নীড় পাতা / ব্রেকিং / প্রচার-অপপ্রচার সাধারণ সম্পাদক পদ ঘিরেই
parbatyachattagram

প্রচার-অপপ্রচার সাধারণ সম্পাদক পদ ঘিরেই

আগামী ২৫ নভেম্বর রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে ঘিরে রাঙামাটিতে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে দলের নেতাকর্মীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসছেন সেই জল্পনা-কল্পনা চলছে এখন জেলাজুড়ে। ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পদ ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতুহল দেখা গেছে। কাউন্সিলরদের মধ্যেও চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ কাকে নির্বাচন করলে দলের কাজে আসবে। সম্মেলন ঘিরে ইতোমধ্যে শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীদের শুভকামনা জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন টাঙিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। পিছিয়ে নেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। ফেসবুকে ইতোমধ্যে সম্মেলন ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রচার, অপপ্রচারেও পিছিয়ে নেই।
২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর সর্বশেষ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় সাত বছর পর আগামী ২৫ নভেম্বর জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাধারণ সম্পাদক পদটি ঘিরে।
সভাপতি পদে ভিন্ন কিছু না ঘটলে দীপংকর তালুকদারই আবারো দায়িত্ব নিচ্ছেন এটা অনেকাংশে নিশ্চিত। তবে তার সহযোদ্ধা কে হচ্ছেন সেটি নিয়ে জোর আলোচনা রাঙামাটির রাজনীতিতে। ইতোমধ্যে বরকল উপজেলা বাদ দিয়ে বাকী নয় উপজেলা ও ২ পৌরসভায় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। রাঙামাটির রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা এখন তাকিয়ে ২৫ নভেম্বর কে হবেন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক।
গত সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন দীপংকর তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে হাজি কামাল উদ্দীনকে পরাজিত করেন তৎকালীন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মুছা মাতব্বর রাজনীতি অঙ্গনকে চমক দেন। এরপর থেকেই জেলা আওয়ামীলীগের কার্যক্রমে দাপুটে চলা শুরু মুছা মাতব্বরের। এই সাত বছরে রাজনীতিতে নিজের একটি বলয় তৈরি করতে সক্ষম হন তিনি। নেতৃত্ব গ্রহণের বছর খানেক পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে পরাজিত হয় আওয়ামীলীগ। এর চার মাস পর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও হেরে যায় দলটি। তবে পরাজয়ের গল্প ওই পর্যন্ত। এরপর থেকেই সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে শুরু জয়ের গল্প। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী জয়লাভ হয়। এরপর ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হারানো আসনটি আবারো পুনঃউদ্ধার করে দলটি। এর তিন মাস পর এই বছরের ১৮ মার্চ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামীলীগ। একই সাথে জেলার আরো কয়েকটি উপজেলায় জয়ের মালা গলায় পরে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা। এসব জয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বরের অ্যাগ্রেসিভ (আক্রমণাত্মক) কৌশল নিয়ে নিজ দলেই আলোচনা ও সমালোচনা দুটোই রয়েছে। একপক্ষের দাবি আক্রমণাত্মক কৌশলের কারণে আওয়ামীলীগ আবারো সবকিছু ফিরে পেয়েছে। আবার অন্য দল বলছে, এই কৌশলের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে দলটির গ্রহণযোগ্যতা কমেছে। প্রতিপক্ষকে ভোটযুদ্ধ থেকে দুরে সরিয়ে রাখতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করানো নিয়েও সমালোচিত হতে হয় মুছা মাতব্বরকে। এরপরও দলীয় নেতাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও দলের সার্বক্ষণিক কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দেয়ায় অনেক কাউন্সিলর মুছা মাতব্বরকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করতে চাইছেন।
বিপরীতে মুছার সবচে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে এখন কাউন্সিলদের মধ্যে যার নাম সবচে বেশি শোনা যাচ্ছে তিনি হলেন সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি কামাল উদ্দীন। বর্তমানে যিনি জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সাবেক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ মুছা মাতব্বরের মাথা ব্যথার প্রধান কারণ হয়ে উঠেছেন। তাঁর সাথে রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের বেশকিছু অভিজ্ঞ নেতা, যারা মুছা মাতব্বরকে হারানোর জন্য যে কোন কিছু করতেই রাজি। অভিযোগ রয়েছে সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে হাজি কামালের মেজাজী ব্যবহার নিয়ে। তবে আওয়ামীলীগের পরীক্ষিত এই নেতার নিজ বলয় ও মুছা বিরোধী সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে জয় পাওয়ার বিষয়ে খুবই আশাবাদি তার অনুসারিরা।
এদিকে এই দু’জনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেমন চলছে অভিনন্দনের জোয়ার তেমনি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে চলছে অপপ্রচারও। এরইমধ্যে ফেসবুকে বিভিন্ন ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে মুছা মাতব্বরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে তারই ভাতিজা ও ১নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. নাজিম উদ্দীন পারভেজ। মুছা মাতব্বরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাঙামাটি পৌর যুবলীগের ৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির ফেসবুকে লিখেন, ‘সুখে-দুঃখে যাঁকে পাই সে আমাদের মুছা ভাই। যাঁর সাথে মন খুলে কথা বলা যায়, একজন খাঁটি কর্মী বান্ধব নেতা। তাঁকেই আমরা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চাই। দূর থেকে বাজে মন্তব্য না করে একবার এসে কথা বলে দেখেন বা মিশে দেখেন কত বড় মনের মানুষ তিনি।’ অন্যদিকে হাজি কামাল উদ্দীনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন লিখেছেন ‘আসন্ন ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার ত্রি বার্ষিক সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান কে স্বাগত জানিয়ে; বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শিত এবং পরীক্ষীত সৈনিক, অত্যন্ত সৎ, নির্লোভ, ক্রীড়ানুরাগী দেশপ্রেমিক এবং রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের আস্থাবান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন ভাইকে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চাই…’
তবে কর্মীদের প্রচারনা কিংবা স্ট্যাটাসের আদতে কোন প্রভাবই পড়বে না আসন্ন কাউন্সিলে। কারণ যাদের ভোটে নির্বাচিত হবেন সাধারন সম্পাদক,তাদের সবচে বড় অংশটিই এখনো চুপচাপ,পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনই করছেন কেবল। হয়তো কোন সিগন্যালের প্রতীক্ষা কিংবা সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখে,শুনে,বুঝেই সিদ্ধান্ত নিবেন বলেই দিন গুণছেন। এখন অপেক্ষার পালা, ২৫ নভেম্বর শেষ বিকেলে…

Micro Web Technology

আরো দেখুন

চুরির মামলা করে নিজেই ফেঁসে গেলেন বাদী !

রাঙামাটিতে মিথ্যা চুরির মামলায় বাদীর কারাদ- দিয়েছেন আদালত। জেলার কাউখালী থানার আর্দশগ্রাম নিবাসী আবুল কাসেমের …

Leave a Reply