ব্রেকিংরাঙামাটি

পোস্টার হবেনা,সীমিত ব্যানার,প্রচারের আওতামুক্ত সমিতি অফিস

রাঙামাটির প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ি সংগঠন রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ি সমিতি। আগামী ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সংগঠনটির নির্বাচন। প্রতিবারই এই সংগঠনটির নির্বাচনে শহরজুড়ে লাগানো হয় হাজার হাজার পোস্টার,জাতীয় নির্বাচনকেও হার মানায় এই সংগঠনের প্রচারণা। বলা হয়ে থাকে কোটিপতিদের সংগঠন এটি। পার্বত্য অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত কাঠ ও গাছ ব্যবসার সাথে জড়িত প্রভাবশালী ৪৩১ জন ব্যবসায়ি এই সংগঠনের সদস্য। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ৩০ জন ।

তিনবছর মেয়াদান্তে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে এবার একেবারেই ব্যতিক্রমি এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

এই প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটির মডেল নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটি। ইতোমধ্যেই প্রার্থীদের সাথে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিতেই নেয়া হয়েছে পোস্টার না লাগানোর সিদ্ধান্ত। শুধু তাই নয় ডিজিটাল ব্যানার ব্যবহারেও দেয়া হয়েছে নির্দেশিকা। একজন প্রার্থী ১৫ টির বেশি ব্যানার লাগাতে পারবেন না এবং সেই ব্যানারও হতে হবে নির্দিষ্ট সাইজের। একই সাথে সংগঠনের কার্যালয় চত্বরে নির্বাচনী প্রচারনা না চালানো,সমিতি ভবনের আশেপাশের ২০ গজের মধ্যে ব্যানার ফেস্টুন না লাগানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত সকল উপকরণ প্রার্থীকেই নির্বাচন শেষ হওয়ার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ করে নিতে অনানুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হচ্ছে। নিজেদের নির্বাচনী সুপারিশমালা ইতোমধ্যেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি,নির্বাচনী প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্টদের হাতে তুলে দিয়েছে মডেল নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটি।

সভাপতি পদপ্রার্থী মতিয়ার রহমান মতিন বলেন, এটি অবশ্যই ভালো সিদ্ধান্ত। রাঙামাটি শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের সবারই। এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

সভাপতি পদের আরেক প্রার্থী ও বর্তমান সভাপতি সোলায়মান চৌধুরী বলেন, পোস্টারবিহীন এই নির্বাচন অবশ্যই ভালো হবে। আমরাও এটাই চেয়েছি। একইসাথে একজন ভোটার যেনো সিঙ্গেল ভোট দিতে না পারে,সেই ব্যাপারে অনুরোধ করছি। পোস্টারের জন্য মানুষের অনেক সমস্যা হয়।

মডেল নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য শাওন ফরিদ বলেন, এ শহর আমাদের সবার। আমরা যে যেই দলই করিনা কেনো,দিনশেষে আমরা সবাই এই শহরের বাসিন্দা। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার নাগরিক দায়িত্ব পালন এবং একটি মডেল নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্যই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। সবার সহযোগিতা পেলে এটি সফলতা লাভ করবে। আমরা ২১ সদস্যের একটি কমিটি এই নির্বাচনকে মডেল নির্বাচন হিসেবে করার জন্য কাজ করছি।

অন্যদিকে মডেল নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীন বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু পৌরসভার নয়,প্রতিটি নাগরিকেরই। এরই অংশ হিসেবে কাঠ ব্যবসায়িরাও যেনো নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন,সেই জন্যই কিছু আচরণবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। সবাই যদি এটি মেনে চলে তবে রাঙামাটি শহর সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন থাকবে।

শহরের প্রবীণ নাগরিক ও রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুনীল কান্তি দে বলেন,এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হলো। আশা করছি এখন থেকে প্রতিটি পেশাজীবি নির্বাচনই এইভাবে পোস্টারবিহীন অনুষ্ঠিত হবে । এতে আমাদের সবার প্রিয় এই শহরটি সুন্দর থাকবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

১টি কমেন্ট

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
%d bloggers like this: