রাঙামাটিলিড

‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার’ তদারকিতে দুর্গমাঞ্চল চষে বেড়াচ্ছেন বাঘাইছড়ি ইউএনও

মো. মহিউদ্দিন, বাঘাইছড়ি ॥
বাঘাইছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১৮০টি পরিবার পেয়েছে স্বপ্নের বাড়ি। জেলার দুর্গমাঞ্চলে এসব বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। আর দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে হেঁটে হেঁটে সেসব বাড়ি খুঁটিনাটি দেখছেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে পাকা বাড়ি পাচ্ছে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। সে ধারাবাহিকতায় বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১ম ও ২য় ধাপে মোট ১৮০-টি বাড়ি পেয়েছে দুস্থ হতদরিদ্র, স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা, প্রতিবন্ধী, অস্বচ্ছল পরিবারবর্গ।

উপকারভোগী নুর ইসলাম বলেন, জরাজীর্ণ ঘরে স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে নিয়ে বহু কষ্টে জীবন কাটাচ্ছিলাম, এখন টিউনো (্ইউএনও) স্যার আমাদের পাকা বাড়ি দিছে, বাড়িটি খুব মজবুত হইছে, স্যার কয়েকবার এসে বাড়িটি দেখে গেছে, আল্লাহ স্যারকে ভালো রাখুক।

হালেমা নামে উপকারভোগী বলেন, শুনছি দেশের কয়েক জায়গায় ঘর নাকি ভেঙে গেছে, কিন্তু আমাগো ঘর ভাঙ্গে নাই, স্যার কয়েকবার এসে দেখে যাওয়ার কারণে ঘরটি সুন্দর হইছে। স্যারের জন্যে দোয়া করি।

রূপকারি ইউনিয়ন থেকে উপকারভোগী মনি চাকমা বলেন, শিলাবৃষ্টির কারণে আমার ঘরের টিনের চালা ফোঁটা হয়ে যায়, ঘরের ভিতরে বৃষ্টির পানি পড়লে পলিথিনও দিয়ে রাখি, এখন আর পলিথিন দিয়ে রাখতে হবে না, ইউএনও স্যার আমাদের ঘর দিয়েছে, ঘর পেয়ে আমরা অনেক খুশি।

জানতে চাইলে বাঘাইছড়ি পৌর মেয়র মোঃ জাফর আলী খান বলেন, শহরের তুলনায় দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর নির্মাণে খরচ অনেকটা বেশি হওয়া সত্ত্বেও উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার দুরদর্শিতায় মজবুত ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। দূরবর্তী ইউনিয়নগুলো তে বাজেটকৃত অর্থে ঘর নির্মাণ করা যদিও কষ্টসাধ্য ব্যাপার, তারপরেও সেই খরচে সুন্দর ও মজবুত ঘর নির্মাণে রাতদিন পরিশ্রম করেছেন ইউএনও। তিনি নিজেই উপস্থিত হয়ে ঘরগুলো তদারকি করছেন বলেও জানতে পারি। অসহায় জনপদে মানুষের পাশে তিনি যেভাবে দাঁড়িয়েছে তা প্রশংসার যোগ্য।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় সারাদেশের মতো বাঘাইছড়িতে খাস জমি খুঁজে কাজটি বাস্তবায়ন করছে উপজেলা প্রশাসন। নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রথম পর্যায়ের ৮০-টি ঘর সম্পন্ন হয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ের ৮০-টি ঘর জুলাই মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে এবং তৃতীয় পর্যায়ে ঘর দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের নামের তালিকা যাচাই-বাছাই এর কাজ চলমান রয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − one =

Back to top button