রাঙামাটিলিড

প্রত্যন্ত এলাকায় ভাষাগত প্রতিবন্ধকতায় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত নারীরা

‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ প্রকল্পে মিডিয়া সম্পৃক্তকরণ সভা

শংকর হোড় ॥
প্রত্যন্ত এলাকার জনগণ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে এখনো সচেতন নয়। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার কারণে এই সমস্যা আরো প্রকট প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের মধ্যে। কুসংস্কারসহ পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যরে কারণে এসব বিষয়ে পরিবারের কেউ মাথা ঘামাতে রাজি থাকে না বলে মত এই কাজে গত দুই বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার নেতৃবৃন্দদের। মাঠ পর্যায়ে নারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন অভিজ্ঞতা সংবাদকর্মীদের সাথে বিনিময়কালে এসব কথা তুলে ধরেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা।

শনিবার রাঙামাটি শহরে রাজবাড়ি টংগ্যা কনফারেন্স রুমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ প্রকল্পে মিডিয়া সম্পৃক্তকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাঙামাটিতে চার এনজিও বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, প্রোগ্রেসিভ, টংগ্যা ও হিল ফ্লাওয়ার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সভায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কর্মকান্ড উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের মাস্টার ট্রেইনার রিমি চাকমা।

এসময় তিনি বলেন, কিশোরী নারীদের সচেতনতার জন্য ১০-২৫ বছরে নারীদের তিনটি বয়সে ভাগ করে গার্লস ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় ১৭টি উপজেলায় ৩০০ ক্লাবের মাধ্যমে ১২হাজার নারীকে এতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে রাঙামাটিতে নয়টি উপজেলায় চার সংগঠন প্রোগ্রেসিভ, উইভ, হিলফ্লাওয়ার ও টংগ্যা প্রত্যেকে ৩০টি করে মোট ১২০টি ক্লাব রাঙামাটিতে স্থাপন করেছে। যাতে ১২০০নারীকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এতে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসহতা প্রতিরোধ ও প্রতিকারে করণীয় শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গার্লস ক্লাবে প্রতি মাসে সেশনের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান প্রদান এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক তথ্য প্রদান করছে যাতে মানুষের কুসংস্কার ও ভুল ধারণা দূর হয়। এছাড়া প্রত্যন্ত গ্রামে পুনঃব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি প্যাড তৈরির প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করা হয়।

প্রকল্পের সমন্বয়কারী সুব্রত খীসা সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের প্রজেক্ট ম্যানেজার সঞ্জয় মজুমদার, প্রোগ্রেসিভ এর নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমা, টংগ্যা’র নির্বাহী পরিচালক(ভারপ্রাপ্ত) ডা. পরেশ খীসা, উইভ-এর নির্বাহী পরিচালক নাই প্রু মারমা মেরী। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিল ফ্লাওয়ারের প্রকল্প সমন্বয়কারী প্রীতিরঞ্জন তঞ্চঙ্গ্যা।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, মাসিক নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক, প্রাকৃতিক এবং জৈবিক বিষয়। তবুও এ নিয়ে আমাদের রয়েছে কুসংস্কার ও নানা ভ্রান্ত ধারণা। আমরা আমাদের কিশোরী ক্লাবে কিশোরী ও নারীদের এ নিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি। সেই সাথে নারীর জীবনের সাথে ঘনিষ্টভাবে মিশে থাকা এই বিষয়ে পরিবারের মা, বাবা ও কমিউনিটির মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, এই প্রকল্পের কিশোরী ও নারীরা মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিজে জানছে, এবং কিভাবে নিজেদের জীবনে এটাকে প্রয়োগ করা যায় সেটা সম্পর্কে শিখছে। কারণ মাসিক নারীর জীবনের সার্বিক সুস্থতার জন্যে খুব গুরত্বপূর্ণ বিষয়। এই ক্ষেত্রে কোন প্রকার লজ্জা, ভয়কে দূর করে সঠিক তথ্য জানা ও স্বাস্থ্য সম্মতভাবে মাসিক ব্যাবস্থাপনা করার বিকল্প নেই। মধ্যখানে কোভিড পরিস্থিতির কারণে আমরা এখনো খুব বেশি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে পারি নাই, তবে প্রকল্পের বাকি যে সময়টুকু রয়েছে সেসময়টুকুতে কিশোরী নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button