ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

প্রেমের এমন পরিণতি !

রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী এলাকার বাসিন্দা আল আমিন ও রহিমা আক্তার একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০৮ সালে দুজনেই বিয়ে করে দীর্ঘদিন ধরে ভেদভেদীতে বসবাস করে আসছিলেন। সুখের সংসারে একদিন আগুন দেখা দিল। এরপর প্রায় সময়ই স্বামী-স্ত্রী’র ঝগড়া। স্বামী অভিযোগ, যাকে ভালোবেসে একদিন ঘরে তুলেছেন সেই রহিমা এখন পরকিয়ায় লিপ্ত। তবে যার জন্য স্বামীর সংসার ত্যাগ করলো রহিমা বেগম, সেই দেলোয়ারও এখন রহিমা বেগমকে অস্বীকার করছে।

ভেদভেদী নতুন পাড়ার বাসিন্দা ছিদ্দিকুর রহমান’র মেয়ে রহিমা আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে ২০০৮ সালে বিয়ে করেন একই এলাকার মো. আলী আকবর’র ছেলে মো আল আমিন। বিয়ের পরে তাদের ঘরে দুইটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পরেও স্ত্রী রহিমা আক্তারের সাথে একাধিক ছেলের সাথে পরকিয়া ও অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ করেছেন তার স্বামী আল আমিন।

আল আমিন বলেন, ‘আমি রহিমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু সে আমার সেই ভালোবাসার মূল্য দেয়নি। আমার অনুপস্থিতিতে সে একাধিক ছেলের সাথে একাধিক বার শারীরিক সম্পর্ক করে এবং পরকিয়ায় লিপ্ত হয়। আমি এসব জানার পরে তাকে অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করি। আমি সব শোনার পরেও তাকে ক্ষমা করেছিলাম। কিন্তু সে আমার ভালোবাসা ও ক্ষমার কোন মূল্য দেয়নি। বলার পরেও সে আমাদের এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন মিয়ার সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক করে এবং সে সময় তার গর্ভে একটি সন্তান আসে। রহিমার গর্ভে আসা দেলোয়ারের সে সন্তান তারা নষ্ট করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এসব কিছু হওয়ার পরে আমি তার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং আরেকটা বিয়ে করি। তখন সে নিজের থেকে আমাকে তালাক দেয়। কিন্তু সে নিজের থেকে তালাক দিয়ে আমাকে বিয়ের দেন মোহরের টাকার জন্য নানানভাবে চাপ দেয় এবং প্রভাবশালী মানুষের হুমকি দেয়। আমি একজন সিএনজি চালক। দিনে এনে দিনে খাওয়ার অবস্থা আমার, দীর্ঘ সংসার জীবনে আমি তার থেকে তো সুখ-শান্তি পেলাম না, এখনও পাচ্ছি না। সে আমাকে নানানভাবে হুমকি ও হয়রানি করছে। সে ছেলেদের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক করে পরে বিচারের নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।’

তাদের এ সমস্যা নিয়ে কথা হয় স্থানীয়দের সাথে। তারা জানান, ‘তারা স্বামী-স্ত্রী ভেদভেদীতে ভাড়া বাসায় থাকতো। তাদের মধ্যে নানান বিষয়ে ঝগড়া হতো। তাদের ঝগড়ার প্রায় সময় বিষয় ছিলো রহিমার অবৈধ সম্পর্ক। একাধিকবার তাকে নানান জায়গায়ও অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত অবস্থায় ধরা হয়। এটা নিয়ে বিভিন্ন সময় এলাকায় বিচারও বসে। কিন্তু তারপরও রহিমা সেখান থেকে সরে না আসায় আল আমিন তাকে ছেড়ে চলে যায়।’

এ বিষয়ে রহিমা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবনকারী। সে রোজ মাদক গ্রহণ করে বাসায় গিয়ে আমার সাথে ঝগড়া করতো ও আমাকে মারধর করতো। তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমি তাকে তালাক দেয়।’

রহিমা অবৈধ সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘হ্যাঁ আমার সাথে দেলোয়ার হোসেন মিয়ার অবৈধ সম্পর্ক হয়। সে সম্পর্ক শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত চলে যায়। আমরা বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার নানান জায়গায় শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হই। পরে আমার গর্ভে তার একটা বাচ্চা আসে, কিন্তু আমি বাচ্চাটা হাসপাতালে গিয়ে নষ্ট করে ফেলি। তখন দেলোয়ার আমাকে কোন সহযোগিতা না করে উল্টা আমার সাথে প্রতারণা করে। সে জানায়, তার ঘরে বৌ, বাচ্চা আছে। সে তাদের ছেড়ে আসতে পারবে না। পরে বিষয়টি সুরাহার জন্য আমি ২৩ ফেব্রুয়ারি থানায় একটি অভিযোগ করি দেলোয়ারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, যার জন্য আমি স্বামীর সংসার ছাড়লাম, সেই আমাকে ফেলে চলে যেতে চাইছে।

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর জাহিদুল ইসলাম রনি রহিমা আক্তারের অভিযোগ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যতদূর জানি বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button