ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ফেসবুকে

পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে সোমবার জেলা শহরের মা ও শিশু হাসপাতালে প্রসূতি মা জেনি আক্তারের সিজার চলাকালে মৃত্যু ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাঙামাটির ফেসবুক ব্যবহারকারিরা।

২০ নভেম্বর দুপুর ১.২৪ মিনিটে রাঙামাটি পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ফিরোজ আল মাহমুদ সোহেল নিজের ওয়ালে এক নারীর ছবিসহ একটি পোস্ট দেন-‘মৃত্যু হবেই,তবে এইভাবে মৃত্যু কল্পনা করা যায় না।।আজ হাসিখুশি রত এক ছোটবোন প্রসবজনিত সমস্যায় যেন হাসতে হাসতেই মারা গেল।।তৃতীয় বিশ্বে প্রসবজনিত সমস্যায় রাংগামাটির মতো জেলা শহরে এখনো মানুষ মারা যায়।।এটা মৃত্যু নাকি হত্যা হয়ত আত্মহত্যা।।বোনটির জীবনের শেষ ছবি।’
মুহুর্তেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন রাঙামাটির বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। বুধবার রাত ২ .৩৪ মিনিট পর্যন্ত এই স্ট্যাটাসে ২৪৩ জন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন,শেয়ার করেছেন ৩৩ জন, কমেন্ট পড়েছে দুই শতাধিক।
এখানে নিজামউদ্দিন চৌধুরী লিখেন-‘এটা খুন ছিল, বিচার দাবি করছি, ডা: লেনিন আর বেবী ত্রিপুরার’।
জাকির হোসেন লিখেছেন-‘ এই মৃত্যুতে, তাদেরকে প্রশাসনিক সহায়তা যারা করে তাদেরও বিচার দাবি করছি।’
সাইফউদ্দীন সাইফ লিখেন-‘ রাংগামাটির চিকিৎসা ব্যাবস্থার উন্নতির ব্যাপারে কারো কোন নজর নেই,জনপ্রতিনিধি,কোন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি,সাংবাদিকের কোন প্রতিবেদন, এরা কেউ মনে হয় এখানে চিকিৎসা করান না,সাধারণ মানুষ মরলে কি আর হবে?’

আহমেদ ফজলুর রশীদ লিখেছেন-‘ এভাবে আর কত দিন ?’
ফারুক আহমেদ লিখেছেন- মর্মান্তিক,মানা যায়না’।
শহীদুল ইসলাম লিখেছেন-‘ডাঃ লেলিনের বিরুদ্বে আগেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে তার শাস্তি হয়না কেন,তার খুুঁঠির জোর কোথায়,ডাক্তার নামের ডাকাতদের এই শহর থেকে বিদায় করা উচিত।’
নিউটন চাকমা লিখেছেন,-‘আমরা ডাক্তারের কাছে যাই জীবনে একটু নিরাপদ করার জন্য।আর ডাক্তাররা আমাদের জীবনকে নিয়ে খেলা করে। আমি মনে এ মৃত্যুর দায় সংশ্লিষ্ট কেউই এরাটে পারে না। একজন মায়ের মৃত্যু একটি পরিবারকে কোন জায়গায় দাঁড় করায়, তা ঐ পরিবার ছাড়া কেউ জানে না। গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং সাথে২ জোর দাবি করছি সংশ্লিষ্ট সকলকে বিচারের কাঠগরায় দাঁড় করানো হোক।’

পিন্টু বড়–য়া নামের এক ভুক্তভোগি লিখেছেন-‘ এই ডাকাত খুনী লেনিন ২০১০ সালে ২৩ জুলাই আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনার সময় চিকিৎসা না করে চট্টগ্রাম মেডিকেল রেফার করে সপরিবারে দাওয়াত খেতে চলে যান। বলল রোগীর অবস্থা খারাপ এখানে হবে না এবং পেটে বাচ্চা মারা গেছে। আমি নিরুপায় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে যাই সেখানে ডাঃ দেখে বলল এটাতো নরমাল রোগী এই রোগী চট্টগ্রামে মেডিকেল পাটালো কেন? তার পরদিন বিকাল ৫ টায় আমার এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম হলো নরমাল ডেলিভারি কোন কষ্ট হয়নি। তাহলে ডাকাত লেনিন কেন এই কথা বলল যে বাচ্চা মারা গেছে। এ শুয়োরের বাচ্চা রাঙামাটি হতে বহিষ্কার করা হোক এবং উক্ত ঘটনার সুবিচার দাবী করছি।’
উমা দত্ত নামের আরেকজন লিখেছেন-‘আমার দ্বিতীয় বেবীর সময় ও শেভরণে লেলিনকে দেখায়। লেলিন এই কথা বলেছিল আমার সমস্যা আছে এখানে সিজার সম্ভব নয়।পরে লেকসাইটে আমার সুস্থভাবে বেবী হয়।এত অভিযোগ থাকার পর উনারা বহাল তবিয়তে স্ব স্ব অবস্থানে আছে।’
শিক্ষক রাজীব ত্রিপুরা লিখেছেন-‘এর সুষ্ট তদন্ত ও বিচার দাবি করি সেইসাথে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’
এডভোকেট সুব্রত হালদার রুনু লিখেছেন-‘বড় কষ্টের — বড় বেদনার, অবহেলার কারন খূজে বের করা উচিৎ।’

