নীড় পাতা / ফিচার / পর্বতকন্যা / প্রশিক্ষণ কেবল শেখায় না, কর্মপরিধিও বাড়ায়
parbatyachattagram

৫ দিনব্যাপী হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে শফি কামাল

প্রশিক্ষণ কেবল শেখায় না, কর্মপরিধিও বাড়ায়

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে শেষ হলো ৫ দিনব্যাপী বিভিন্ন ধরণের হস্তশিল্প পণ্য তৈরি বিষয়ক প্রশিক্ষণ। এসএমই ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নারী বিবর্তন ফ্যাশন হাউজ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন পরিষদের সহায়তায় গত ২৩ জুন শুরু হওয়া ৫ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে ৩০ জন্য নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাঙামাটি শহরের আশিকা কনফারেন্স রুমে এ প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটে।

এসময় নারী বিবর্তন ফ্যাশন হাউজের পরিচালক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রোগ্রেসিভের নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম শফি কামাল। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আজম।

প্রোগ্রেসিভের টেকনিক্যাল অফিসার নুকু চাকমার সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিএনএ প্রোডাকশানের কর্ণধার পার্থ গুপ্ত। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মিতু চাকমা, জয়া চাকমা, সিমলা পাল ও গোর্কি চাকমা। অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারী ৩০জন প্রশিক্ষণার্থীকে সনদপত্র তুলে দেন প্রধান অতিথি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম শফি কামাল বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শুধু মানুষকে শেখায় না কেবল, তার কর্মপরিধিও বাড়িয়ে দেয়। এমন প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘরে বসে থাকলে হবে না। ব্যক্তি জীবনে এর চর্চা করলে আপনার ভবিষ্যৎ এগিয়ে যাবে। এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে আপনাদের পারস্পরিক সর্ম্পক আরও ঘনিষ্ট হয়েছে। প্রশিক্ষণে নেওয়া জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আপনারা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন বলে আমার বিশ^াস।’

রাঙামাটির পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের হাতের কাছে সবকিছু এনে দিয়েছে। সরকার মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু রাঙামাটির ট্রেডিশনাল হস্তশিল্পগুলো দিনদিন বিলুপ্তির পথে। আমাদের এসব ট্রেডিশনাল হস্তশিল্পগুলো রক্ষা করতে হবে। সংস্কৃতি ও নিজস্ব হস্তশিল্প রক্ষায় আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। আমরা চাই পার্বত্য অঞ্চল কোনোভাবেই পিছিয়ে না থাকুক। এ ধরণের প্রশিক্ষণ রাঙামাটিতে আরও আগে হওয়া উচিত ছিলো। আমাদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এসব প্রশিক্ষণ করা দরকার।’

মেয়র হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘পূর্বের দিনে রাঙামাটিতে স্থানীয় বস্ত্রশিল্পের পণ্য বিক্রির হিড়িক পড়ত। কিন্তু এখন সেই জৌলুশ আগের মতো আর নেই। দিনদিনই স্থানীয় বস্ত্রশিল্প অনেকাংশে পিছিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম বলেন, ‘৫ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারী সকলেই অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পেরেছে বলে আমার বিশ^াস। এ প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে দেশের হস্তশিল্প তুলে ধরার ক্ষেত্রে আমরা আরও একধাপ এগিয়েছি। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হস্তশিল্পগুলো এখানে এনে বিক্রি করছেন। এতে আমাদের স্থানীয় হস্তশিল্পগুলোর প্রসার পিছিয়ে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানের শেষে ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প পণ্য পরিদর্শন করেন অতিথিবৃন্দ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু

‘মৎস্য সেক্টরে সমৃদ্ধি, সুনীল অর্থনীতির অগ্রগতি ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানান কর্মসূচীর মাধ্যমে জাতীয় …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen − fourteen =