বান্দরবানব্রেকিংলিড

পাহাড়ে যৌথবাহিনীর অভিযান চান জনপ্রতিনিধিরা

উন্নয়নের এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চাঁদাবাজি বন্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার দাবিতে বান্দরবানে সংবাদ সম্মেলন করেছে আওয়ামীলীগ। রোববার দুপুরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ক্যশৈহ্লা। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাজু মং, পৌর কাউন্সিলর অজিত দাস, রাজবিলা ইউপি চেয়ারম্যান ক্যঅং প্রু মারমা, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পাইহ্লা অং মারমা, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাবুখয় মারমা প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামীলীগ সভাপতি ক্যশৈহ্লা বলেন, গণতন্ত্রের দেশে আমরা বসবাস করি। কিন্তু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি পাহাড়ের মানুষ। চাঁদাবাজির কারণে উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পাহাড়ে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গ্রুপের সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার, ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বয়স্ক-বিধবা ভাতা প্রাপ্ত নারী-পুরুষদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরা তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে দাবী করলেও পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি থামছে না। অশান্তিতে রয়েছে পাহাড়ের মানুষ। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা গ্রামগঞ্জে যেতে পারছে না। একটি অঞ্চলকে অন্ধকারে রেখে দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। উন্নয়নের স্বার্থে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠিদের নির্মূলে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার দাবি জানাচ্ছি। পাহাড়কে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি মুক্ত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বন্দুকের নলের চেয়ে কলমের শক্তি বেশি। পাহাড়ের উন্নয়নে গণমাধ্যম কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত্রাসীদের রুখতে লিখনির মাধ্যমে মিডিয়া কর্মীদের সহযোগিতা কামনা করছি।

সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রাজু মং ও সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পাইহ্লা অং মারমা বলেন, আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি বলে মোবাইলে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। কখনো মগ বাহিনী, কখনো জেএসএস এবং কখনো এমএন লারমা (জেএসএস সংস্কার) গ্রুপের পরিচয়ে তারা হুমকিগুলো দিচ্ছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরে পৌরসভার মধ্যে বসবাস করছি। গ্রামে এবং নিজের নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারছি না। আওয়ামীলীগের নেতাদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে।

জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর অজিত দাস এবং রাজবিলা ইউপি চেয়ারম্যান ক্যঅং প্রু মারমা বলেন, সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কারণে হেডম্যান-কার্বারিদের প্রথাগত সংস্কৃতি, বিচার-ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়েছে। সন্ত্রাসী গ্রুপেরাই পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে পারিবারিক এবং সামাজিক সমস্যা গুলোর বিচার সালিশ করছেন। তবে কোনো সম্প্রদায়ের প্রথা অনুযায়ী নয়, তাদের পছন্দ মত চাহিদা মেটানো ব্যক্তিদের পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন। পাহাড়ের মানুষগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। পার্বত্যবাসীকে জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করতে যৌথ বাহিনীর জোরালো অভিযানের বিকল্প নেই।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button