ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

ফের মুখোমুখি মুছা ও আকবর

রাঙামাটি শহরে জেলা পরিষদের ৪০ ডাস্টবিন স্থাপন ও আবর্জনা পরিষ্কার ইস্যু

একসময় ‘ব্যাপক দহরম মহরম’ থাকা দুইনেতার সমকালীন ‘রাজনৈতিক দূরত্ব’ নিয়ে শহরজুড়ে গল্পের শেষ নেই। সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচনে ‘একজন’কে জেতানোর ‘মরিয়া সব চেষ্টা কিংবা অপচেষ্টা’ আর ‘সবাইকে ঘুম পাড়িয়ে’ জেলা ছাত্রলীগের ‘সভাপতি’ মনোনয়নে নিজেদের ‘গভীর নৈকট্য’ ধীরলয়ে বদলেছে সময়ের সাথে সাথে,কারণে অকারণে। এজন্য অবশ্য এখন পরষ্পর প্রকাশ্যেই দুষছেন পরষ্পরকে। তবে ‘ভেতরকার কাহিনী’ চাপাই পড়ে আছে অন্য কোথাও,অন্য কোনখানে ! রূঢ় বাস্তবতা হলো, রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি, জেলা পরিষদ সদস্য হাজী মুছা মাতব্বর আর জেলা যুবলীগের সভাপতি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী’র ‘দ্বৈরথ-বিরোধ কিংবা কথাযুদ্ধ’ এখন আর তাদের নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই,ছড়িয়েছে নিজেদের অনুসারিদের মধ্যেও, দলীয় বৃত্ত ছাড়িয়ে আলোচনা-সমালোচনা আর বিতর্ক বাড়িয়েছে শহরে,জেলায়,সর্বত্র। এমনকি বিভক্তি তৈরি করছে খোদ দলেই।

সর্বশেষ যে বিতর্কে পরষ্পরের দিকে আঙ্গুল তুলছেন এই দুই নেতা সেই ইস্যু ‘বেশ হাস্যকর’ই। হঠাৎ করেই বুধবার রাঙামাটি শহরের ৪০ টি স্থানে ৪০ আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন বসিয়েছেন মুছা মাতব্বর,রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষে। কিন্তু শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘রাঙামাটি পৌরসভা’ কিছুই ‘জানে না’। এনিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন দুজনই।

হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর বলছেন- আবর্জন অপসারণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব্ পৌরসভার, এটা সবাই জানে। কিন্তু শহরের চিত্র কি ? পুরো শহর আবর্জনার ভাগাঢ়। পৌরসভা কি করছে ? পৌর মেয়রের কাছে আমাদের দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তার ব্যর্থতার দায়ভার পুরো দলকে বহন করতে হচ্ছে। তার মেয়াদ প্রায় শেষ,কি করেছে সে পৌরসভার উন্নয়নে ? তাই বাধ্য হয়েই আমরা জেলা পরিষদ নিজের টাকায় ডাস্টবিন কিনে শহরে বসিয়েছি,যেনো পৌরবাসি আবর্জনার দুর্গন্ধ আর কষ্ট থেকে মুক্তি পায়। যেখানে তার খুশি হওয়ার কথা,সেখানে সে প্রকাশ্যে বলছে,আবর্জন পরিষ্কার করবে নাহ্ ! এতো সাহস সে কোথায় পায় ? নিজেরা ডাস্টবিন বসাবে না,ময়লা পরিষ্কার করবে না, আবার আমরা সহযোগিতা করলে সেটাকে ‘চ্যালেঞ্জ’ করবে ! আমি তার এই উদ্ধ্যতের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ মেয়রের আবর্জন অপসারণের ঘোষণা’কে জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে হাজী মুছা মাতব্বর বলেন-‘পৌরসভার মতো জেলা পরিষদও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। মেয়র যেমন দলীয় প্রতীকে মেয়র,তেমনি আমরাও দলীয় মনোনয়নেই জেলা পরিষদ সদস্য।’

আকবর হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘জেলা পরিষদ ডাস্টবিন বসিয়েছে ভালো কথা,আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আমার পৌর এলাকায় ডাস্টবিন বসাবে,আমাকে কিছুই জানাবে না, এটা কি করে হয় ? ডাস্টবিন বসালেই তো হবে না। এসব পরিষ্কার করবে কে ? যারা ডাস্টবিন বসিয়েছে,তারা কি পরিষ্কার করবেন ? যেহেতু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আমাদের,তাই অবশ্যই আমাদের জানিয়েই ডাস্টবিন বা বর্জ্য অপসারণের যেকোন উপকরণ বসাতে হবে। তারা তো আমাকে কিছুই জানায়নি। আমি জেনেছি সাংবাদিকদের কাছ থেকে। এভাবে তো হয়না। সবকিছুর একটা সিস্টেম আছে,নিয়মনীতি আছে। জোরজবরদস্তি করে তো আর উন্নয়ন করা যায় না। তারা যেটা করছে সেটা বেআইনী,সেটা তারা করতে পারেন না।’

তবে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে দুইনেতাই দুইজনের আচরণের পেছনে ‘রাজনীতি আছে’ বলেও মানছেন। দুজনই বলছেন ‘দুইজনের জনপ্রিয়তা বা উত্থানকে মানতে পারছেন না অন্যজন’।

মুছা মাতব্বর বলেন- ‘এই মেয়র শতভাগ ব্যর্থ। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং সে মনে করছে আমি আগামী মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হব,সেই ভয়েই উল্টাপাল্টা কথা বলছে ও কাজ করছে।’

অন্যদিকে আকবর হোসেন চৌধুরীও বলছেন-আমার উত্থানকে মানতে পারছেন না মুছা মাতব্বর। তাই সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র আমার বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক নোংরামি’ করছে,যা অনভিপ্রেত। আমিতো এখনো নিজে এসবের জবাব এখনো দেইনি।’

‘কি কারণে বিরোধ তৈরি হলো দুজনের’- এমন প্রশ্নের জবাবে মুছা মাতব্বর বলেন-‘ তার (মেয়রের) ব্যর্থতা,অযোগ্যতার বিরুদ্ধে কথা বলায় সে ক্ষুদ্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপরাজনীতি চর্চা করছে।’ আকবর বলছেন-‘ভাগভাটোয়ারার অংশীদার হতে না পারার দু:খ থাকতে পারে তার (মুছার),এছাড়া অন্যকোন কারণ আমি জানিনা।’

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সোচ্চার দেখা যাচ্ছে দুই নেতার অনুসারীদের। ‘দলীয় শৃংখলা’ না মেনেই দুই নেতার ‘জুনিয়র অনুসারি’রা আক্রমন শাণাচ্ছেন প্রতিপক্ষ ‘সিনিয়র রাজনীতিক’র দিকেই। বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারা।

রাঙামাটি পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী সোলায়মান চৌধুরী পুরো বিষয়টি ‘দু:খজনক’ মন্তব্য করে বলেন-‘ দুই নেতার মধ্যে যদি কোন বিষয়ে ভিন্নমত বা বিরোধ তৈরি হয়,তবে তারা দলীয় ফোরামে বসে আলোচনার মাধ্যমেই এর সমাধান করতে পারেন। অযথা গণমাধ্যমের কাছে কাদা ছোঁড়াছুড়ি করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা উচিত কাজ হচ্ছেনা। একই সাথে সিনিয়র নেতাদের পারস্পরিক ভিন্নমত হতেই পারে,কিন্তু জুনিয়ররা সেখানে অংশ নিয়ে যদি ‘নোংরামি’ করে তারচে দু:খজনক ঘটনা আর কি হতে পারে !’ তিনি দুই নেতাকেই ‘সহনশীল’ আচরণ করার অনুরোধ করেছেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 + 4 =

Back to top button