পাহাড়ের অর্থনীতিপ্রকৃতিপুরাণরাঙামাটিলিড

পাহাড়ে সূর্যমূখীর হাসি

লংগদুর পাহাড়ি গ্রামে বাড়ছে চাষ

আরমান খান, লংগদু
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার পাহাড়ি গ্রামে সম্ভাবনাময় সূর্যমূখীর চাষ করছে কৃষক। এবারই প্রথম তেল উৎপাদনের লক্ষে ভিন্ন এই ফসলের চাষ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। লংগদু কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার পরীক্ষামূলকভাবে উপজেলার বিভিন্নগ্রামে মোট ২০ জন কৃষককে সূর্যমূখী ফুলের ৭৫০ গ্রাম বীজ ও সার প্রদান করা হয়। পাহাড়ি এলাকার নিচু জমিতে এ ফুলের চাষ বেশ ভালো হয়েছে। ফুলের উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষক লাভবান হবে।

উপজেলার বামে আটারকছড়া এলাকার চাষী নবমিত্র কারবারির বাগানে গিয়ে দেখা মেলে সূর্যমূখীর সারি সারি ফুলের। হলুদ বড় বড় সূর্যমূখী ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত স্থানীয় দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থী মোনালিসা চাকমা বন্ধুদের সঙ্গে এসেছেন সূর্যমূখী ফুলের বাগান দেখতে। সবাই মিলে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এই তরুণ-তরুণীর দলটি। মোনালিসা বলেন, আমরা লংগদু থেকে এসেছি সূর্যমূখী ফুলের বাগান দেখেতে। অনেক সুন্দর বাগান। এখানে এসে মনটা ভালো হয়ে গেল। চারিদিকে তামাকের পরিবর্তে যদি সূর্যমূখী চাষ হতো তাহলে সারা দেশের মানুষ এখানে ছুটে আসত।

কৃষক নবমিত্র কারবারি বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রথমবারের মতো আমি ২০ শতক জমিতে সূর্যমূখীর আবাদ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। কিছুদিন পরেই ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ করে তেল উৎপাদন করা হবে। বাজারে এ তেলের চাহিদা আছে। ইতোমধ্যে এলাকার বেশ কয়েকজন তেলের চাহিদা দিয়ে রেখেছেন বলে জানান এই কৃষক। উপজেলার ভাসান্যাদম ইউনিয়নের কৃষক ইব্রাহিমও সূর্যমূখীর চাষ করেছেন। তার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। আগামীতে আরও বেশি করে আবাদ করবেন বলে জানান কৃষক ইব্রাহিম মিয়া।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রতন চৌধুরী জানান, সরকারিভাবে উপজেলার ২০ জন কৃষককে বিনামূল্যে সূর্যমূখীর বীজ ও রাসায়নিক সার দেয়া হয়েছে। কৃষকরা চাষ করে ভালো ফল পেয়েছেন। বাজারে সূর্যমূখী তেলের ভালো চাহিদা রয়েছে। আগামীতে কৃষকরা আরও বেশি চাষ করবে বলে আমরা আশা করছি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button