করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

প্রশিক্ষণ নেই,তাই মাঠে নামতে পারছে না সনাতন সৎকার কমিটি

রাঙামাটিতে

রাঙামাটিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে বা করোনা আক্রান্ত হয়ে সনাতন সম্প্রদায়ের মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সৎকারের জন্য গঠন করা হয়েছে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি। সে কমিটির সদস্যরা এখনো পাননি কোন প্রশিক্ষণ, তারা জানেন না স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোন প্রক্রিয়ায় সম্পাদন করতে হবে মৃত ব্যক্তির সৎকার। কমিটির সদস্যদের দাবি প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি দিলে তারা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে স্বেচ্ছায় কাজটি করে দিতে ইচ্ছুক। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিশীগ্রই দেয়া হবে প্রশিক্ষণ।
রাঙামাটিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে বা করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের দাফন ও সৎকারে গঠন করা হয়েছে কয়েকটি কমিটি। কিন্তু ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকে গঠন করা টিমকে ইতিপূর্বে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে ও গাউছিয়া কমিটি থেকে গঠন করা জেলা উপজেলা কমিটিগুলোকে শনিবার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। কিন্তু হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট (মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, পঞ্চম পর্যায়) রাঙামাটি কার্যালয় থেকে গঠন করা ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এখনো পায়নি প্রশিক্ষণ। ৫ সদস্যদের মধ্যে এখনো হয়নি কোন সমন্বয় সভা।
রাঙামাটির ৫ সদস্য বিশিষ্ট সৎকার কমিটির দলনেতা কৃঞ্চ নন্দী জানিয়েছেন, রাঙামাটিতে করোনা উৎসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া বা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সৎকার করার জন্য আমরা স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছি, মানবিক বোধ থেকে। যখন কমিটি গঠন করা হয় তখন আমাদের জানিয়েছিল প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। কিন্তু আমাদেরও পরিবার পরিজন আছে, আমাদেরও তাদের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করতে হবে। আমাদের এখনো কোন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়নি কিভাবে আমরা এই মৃতদেহগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৎকার করবো সে বিষয়ে। এখনো পর্যন্ত কোন সভা করা হয়নি আমরা ৫জন কিভাবে সমন্বয় করবো সেটা নিধারণ করতে। শুধু কারো সৎকারের প্রয়োজন হলে আমাদের ফোন দেয়া হয়। আমরা কিভাবে কোন প্রশিক্ষণ ছাড়া এই কাজটি সম্পাদন করবো। যদি করোনা সম্ভাবনা নেই এমন কোন ব্যক্তি মারা যান তাহলে তো আমরা ধর্মীয় বিধি অনুসারে কাজটি সম্পাদন করে ফেলি। এই বিষয়টিতো ভিন্ন।
আমাদেরও কিছু পরিকল্পনা আছে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এই ব্যক্তিদের সৎকারের বিষয়ে। কিন্তু আমাদের নিয়ে কোন সভা না হলে কিভাবে আমরা এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করবো। আমরা চাই এই করোনা কালটিতে সকলে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজটি করতে। যাতে মারা যাওয়া কোন ব্যক্তির স্বজনরা মনে না করে তারা অসহায়।
বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট(মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, পঞ্চম পর্যায়) রাঙামাটির সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের নিদের্শে আমরা এই কমিটি গঠন করেছি। কিছুদিন আগে তারা আমাদের প্রশিক্ষণের কথা বলেছে। আমি জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি, জেলা প্রশাসন সে বিষয়ে কিছুদিনের মধ্যে হয়তো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
রাঙামাটি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মহাজন জানিয়েছেন, আমরা জানতাম হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট রাঙামাটি কার্যালয় হতে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে কিন্তু সে কমিটি কিভাবে কাজ করছে বা আমরা কিভাবে তাদের সহযোগিতা করবো সে বিষয়ে আমাদের সাথে তারা কোন যোগাযোগ করেনি। তবে রবিবার শহরের জগদ্ধাত্রী মাতৃ মন্দিরে সনাতন সম্প্রদায়ের আয়োজনে একটি সভা আহবান করা হয়েছে সেখানে আশা করি কিভাবে এই সৎকার কমিটিকে আমরা সহযোগিতা করতে পারি সে বিষয়ে আলোচনা হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পঞ্চানন ভট্রাচার্য জানিয়েছেন, আমরা এতদিন জানতাম হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট বিষয়টি দেখছে তাই আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করিনি। রবিবার সনাতন সম্প্রদায়ের আয়োজনে যে সভা আহবান করা হয়েছে সেখানে আশা করি সকলে মিলে পুরো প্রক্রিয়াটি কিভাবে সম্পাদন করা যায়, প্রশাসন ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টকে আমরা কিভাবে সহায়তা করতে পারি সে বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে সকলে মিলে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর(এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ জানিয়েছেন, অতিশীগ্রই রাঙামাটিতে গঠন করা সৎকার কমিটিকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, তারা করোনা উপসর্গ নিয়ে বা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের কোন প্রক্রিয়ায় সৎকার করবেন সে বিষয়ের উপর। আমরা সব সময় চেষ্টা করি স্বাস্থ্যবিধি মেনে যতটুকু ধর্মীয় আচার পালন করা যায় তার সবকুটুই পালন করে মৃত ব্যক্তির দাফন বা সৎকার করতে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button