নীড় পাতা / পাহাড়ের রাজনীতি / পাহাড়ে নতুন পুনর্বাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মসূচী দুই বাঙালী সংগঠনের

পাহাড়ে নতুন পুনর্বাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মসূচী দুই বাঙালী সংগঠনের

‘পার্বত্যাঞ্চলে নতুন করে ৮২ হাজার উপজাতীয় পরিবারকে পূর্নবাসনের সিদ্ধান্ত’ নেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ এনে, এর প্রতিবাদে ও ভূমিহীন অভ্যন্তরীণ লক্ষাধিক বাঙালি পরিবারকে পুনর্বাসনের দাবিতে সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ নামের বাঙালিভিত্তিক দুটি সংগঠন।

পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মো: শেখ আহাম্মদ রাজু, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের সমন্বয়ক আবদুল হামিদ রানা, প্রধান বক্তা ছিলেন, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: ইব্রাহিম মনির, বক্তব্য রাখেন- পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মো: তৌহিদুল ইসলাম, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাহাদাৎ ফরাজি সাকিব, ইব্রাহিম অপি, মো: আলামিন প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, ভারত প্রত্যাগত ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠি (উপজাতীয়) শরণার্থী বিষয়ক কমিটি ট্রাস্কফোর্স গত সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখের এক বৈঠকে আভ্যন্তরীণ ‘আজগবি’ (নতুন করে) ৮২ হাজার উপজাতি শরণার্থী পূর্ণবাসন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টাস্কফোর্স এর চেয়ারম্যানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বাঙালিরা মনে করেন। এমন সিদ্ধান্ত পার্বত্যবাসী কখনও মেনে নিবে না। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এধরনের সিদ্ধান্ত গভীর ষড়যন্ত্র বলে আমরা মনে করি, তাই এ সিদ্ধান্ত থেকে দ্রুত ফেরৎ আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তারা বলেন, আভ্যন্তরীণ আজগবি ৮২ হাজার উপজাতিদের সঙ্গে প্রশিক্ষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী, অস্ত্রবাজরা ঢুকে যাবে না এমন গ্যারান্টি কে দেবে?। নতুন করে যাদের পূনর্বাসনের (৮২ হাজার) করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাদের তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হউক।

বক্তারা বলেন, সর্বশেষ আভ্যন্তরীণ ভারত প্রত্যাগত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি (উপজাতীয়) শরণার্থী ২১টি পরিবারকে খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালায় জামতলীতে পূনর্বাসন করা হয়। কিন্তু সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন বর্তমান জেএসএসের হত্যা নির্যাতনে উদ্বাস্তু ৫৬ হাজার বাঙালি পরিবারকে এখন পর্যন্ত পূনবার্সনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ২২ হাজার ২২২টি উপজাতীয় পরিবারকে পুণর্বাসনের পর উপজাতীয়- ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী, আভ্যন্তরীণ উপজাতীয় কোন উদ্বাস্তু ছিল না। তাহলে হঠাৎ করে ৮২ হাজার উদ্বাস্তু কোথা থেকে আসল। এদের খবর সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কেউই জানেন না। হঠাৎ করে উপজাতীয় নেতৃবৃন্দ কোথা হতে নতুন করে এই ৮২ হাজার পরিবার বা ৪০০০০০ চার লাখের বেশি উদ্বাস্তু আবিস্কার করলেন? তালিকায় স্থান পাওয়া ২১ হাজার ৯০০ পরিবার সহ ৮২ হাজার পরিবারের সদস্যরা কারা তার বিস্তারিত প্রকাশ করার আহবান জানান বক্তারা। এ প্রক্রিয়া শিগগিরই বন্ধ করা না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এর জবাব দেয়া হবে।

বক্তারা আরো বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী ২০০১ সালে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করা হয়েছিল শুধু ১২,২২২ টি ভারত প্রত্যাগত উপজাতি শরণার্থী পরিবারের সমস্যা সমাধানের জন্য- কিন্তু এ নেতারাই কৌশলে ২২,০০০ উপজাতীয়কে বাংলাদেশে শরণার্থী বানিয়ে পুনর্বাসন করেছে।

আরো দেখুন

বিজয় উল্লাসে মেতেছে রাঙামাটি মারী স্টেডিয়াম

১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ৩০লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল সবুজের বাংলাদেশ। বিজয়ের ৪৭তম …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 − four =