বান্দরবানলিড

পাহাড় কেটে জলাশয় ভরাট করছে প্রভাবশালীরা

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান ॥
ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় বান্দরবানে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে রাতের আধাঁরে ভরাট করা হচ্ছে জলাশয় বা পানির উৎসস্থল পুকুর। পরিবেশ আইন লংঘন করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী মনির চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে শতবছরের পুরনো জলাশয় বা পুকুরটি ভরাট করে দোকানঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের এ কর্মযজ্ঞ চলছে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখাগেছে, বান্দরবান পৌরসভার তিন নাম্বার ওয়ার্ডস্থ সেনারিজিয়নের পাশ^বর্তী সেগুনবাগিচা এলাকায় শতবছরের পুরনো জলাশয় বা পুকুরটি পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। জলাশয় বা পুকুরটির পশ্চিম, উত্তর এবং পূর্বদিকে তিনপাশে একাধিক স্থানে টিন ও পলিথিনের ঘেরাও দিয়ে ঢেকে আস্তে আস্তে মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কৌশলে বাঁশ-কাঠের খুটি দিয়ে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি কাচা দোকানঘরও তৈরি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ভরাটের কাজ করা জলাশয় বা পুকুরের জায়গাটি মূলত সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সেনাবাহিনীর অধিগ্রহণ করা জমি। এছাড়াও সরকারি কিছু খাস জমিও রয়েছে সেখানে। কিন্তু প্রভাবশালী মনির চৌধুরী পরিবারের পাহাড়ি জমি রয়েছে সেগুনবাগিচা এলাকায়। জমিজমা সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধও চলমান রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দার মোহাম্মদ হোসাইন, রমিজ উদ্দিন’সহ অনেকে বলেন, জলাশয় বা পুকুরটি একটা সময় বালাঘাটা এবং রোয়াংছড়ি স্টেশনগামী মানুষদের হাত-মুখ ধোয়া বা গোসলের অন্যতম পানির উৎসস্থল ছিলো। কিন্তু আশপাশের দখলবাজদের অত্যাচারে জলাশয়টি সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। চারপাশ দখল হতে হতে ছোট হয়ে পড়েছে। কুচুরিপানা এবং ময়লা আবর্জনায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জলাশয় পুকুরটি দখলমূক্ত করে সংস্কারের মাধ্যমে সংরক্ষণের দাবী জানাচ্ছি। এতে সেনানিবাস এলাকা, শিশুপার্ক এবং আর্মী ক্যান্টিনের সৌন্দর্য বর্ধণেও ভুমিকা রাখবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন অভিযোগ করে বলেন, মূলত মনির চৌধুরীকে ব্যবহার করে স্বার্থন্বেশী মহল জলাশয় বা পুকুরটি ভরাটের মাধ্যমে সরকারি জায়গাটি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করতে চাচ্ছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী মনির চৌধুরী নিজেও সরকারি খাস জমি এবং বিরোধীয় জমি বিক্রি করে ফায়দা লুটতে পরিবেশ আইন লংঘন করে জলাশয় ভরাটের কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। বালাঘাটা এমডিএস এলাকায় বসতি নির্মাণের জন্য রাতের বেলায় স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা মাটিগুলো ট্রাকযোগে এখানে জলাশয়টি ভরাট করা হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রভাবশালী মনির চৌধুরী বলেন, আমি কোনো ধরনের পাহাড় কাটছি না। জলাশয় বা পুকুর ভরাটের কাজও করছিনা। জলাশয় বা পুকুরের জায়গাটি আমাদের, দোকানঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় শুধুমাত্র মাটি ফেলে দোকানটি ঠিক করা হচ্ছে। এদিকে জলাশয় ভরাটের বিষয়টি অস্বীকার করলেও প্রভাবশালী চক্রটি প্রতিবেদককে বিভিন্নভাবে ম্যানেজড করার চেষ্টা চালান।

এদিকে সরকারি জায়গা দখল করে জলাশয় বা পুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন সেনাবাহিনী এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুচ সালাম বলেন, জলাশয় বা পুকুর ভরাট করা পরিবেশ আইন বিরোধী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেগুনবাগিচা এলাকায় পাহাড় কাটা মাটি ফেলে জলাশয় পুকুর ভরাটের খবর পেয়েছি। রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 2 =

Back to top button