ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

প্রেম,প্রলোভন,শারীরিক সর্ম্পক,অস্বীকার এবং দেড় লাখ টাকায় সমঝোতা !

রাঙামাটির লংগদুতে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ‘শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন’ করে পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতির ঘটনার পর মেয়েপক্ষকে ম্যানেজ করতে দেড় লক্ষ টাকায় দফারফার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও অভিযুক্ত ছেলেপক্ষ এবং সমঝোতায় রাজি হওয়া মেয়েপক্ষের কেউই এই সমঝোতার বিষয়টি স্বীকার করছেন নাহ্ !

গত শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে লংগদু থানায় বসে দেড় লক্ষ টাকায় এই রফাদফার ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ উঠেছে দুই পক্ষের সমঝোতার পর ত্রিশ হাজার টাকার বিনিময়ে অভিযুক্ত রাশেদকে ছেড়ে দেয় পুলিশ,তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছে লংগদু থানা পুলিশ।

এঘটনায় অভিযুক্ত যুবক মো. রাশেদ (১৯) লংগদু মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং উপজেলার বগাচত্তর ইউনিয়নের আব্দুল হানিফের সন্তান।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ‘অভিযুক্ত রাশেদের সাথে প্রেমের সর্ম্পক ছিল দশম শ্রেণী পড়–য়া এ কিশোরীর। গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাইনীমূখ ফরেষ্ট হাউজে নিয়ে কিশোরিটির সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে রাশেদ। কিন্তু এর ১০/১৫ দির পর থেকেই ছেলেটি মেয়েটির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। এরপরই মেয়েটি স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে বিচার দিলে সেনাবাহিনী অভিযুক্ত রাশেদকে আটক করে লংগদু থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে শনিবার।

কিশোরীর বাবা জানান, এই মুুহুর্ত্বে এই বিষয়ে আমরা কথা বলতে চাইনা। মেয়েটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্থানীয় ঝান্টু চৌধুরীর পরামর্শে থানা থেকে চলে এসেছি। ছেলে পক্ষের লোকজন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই মামলা করতে রাজি হইনি। তবে টাকা পয়সা নিয়ে কোন প্রকার সমঝোতা হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

সালিশী বৈঠকে উপস্থিত থাকা মাইনীমুখ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গত শনিবার সন্ধ্যায় আমরা থানায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বসি। সেখানে মেয়ের সাথে ছেলের সর্ম্পকের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত রাশেদ। পরে বিষয়টি সুরাহা করতে ঝান্টু চৌধুরী ছেলে পক্ষের কাছে দুই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরন দাবি করেন। তবে শেষ পর্যন্ত দরকষাকাষির মাধ্যমে দেড় লক্ষ টাকায় সমঝোতা হয়। বিষয়টি আমার ভালো না লাগায় আমি থানা থেকে বের হয়ে চলে আসি।

তবে ঝান্টু চৌধুরী বলেছেন, মেয়ের পরিবার আমার আত্মীয় হওয়ায় তাদের অনুরোধে এবং মেয়ের পক্ষ থেকে মামলা করতে রাজি না হওয়ার আমি থানা থেকে মেয়ের পরিবারকে নিয়ে চলে আসি। টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টাকা পয়সা কোন লেনদেন হয়নি। আমি এবিষয়ে কিছুই জানি না।’

অভিযুক্ত মো. রাশেদের মামা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার ভাগ্নের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার। টাকা পয়সা নিয়ে কোন সমঝোতা হওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেননি তিনিও।

লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-দন্ত) মহিউল ইসলাম বলেন, ‘মেয়ে পক্ষ মামলা না করায় দুই পক্ষের অভিভাবকের কাছে মেয়ে ও ছেলেকে মুচলেকার মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।’

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button