ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

‘প্রভাবশালী’ ঠিকাদারের ‘নিম্নমান’র কাজ !

কাউখালীতে এলজিইডি’র ৩ কোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

জয়নাল আবেদীন, কাউখালী
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার প্রকল্পে নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতা মিলেছে। কাউখালী উপজেলার কাউখালী-ঘাগড়া সংযোগ সড়কের ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কাজ পায় রাঙামাটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস-এমএম ট্রেডার্স। কাজের শুরু থেকেই নিম্নমাণের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজের অভিযোগ করে আসছিলো স্থানীয়রা। এর আগে নিম্নমাণের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে জানিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখেছিলো উপজেলা প্রকৌশলীও।

ফের স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলীগণ ৯ এপ্রিল (শুক্রবার) প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। ঠিকাদার কাজের সাইডে নিম্নমানের পাথর মজুদ করেছেন বলে উপজেলা প্রকৌশলী বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনের আলোকে একইদিন উপজেলা প্রকৌশলী ঠিকাদারকে কাজের সাইড থেকে নিম্নমানের পাথর ৩ দিনের মধ্যে অপসারণের জন্য নির্দেশ দেন। একই সাথে বিষয়টি অবহিত করেন এলজিইডির রাঙামাটি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীকে। কিন্তু প্রভাবশালী ঠিকাদার প্রকৌশলীর নির্দেশকে অমান্য করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছে নির্মাণ কাজ।

উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়- ঘাগড়া-কাউখালী সংযোগ সড়কের ঘাগড়া বাজার মুখ থেকে ২৬০০ মিটার (২.৬ কিলোমিটার) রাস্তায় বক্স কালবার্ট, সিলকোড, প্রয়োজনীয় জায়গায় কাপেডিং, রাস্তা ভাঙন রোধে বন্য প্রতিরোধক ওপেন বক্স কালবার্ট (ভি কালবার্ট) নির্মাণের কার্যাদেশ পায় এমএম এন্টারপ্রাইজ। শনি ও রবিবার প্রকল্প এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কাউখালী ঘাগড়া সংযোগ সড়কের জুনুমাছড়া এলাকায় দেখা যায় রাস্তার এল ড্রেন ও ওপেন বক্সে কালবার্ডের কাল চলছে। এর মাঝে কাজ শেষে হয়েছে রাস্তার বক্স কালবার্ট। এল ড্রেনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কাজের সাইড থেকে সরিয়ে ফেলতে বলা নিম্নমানের পাথর (কংকর) ও ইট দিয়ে। নি¤œমানের পাথর সরিয়ে নিতে নির্দেশনা থাকলেও কেনো এসব দিয়ে কাজ করছে জানতে চাইলে ওই কাজের রাজ মিস্ত্রি জানালেন এগুলো দিয়েই কাজ করতে বলেছে মালিক। লকডাউনের জন্য ভালো মাল আনতে পারছেনা তাই।

একই এলাকার একটু দূরেই রাস্তা ভাঙন রোধে চলছে ওপেন বক্স কালবার্ড নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ। তারই পাশে বড় বড় ২টি স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে নিম্নমানের পাথর ওই স্থানে কথা হয় কাজের মাঝি পরিচয় দেওয়া বাচ্চু ও হান্নানের সাথে। এ পাথর কেনো এখনো সরানো হয়নি জানতে চাইলে তারাও দোহাই দিলেন লকডাউনের। নিম্নমানের পাথর কেনো আনালের জানতে চাইলে বলেন ভালো পাথর পাঠানোর জন্যই বলা হয়েছিলে। কিন্তু সিলেট থেকে এই পাথর পাঠিয়েছে বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কালভার্টগুলো নির্মাণ করা হয়েছে তা খুবই নিম্নমানের পাথর দিয়ে। সড়কের পাশে এখন যে বন্যা প্রতিরোধক যে ড্রেন ও রাস্তার এল ড্রেন গুলো করা হচ্ছে তা আর কি বলবো। আপনারা সচক্ষে দেখেন কি দিয়ে কাজ করছে। এতটা খারাপ মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে তা বলার ভাষা নেই। আমরা বারবার অভিযোগের পরও ঠিকাদার কিসের জোরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার কোটি কোটি টাকা দিচ্ছে উন্নয়নের জন্য। আর নাম মাত্র কাজ করে এলাকাবাসীকে ঠকিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু টিকাদার নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ছে।

নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করার এতসব অভিযোগ যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, কথা হয় সে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. জসিমের সাথে। তিনি জানালেন জিনিসগুলো তো আর আমরা বানাইনা, কোন কারণে মাল খারাপ আসতেই পারে। অফিস থেকে যেহেতু পাথর সরানোর কথা বলা হয়েছে,আমার কথা পরিস্কার সরিয়ে ফেলবো। কেউতো আর ইচ্ছা করে মাল খারাপ দেয়না। আমি যদি ৮ টাকা দিয়ে মাল কিনতে পারি সাড়ে ৮ টাকা দিয়েও কি কিনতে পারবোনা। আমারও তো বিল তুলতে হবে। জোর করে কাজ করার তো কোন সুযোগ নেই। নি¤œমানের পাথর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের পরও কোন এল ড্রেনে নিম্নমানের পাথর (কংকর) দিয়ে কাজ করা হচ্ছে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলনে, বললেই তো আর সরিয়ে ফেলা যায়না। এখন নিতে গেলেতো আবার গাড়ীভাড়া খরচ হবে আমার। ভালো মাল এলে ওই গাড়ীতে এগুলো নিয়ে যাবে। কোন কারণে খারাপ মাল আসতেই পারে, যেহেতু অভিযোগ উঠেছে পরিবর্তন করা হবে।

এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র রায় জানান, এ নিয়ে দ্বিতীয়বার নিম্নমানের মালামাল অপসারণের জন্য চিঠি দিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। এরপরও যদি ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করে সেক্ষেত্রে পদেক্ষপ কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী জানান, বিষয়টি যেহেতেু উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি উনারাই সিন্ধান্ত নিবেন এ বিষয়ে। ঠিকাদারকে দেওয়া দ্বিতীয় চিঠিতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ধর্ম মোহন চাকমা ও অমর বিকাশ চাকমাকে (এলকেএসএস) প্রকল্প থেকে নিম্নমানের মালামাল অপসারণ পূর্বক প্রতিটি কাস্ট্রিং এ সশরীরে উপস্থিত থেকে কার্যসম্পাদন করার নির্দেশ দেন উপজেলা প্রকৌশলী।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button