আলোকিত পাহাড়বান্দরবানব্রেকিংলিড

পাহাড় মেতেছে ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ উৎসবে

মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ উৎসবে যেন রং লেগেছে পাহাড়ে। পাহাড়ি পল্লীগুলো সেজেছে নতুন সাঁজে। উৎসবের আনন্দে মেতেছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা, তঞ্চঙ্গা, ত্রিপুরা, চাকমা, খুমি, খেয়াং, ম্রো, বম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরা।

গত রোববার রাতে স্থানীয় রাজারমাঠে গৌতম বুদ্ধের স্মরণে ফানুস বাতি উড়ানোর আয়োজন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। অনুষ্ঠানে অংশ নেয় মন্ত্রীর সহধর্মিনী মেহ্লা প্রু, পুত্র রবিন বাহাদুর এবং কন্যা ভেনাস। এসময় ফানুসের আলোয় ঝলমলে হয়ে উঠেছে বান্দরবানের রাতের আকাশ।

করোনা পরিস্থতির কারণে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সংক্ষিপ্ত করা আয়োজনে উড়ানো হয় শতাধিক রঙ-বেরঙের ছোট বড় ফানুস বাতি। এসময় আতশবাজির শব্দ-আলোয় মুখরিত উঠে আশপাশ। ঝলমলে আলোয় আলোকিত হয়ে রাতের আকাশ। মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান এ সামাজিক উৎসব দেখতে রাজারমাঠ এলাকায় ভীড় জমিয়েছিলো বান্দরবান বেড়াতে আসা অসংখ্য পর্যটকও। একই সময়ে ফানুস বাতি উড়ানো হয় রাজগুরু কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার, সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার, উজানীপাড়া বৌদ্ধ বিহারসহ পাহাড়ি পল্লীগুলো থেকেও।

এদিকে রাতের বেলায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবের মূল আকর্ষণ মঙ্গল রথযাত্রা বের করা হয়। বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা ময়ূর রথের উপরে একটি বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করে মঙ্গলরথটি কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার থেকে রশি দিয়ে টেনে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাগুলো ঘোরানো হয়। এসময় বৌদ্ধ ধর্মের নর-নারীরা মোমবাতি জালিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বুদ্ধ মূর্তিকে। শহর ঘুরিয়ে মঙ্গল রথটি মধ্যমপাড়াস্থ সাঙ্গু নদীতে বিসর্জন দেয়া হয়। রথ যাত্রায় অংশ নেয় তরুণ-তরুণীরা।

উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য মংচিং নু মারমা জানিয়েছেন, ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে হচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর ধর্মীয় প্রার্থনা, ছোয়াইং দান, ফানুত বাতি উড়ানো এবং মঙ্গল রথটি শহর ঘুরিয়ে সাঙ্গু নদীতে বিসজর্নের মাধ্যমে দুদিন ব্যাপী মূল অনুষ্ঠানমালা শেষ হয়েছে। তবে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে ফানুস বাতি উড়ানোসহ স্বাস্থ্য বিধি মেনে এই উৎসব চলবে আরও ক’দিন।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা জানান, তিন মাস বর্ষাবাস (উপোস) থাকার পর পাহাড়ি মারমা সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) উৎসব পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। প্রচলিত আছে, বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্নিমায় তাঁর মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিল। তাই আশ্বিনী পূর্নিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় ফানুস বাতি। পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায়েরা নিজস্ব সামর্থ অনুযায়ী ফানুস বাতি বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে মারমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবছর অনুষ্ঠানমালা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। পাহাড়ে উৎসব মানে, পাহাড়ি-বাঙালি মিলে মিশে একাকার। কিন্তু এবার স্বাস্থ্য বিধি মেনে যতটুকু করা সম্ভব, সেটিই উদযাপন করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button