ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

ফের কি তবে সোলায়মান-মনুসর ?

তিনি ২০০২ সালে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছেন। বাবা তখনো বিএনপির সিনিয়র নেতা,পরিবারের অনেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে জড়িত,কিন্তু তিনি বরাবরই সরাসরি রাজনীতির বাইরেই ছিলেন। তবুও অজানা কোন টানে বা আশপাশের মানুষের প্রভাবে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। আওয়ামীলীগও শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপার প্রভাবশালী বনেদী পরিবারের এই জৈষ্ঠ সন্তানকে টেনে নিয়েছে। শুধু টেনেই নেয়নি,সেইসাথে দিয়েছে সম্মানও। ফলে যোগ দিয়েই তিনি পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ! কি রাজকপাল তার ! সেই যে সভাপতি হলেন গত ১৭ বছর ধরেই সেই দায়িত্বই পালন করছেন। কিছু প্রশ্ন আছে,কিছু বিতর্কও উঠে মাঝে মাঝে তাকে নিয়ে,কিন্তু বেলা শেষে রূঢ় কঠিন বাস্তবতা হলো,সম্মেলন এলে তার যোগ্য এবং চ্যালেঞ্জ ছোড়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বি মেলে না ! সর্বশেষ কাউন্সিলে একজন বেশ আতংক ছড়িয়ে দিয়েও শেষাবধি পরাজিত হয়েছিলেন তার কাছে। এবারও আজকের কাউন্সিলে সম্ভবত কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতই অতটা ধোপে টিপবে না ! কিংবা কে জানে, হয়তো মাঠে নামবে না কেউই চ্যালেঞ্জ করতে ! চাপে,তাপে কিংবা অজানা ভয়েই হয়তো… ফলে আজ বেলা শেষে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের যদি তিনি আরো এক মেয়াদের জন্য সভাপতি হয়েও যান,সেটা খুব বেশি বিস্মিত করবে না, পার্বত্য জেলা রাঙামাটির তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা নেতাকর্মীদের। বলছি হাজী সোলায়মান চৌধুরীর কথা,যিনি গত ১৭ বছর ধরেই রাঙামাটি পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ! বনরূপাকেন্দ্রীক রাজনীতিতে প্রভাববিস্তারে দীপংকর তালুকদারের ‘তুরুপের তাস’ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কাছে ‘বদ্দা’ নামেই পরিচিত তিনিই।

সোলায়মান চৌধুরীর হরিহর আত্মাই বলা হয় একই কমিটির সাধারন সম্পাদক মনসুর আলীকে। একসময় বিএনপির প্রবল ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রিজার্ভবাজারে যে কজন আওয়ামীলীগ বা সহযোগি সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীর খোঁজ মিলতো,তাদেরই একজন মনসুর। ছাত্রলীগ-যুবলীগ হয়ে আওয়ামীলীগে। সোলায়মান চৌধুরীর মতো তিনিও ১৭ বছর ধরেই সাধারন সম্পাদক ! তার কোন উত্থান নেই,পতন নেই, কিংবা উত্থান-পতনের ইচ্ছে বা সাহসও নেই। সোলায়মান চৌধুরীকে সভাপতি মেনে তাই দিনের পর দিন সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেই চলেছেন,কর্মীবান্ধব এবং দিলখোলা কৌশলী এই নেতা। তৃণমূলের কর্মীদের বিপদে আপদে পাশে থাকায় তার জনপ্রিয়তাও প্রশ্নাতীত। সেই সাথে রাজনৈতিক কৌশলেও দক্ষ হওয়ায় পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়া কিংবা জেলায় কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ নেয়া তার জন্য সময়ের ব্যাপারই মাত্র। অথচ আশ্চর্য এবং অজ্ঞাত কোন কারণে দিনের পর দিন পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক পদটাকেই আগলে বা আঁকড়ে রেখেছেন তিনি। কোন কোন কাউন্সিলে কেউ কেউ তার প্রতিদ্বন্দ্বি হয় বটে,তবে হালে পানি পায়না। এবারো সম্ভবত তাই হতে চলেছে।

আজ রাঙামাটি পৌর আওয়ামীলীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল। ইতিহাস বলছে,এই দুই হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে কেউ কেউ সাহস করে প্রার্থী হয়তো হতেও পারেন আজ,তবে খুব ঐতিহাসিক বা ব্যতিক্রমি কিছু না হলে, সেইসব প্রার্থীতায় কোন কাজ হবে না। তবে রাজনীতিতো বরাবরই সেই গল্প আর থিউরির ফর্মূলাতেই চলে,যেখানে সরাসরি বলে দেয়া হয়- ‘যুদ্ধ প্রেম খেলা আর রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই!’
এখন শুধু প্রতীক্ষা আজ শেষ বিকেলের,সেখানে বেলা শেষে ইতিহাস পরিবর্তন হয় কিনা ! নাকি ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তির মঞ্চায়ন আরেকবার দেখবে পাহাড়ী এই শহর ! কে জানে !

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button