। আমরা যদি আমাদের প্রত্যেকে নিজ পরিবারকে এমন শিক্ষা দেই তাহলে এমন ঘটা করে ১৫ আগস্ট পালন করার দরকার হবে না। দেখবেন সে নিজেই শোক পালন করছে, প্রশাসনকে, সরকারকে আর ঢাকঢোল বাজিয়ে এভাবে আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হবে না। এমনিতে মানুষ এদিনটাকে শ্রদ্ধার সাথে পালন করবে, মনে করবে পিতৃতুল্য একজনকে হারিয়েছিলাম।’

এসপি আরো বলেন, ‘আমরা পাশ করার জন্য পড়ি, জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়ি না, এখন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পাঠ্য বইয়ে অনেক কিছুই আছে। আমি শিক্ষকদের অনুরোধ করবো অন্তত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা চ্যাপটারগুলো পাশ করার জন্য পড়াবে না, বাচ্চাদের বোঝাবেন, তিনি কি ছিলেন, বাচ্চারা যাতে বঙ্গবন্ধু নিয়ে কিছু লিখতে গেলে অনরগল এক দেড় ঘন্টা লিখতে পারে। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আগে যখন তেমন কোন বই পাওয়া যেত না, হাতে গোনা দু’চারটা বই পাওয়া যেত। আজ শাহবাগে যান, নিউমার্কেটে যান, দেখবেন যে পাঁচশ একহাজার করে বই বের হচ্ছে, বাহবা নেয়ার জন্য কাট পেস্ট কপি করে করে এসব বই বের হচ্ছে। এগুলো দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়ন করা হবে না, তাকে বুকে ধারণ করতে হবে, তবেই তার যথার্থ মূলায়ন হবে। বই প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন হবে না, আপনার বুকের ভেতর যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থাকে তাহলে তার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে। এভাবে করতে পারলে এ ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চলতে থাকবে, পৃথিবী ধ্বংসের আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকবেন। ভুল ত্রুটি হলে মার্জনা করবেন, আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাঘাইছড়িতে ফের সেনা টহলে গুলি, ১ সন্ত্রাসী নিহত

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে আইনশৃংখলাবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে। নিহতের নাম সুমন চাকমা, সে …

Leave a Reply