বান্দরবানব্রেকিংলিড

পাহাড়ে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

সমতলে পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলেও পাহাড়ি অঞ্চলে পানির সুব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত নয়। দেশের বড় বড় শহরগুলোতে যখন পানি সংকট দেখা দেয়। তা নিয়ে গণমাধ্যম সহ সর্ব ক্ষেত্রে হৈচৈ পড়ে যায়। কিন্তুু পাহাড়ি অঞ্চল গুলোতে যারা বসবাস করে দিনের পর দিন পানি সংকটে ভুগছে। তাদের পানি সংকটের কথা সহজে গণমাধ্যমে উঠে আসে না।

পাহাড়, নদী, ঝিরি ও বিশাল অরণ্য জুড়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম।পাহাড়ের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পাহাড়ের জীবন কঠিন। পার্বত্য অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা পাহাড় ও টিলা ভূমি নিয়ে গঠিত। সমতলে যারা বসবাস করে তারা পানি সংকটে সচরাচর তেমন একটা পড়ে না। আবার পাহাড়ে ঝর্ণা, পাহাড়ি নদী এসব উৎস থাকলেও সবসময় সেখানে পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পানি পাওয়া যায় না। সমতল ও পাহাড় উভয় জায়গার বাসবাসরত মানুষ পানি সংকটে আছে।

গ্রীষ্মের শুরুতেই তীব্র পানি সংকট দেখা দেয় পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। জেলা শহরসহ পাহাড়ি গ্রামগুলোর মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দুর্গম পাহাড়ে বসবাসরত পল্লীগুলোতে নিরাপদ সুপেয় পানির অভাবে বিভিন্ন রকম পানিবাহিত রোগ হচ্ছে।

বান্দরবান জেলার দুর্গম থানচি, রোয়াংছড়ি, রুমা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার গ্রামগুলোতে তীব্র পানি সংকট দেখা যায়। যার কারণে এসব এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দারা হেঁটে দীর্ঘ পথ পারি দিয়ে পানি সংগ্রহ করে। আবার পানি নিরাপদ না হওয়ার ফলে জীবন ঝুঁকি নিয়ে পানি সংকট মোকাবিলা করতে বাধ্য সবাই।

প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা,  অবৈধভাবে ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলন, অপরিকল্পিত জুম চাষ, বন-জঙ্গল উজাড় ইত্যাদি ও ভৌগলিক কারণে পাহাড়ে পানির উৎস বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় এসব সমস্যার সমাধান জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। নাহলে দেখা যাবে, একসময় পাহাড়ে পানির উৎস উধাও হয়ে যাবে।

বান্দরবানের শৈল প্রপাত এর উপরের গ্রাম দুর্গম সরণ পাড়ায় বসবাসরত ডেভিড বম জানায়, অনেক দূর থেকে তাদের পানি সংগ্রহ করতে হয়। কয়েক কিলোমিটার হেঁটে থ্রুং কাঁধে নিয়ে পানি আনতে অনেক পরিশ্রম হয়। গ্রীষ্ম কালে কাছের ঝিরি, ঝর্ণার পানি শুকিয়ে যাওয়াতে পানির জন্য তাদের দূরের পথ পারি দিতে হয়।

বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার তাড়াছা গ্রামে বসবাসরত গ্রামপুলিশ চিং সা মং মার্মা জানায়, তাদের এলাকায়  সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। পাহাড়ি সাঙ্গু নদীর পানির উপর নির্ভর করে গ্রামটির মানুষ পানির চাহিদা পূরণ করে। বর্ষাকালে নদীর পানি ঘোলা হয়ে গেলে তাদের খাবার পানির সংকট বেড়ে যায়।পাহাড়ের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এমন অসংখ্য গ্রাম। যেখানে এখন পর্যন্ত চলছে “পানির অপর নাম জীবন” এ শব্দের সাথে লড়াই।  বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহি প্রকৌশলী সহোরাব হোসেন বলেন, পাহাড়ের পানি সংকট নিরসনে ঝিরি ঝর্ণা গুলো কাজে লাগিয়ে জিএএসএফ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। যেখানে পানি পাওয়া যাচ্ছে সেখানে টিউবওয়েল, রিংওয়েল হচ্ছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button