হোটেল ব্যবসায়ি মোস্তফা কামালউদ্দীন লিখেছেন-‘লেলীন উৎনয় জানোয়ার। ভূল চিকিৎসা করায় তাকে লেক সাইড ক্লীনিকে রোগীর সমস্হ খরচ দিতে বাধ্য করেছিলাম।তাকে যারা আদর করে রাংগামাটি রেখেছে তারাও খুনি।এই মৃত্্ুযর জন্য তারাও দায়ী।’
মাকসুদুর রহমান মিঠু লিখেছেন-‘লেলিন একজন উন্মাদ চিকিৎসক…..।’
আব্দুল্লাহ আল মামুন লিখেছেন-‘যার চলে যায় সেই বুঝে হারানোর যন্ত্রণা….
কোন প্রতিবাদেই এদের কোন কিচ্ছু হবেনা।এমন হাজারো চিকিৎসক আছে সারাদেশ জুড়ে,তারা করো না কারো ছত্রছায়ায় শত প্রতিবাদে প্রতিরোধে বহালতবিয়তেই থেকে যাবেন স্বপদে।’

তবে সবাই যে দুই চিকিৎসকের সমালোচনাই করেছেন এমন নয়,কেউ কেউ যুক্তি দিয়ে বিষয়টিকে বোঝানোর চেষ্টাও করেছেন। তাদেরই একজন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সদস্য শিক্ষাবিদ বাঞ্চিতা চাকমা লিখেছেন,‘২/৩ বছর আগে আমার দুই ননদের ডেলিভারিও আমরা মাতৃমঙ্গলে করিয়েছিলাম তারা দিব্যি সুস্থ আছে।কয়েক বছর পর স্কুলে ভর্তি হবে।’
তিনি আরেকটি মন্তব্যে লিখেছেন-‘ এটা তো সব হাসপাতালেই নেয়া হয়।কি জানি এখানে কী হয়।কে কী ভাবে? অনেক ডেলিভারি তো এখানে হয় সবাই তো মারা যায় না। রোগীদের ও তো কন্ডিশন ঠিক থাকে না অনেক সময়।টাকার ভয়ে অনেকেই সদর হাসপাতাল থেকে চিটাগং রেফার করলে ঘুরিয়ে আবার রাঙ্গামাটিরই কোন একটাতে নিয়ে ডেলিভারি করাতে চায়।ভালো করে দেখলে হয়তো এখানেও এমন সমস্যা নেই তাও ঠিক বলা যায় না।’

ধনা চাকমা লিখেছেন,-‘ভুক্ত ভোগী পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলছি চিকিৎসা সঠিক না ভুল সেটা নির্ধারণ করবে চিকিৎসা বিশারদ কেউ, হুট করে ভুল চিকিৎসায় এ রোগী মারা গেছে বললে সহজে বাজার পাওয়া যায়,কিন্তু ফাঁক ফোকর থেকেই যায়।’

ডা: প্রতীক সেন লিখেছেন-‘কোনপ্রকার সঠিক তদন্ত ছাড়াই যেকোন কিছুই বলতে পারেন ননমেডিকেল ব্যক্তিরা।’

এমন শত শত কমেন্ট আর স্ট্যাটাস ঘুরছে অন্তর্জালে এই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

ি কমেন্ট

  1. প্রসুতি বা,ডেলিভারির সময় সাভাবিক থেকে অসাভাবিক কিছু হলে, রোগীতে ুৃননিতেই মারা যায়,তবে…রাংগামাটি মেডিক্যালে গত রাতে যে প্রসুতি মারাগেলেন তার পিছনে এখন পুরে রাংগানাটি তোল পার,তবে বিষয়টা শুধু মেডিক্যাল staffরায় জানেন সে জন্য ঘটনা যাই হোক সঠিক তদন্দ করে দোসিদের আইন গত ব্যবস্তা নিলে ভবিস্যত নিরাপত, প্রসুতি সম্ভাবনা থাকবে…..

  2. সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার এর অবৈধ সম্পদ যা নামে বেনামে আছে তা এই “”মা”” দের কে জিম্মি করে বৈধতার আবরণে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন , যা ওনার চাল চলনে দৃশ্যমান । সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ করছি সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের নামে / বেনামে যে অবৈধ সম্পদ গড়েছেন তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করুন । এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত সু দৃষ্টি আকর্ষণ করছি । আমাদের “”মা”” দের কে বাঁচান ।

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: