করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

প্রিয় কণ্যার চিকিৎসার ভেন্টিলেটর হাসপাতালে দিলেন এক পিতা

একমাত্র কণ্যাকে সম্ভবত নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন তিনি। মাত্র সাত বছর বয়সে চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে স্পাইনাল কর্ড ভেঙ্গে যাওয়ার পর দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত মেয়ের চিকিৎসায় খরচ করেছেন কয়েক কোটি টাকা। মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত টানা আঠারো বছর শয্যাশায়ি কণ্যার জন্য এক পিতার এমন দুর্লভ ও বিরল ভালোবাসা আর যুদ্ধের গল্প জানা পার্বত্য রাঙামাটিবাসিরও। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস। পিতার সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছিলো পিতৃভালোবাসায় আমৃত্য স্নিগ্ধ কণ্যা।  পিতা-কণ্যার এক জীবনযুদ্ধের গল্প জানা রাঙামাটিবাসিও এমন মৃত্যুতে বিমূঢ় ছিলো।  হতভাগা এই পিতা রাঙামাটি পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি হাজী সোলায়মান চৌধুরী আর কণ্যা তাসফিয়া তারান্নুম রিকি। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই পিতার ভালোবাসা ছেড়ে যে পাড়ি দিয়েছে পরপারে।

কণ্যার চিকিৎসার জন্য ১৮ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন দুটি ভেন্টিলেটর মেশিন পিতা সোলায়মান। কণ্যার মৃত্যুর পর বাসায়’ই পড়ে আছে মেশিন দুটো। সেই মেশিনদুটোর মধ্যে একটি বৃহস্পতিবার রাঙামাটি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন তিনি।

জানা গেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাঙামাটি জেলার সাথে ভিডিও কনফারেন্সের দিন সোলেয়মান চৌধুরী পুত্র মহিউদ্দিন লিমন জেলা প্রশাসক মহোদয়কে তাদের ঘরে থাইল্যান্ড থেকে কেনা প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা দামের দুইটি ভেন্টিলেটর পড়ে রয়েছে জানালে জেলা প্রশাসক সিভিল সার্জন বিপাশ খীসাকে ফোন করে বিষয়টা জানায়। সিভিল সার্জন  বৃহস্পতিবার দুপুরে দুইটি ভেন্টিলেটর দেখতে রাঙামাটি সরদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শওকত আকবরের নেতৃত্বে একটি টীমকে সোলায়মান চৌধুরীর বাসায় পাঠান। বর্তমানে করোনা  চিকিৎসাসহ শ্বাসকষ্টজনিত যে কোন রোগের প্রাথমিক চিকিৎসায় অতি প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটর দুইটির বর্তমান অবস্থা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন ও টীম ।

পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি সোলেয়মান চৌধুরী তাৎক্ষনিক প্রায় নয় লক্ষ টাকার সমমূল্যের একটি ভেন্টিলেটর ডাঃ শওকত আকবরের কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তী ভেন্টিলেটরটি যখন প্রয়োজন হবে তখনই নিয়ে যাবার জন্য ডাঃ শওকত আকবরকে অনুরোধ করেন তিনি।

পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ সোলায়মান চৌধুরী জানান, আমার প্রয়াত অতি আদরের কন্যা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলো। তার জন্য কেনা এ দুইটি ভেন্টিলেটর ব্যবহারহীন হয়ে বাসায় পড়ে ছিলো। এখন করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় অতি মূল্যবান এ ভেন্টিলেটর রাঙামাটি হাসপাতালের মাধ্যমে যদি অসুস্থ্য রোগীরা চিকিৎসা পেয়ে ভালো হন তাতে আমার আদরের কন্যার আত্মা শান্তি পাবে এবং এমন দুর্যোগপূর্ণ দিনে মানুষের সহযোগিতায় আমার ছোট্ট পরিসরের অবদানে মানুষ হিসেবে আমিও নিজেও পরিতৃপ্ত হব।’

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শওকত আকবর জানিয়েছেন,ভেন্টিলেটর ‍খুবই প্রয়োজনীয় মেশিন। এটা আমাদের কাজে আসবে এবং রোগীরাও উপকৃত হবে,তাৎক্ষনিক শ্বাসকষ্টের সমস্যাও সমাধান হবে। তবে মেশিনদুটো কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন করতে হবে,সেটা আমরা করব এবং এটার ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। আমাদের সিভিল সার্জন মহোদয় বিষয়টিকে খুবই আন্তরিক ও সিরিয়াসলি নিয়েছেন। আশা করি এটি একটি ইতিবাচক কাজই হবে।’

 

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button