নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / রাঙামাটি / পাহাড়ে ভোটে হারের শোধে পড়ল লাশ !

পাহাড়ে ভোটে হারের শোধে পড়ল লাশ !

শংকাকে সত্য প্রমাণ করেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিশোধ মিশন শুরু হয়েছে পাহাড়ে। নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)’র এক কর্মীকে শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)’র এই কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম বসু চাকমা(৪০)। তার গ্রামের বাড়ি একই এলাকার খেদারমারা এলাকায়। নিহত বসু নিজেও জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)র সশস্ত্র কর্মী বলেই জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বাঘাইছড়ি থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক হিরো বড়ুয়া জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলা সদরের বাবুপাড়া কমিউনিটি সেন্টারের পাশে জনৈক জ্যোতি প্রভা চাকমার বাড়ীতে রাতের খাবার খাওয়ার সময় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

নিহত ব্যক্তির লাশের পাশে ১ টি একনলা বন্দুক, ১ টি পিস্তল,পিস্তলের গুলি ২ রাউন্ড, খালি খোসা ০৯ টি ও খাবার খাওয়ার আলামত পাওয়া যায়।

জেএসএস (এমএনলারমা)’র তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা চুক্তি বাস্তবায়নের স্বার্থে নৌকা প্রতীকের সমর্থনে কাজ করেছি। কিন্তু সন্তু লারমার জেএসএস সিংহ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে ইউপিডিএফ তাদের সমর্থন দেয়। আমরা ধারনা করছি এই দু’টি গ্রুপ এক হয়ে কিংবা দুই গ্রুপের যেকোনো একটি গ্রুপ এই হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে। তারা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে মনে করছি আমরা।’ তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন।

ইউপিডিএফ এর প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বলেছেন, ‘তারা আওয়ামীলীগের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে খাওয়া দাওয়া করে মজা করার সময় তাদের মধ্যে কোন ঝামেলার কারণে এই ঘটনা হতে পারে। বাবুপাড়া তাদের নিয়ন্ত্রনাধীন এলাকা। সেখানে আমাদের কোন লোকজন নেই। আমাদেরকে দায়ী কেন করছে আমরা জানি না। এই ঘটনার সাথে কোন ভাবেই আমরা জড়িত না।

প্রসঙ্গত, বাঘাইছড়ি উপজেলায় জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)’র শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান আছে। তারা এই নির্বাচনে নৌকার পক্ষে সরাসরি কাজ করে,ফলে নৌকা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভোট পায় এবং বিজয়ী হয়। এই উপজেলায় আঞ্চলিক চারটি দলেরই কমবেশি শক্ত অবস্থান আছে। ফলে আয়তনে দেশের সবচে বড় এই উপজেলায় সবসময় সংঘাত লেগেই থাকে এবং একের পর এক লাশ পড়ে।

এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি ও প্রসীত খীসার ইউপিডিএফ দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে কাছাকাছি এবং দুই দল পৃথক দুই জেলায় প্রার্থী ঘোষণা করে পরস্পরের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দিয়ে প্রচারনায় অংশ নেয়। বিপরীতে তাদের দুই দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন দল গঠন করা জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা) এবং ইউপিডিএফ(গনতান্ত্রিক) নৌকার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কাজ করে। ফলে নির্বাচনের সময়ই ধারণা করা হয়েছিলো যে, নির্বাচনের পর এর প্রভাব পড়বে পাহাড়ের ভ্রাতৃঘাতি জিঘাংসার রাজনীতিতে।

আরো দেখুন

আত্মীয়-স্বজনের ঘরেই ঠাঁই পেল অগ্নিদুর্গতরা

মাসুম, বয়স ৮ বছর। সকাল বেলার নাস্তা সেরে ঘর থেকে বের হয়েছিলো বন্ধুদের সাথে খেলতে। …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 − 4 =