রাঙামাটিলিড

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরেই ঠাঁই লংগদুর ১২৫ পরিবারের

আরমান খান, লংগদু
কাপ্তাই হ্রদের নীলজল আর সবুজেঘেরা উঁচু নিচুটিলা জুড়ে সারিবদ্ধ লাল আর সবুজ টিনের ছাউনিতে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু পাঁকা ঘর। কোনো কোনো ঘরের আঙিনায় দুলছে সাদা আর বেগুনি রঙের নয়নতারা। কেউ আবার ঘরের পেছনে যতœনিয়ে লাগিয়েছেন কলাগাছ। যার কোনটিতে কলা আসতে শুরু করেছে। এককথায় ছোট পরিসরে আদর্শ ছিমছাম ঘর। এমন স্বপ্নের বাড়ির বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন আব্দুল গফুর ও মরিয়ম বেগম দম্পতি। রাঙামাটির লংগদুতে কালাপাকুজ্যা ইউনিয়নে গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের সেমিপাকা ঘর বরাদ্দ পাওয়া সুবিধাভোগীদের মধ্যে এই দম্পতিও আছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে স্বামী আব্দুল গফুরকে নিয়ে এই ঘরে উঠেন মরিয়ম বেগম। নিজের একটা ঘর হওয়ায় কেমন লাগছে জানতে চাইলে মরিয়ম বেগম বলেন, এতদিন অন্যের জমিতে কোন মতে একটা ঝুঁপড়ি বানিয়ে বসবাস করতাম। রোদ ঝড় বৃষ্টিতে অনেক কষ্ট করেছি। এখন নিজেদেরে একটা ঘর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর আর জমি দিছে, এখন আর কোনো কষ্ট নাই।

পাশেই দিনমজুর ইসমাইল হোসেনের ঘর। এমন একটা ঘর পেয়ে কেমন লাগছে জানতে চাইলে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর নিজের একটা ঘর হইছে। একসময় জমিজমা ছিল, কিন্তু স্ত্রী অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসার জন্য সব বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলাম। সরকার এমন একটা ঘর দিছে যার জন্য আমরা লাখ লাখ শুকরিয়া। স্বপ্নেও ভাবিনি জীবনে এমন একটা ঘর হবে। আমাদের আর কিছু চাওয়ার নাই। শেখ হাসিনাকে আল্লাহ ভালো রাখুক।

অন্যদিকে উপজেলার মাইনীমূখ ইউনিয়নের দিনমজুর রতনমনি চাকমা ঘর পাওয়ার আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, অন্যের জমিতে একটা ছোট ঘর বানিয়ে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে বসবাস করতাম। এখন নিজের একটা ঘর হওয়ায় আর কোনো কষ্ট করতে হবে না। শেখ হাসিনা সরকার আমাদের জন্য যা করেছে তার কোনো তুলনা হয় না। শেখ হাসিনাকে ভগবান ভালো রাখবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে উপজেলার লংগদু সদর ইউনিয়নে ৬০টি, মাইনীমূখ ইউনিয়নে ৫৫টি, কালাপাকুজ্যা ইউনিয়নে ৪৫টি, বগাচত্বর ইউনিয়নে ১৪টি, আটারকছড়া ইউনিয়নে ১০টি, গুলশাখালী ইউনিয়নে ৬টি এবং ভাসান্যাদম ইউনিয়নে ৫টি নতুন ঘর দেয়া হয়েছে ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবারকে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে আরও নতুন ঘরের কাজ চলছে। সরেজমিন ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে কষ্টের দিনকে ভুলে গিয়ে এভাবেই সুখে শান্তিতে বসবাস করছে মরিয়ম, ইসমাইল ও রতন মনির মতো আরও অনেকেই। জমিসহ ঘর দেয়ার পাশাপাশি আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের জন্য সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থাসহ তৈরি করা হচ্ছে গভীর নলকূপ, ইবাদতখানা, সীমানাপ্রাচীর ও তোরণ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয় এবং ভূমি মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে উপজেলার ভূমিহীন ও আশ্রয়হীন পরিবারের জন্য গৃহনির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত ১২৫টি গৃহের কাজ সম্পন্ন করে সুবিধাভোগীদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এবং বর্তমানে আরও ৭০টি গৃহের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামীতে আরও কিছু ঘর বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাইনুল আবেদীন বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মতে এই মুজিব শতবর্ষে দেশের কোনো পরিবার গৃহহীন থাকবে না। এরই ধারাবহিকতায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য গৃহনির্মাণ কাজ সারা দেশে চলমান রয়েছে। পাহাড়ি এই দুর্গম উপজেলায় এখন পর্যন্ত ১৯৫টি ঘর বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ১২৫টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আরও ৭০টির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। আগস্ট মাসের মধ্যেই এ সকল গৃহের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। এর ফলে লংগদু উপজেলায় মোট ১৯৫টি পরিবারের স্থায়ী ঠিকানার ব্যবস্থা হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty + seven =

Back to top button