প্রকৃতিপুরাণব্রেকিংলিড

পাহাড়ের উপর দেবতার পুকুর

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১৩জনের একটি টিম নিয়ে যাত্রা করলাম মাতাই পুখুরী বা দেবতা পুকুরের উদ্দেশ্যে। পর্যটকদের কাছে এটি যেমন আকর্ষনীয় তেমনি তীর্থযাত্রীদের জন্য এটি ধর্মীয় বিশ^াসের একটি পবিত্র জায়গা। যেখানে গেলে মনের চাওয়া পূর্ণ হয়। এমনটাই বিশ^াস করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

স্থানীয় আদিবাসী ত্রিপুরাদের মতে, পাহাড়ের উপরের এই পুকুরের পানি কখনো কমে না এবং পানি পরিষ্কারো করতে হয়না বলে তার নাম দিয়েছে মাতাই পুকুরী। অর্থ্যাৎ দেবতা পুকুর। বছরের অধিকাংশ সময় পর্যটকদের আনাগোনা দেখা যায় এ পুকুরে।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মাইসছড়ির নুনছড়িতে প্রায় ১০০০ ফুট উপরে অবস্থিত এটি ভীন্ন প্রকৃতির স্বচ্ছ পানির অপূর্ব প্রাকৃতিক পুকুর। ত্রিপুরা অধ্যুষিত নুনছড়ি গ্রামের কিছুটা মাটির পথ যাওয়ার পর শুরু হয় সিঁড়ি পথের যাত্রা। এই পুরো যাত্রা পাহাড় দেখার ষোলআনা পূর্ণ করে। পাহাড়ের বুকে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে দেখা যাবে সুবজ পাহাড়ের ভাঁজ, মেঘ পাহাড়ের মিতালী। স্থানীয়দের সংগ্রামী জীবনও দেখা যাবে এখানে।

সচারচর পাহাড় বেয়ে উঠতে কষ্ট হলেও এখানে কিছুটা ব্যতিক্রম। তার কারণ আগে একাধিক পাহাড়ের মাটি পথ বেয়ে পুকুরে যেতে হতো। বৃষ্টিতে পিচ্ছিল পথ ধরে যাতায়াত ছিল কষ্টের। তবে ২০১৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নুনছড়ি থেকে দেবতা পুকুর পর্যন্ত তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য সিঁড়িসহ অবকাঠামো নির্মাণ করে দেন। সেখানে একটি শিব মন্দিরও নির্মাণ করা হয়।

সারা বছর কমবেশি তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের উপস্থিতি থাকলেও বিশেষ করে নববর্ষ বা বৈসাবী দিন গুলোতে হাজার তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকের দেখা মেলে এখানে। কথিত আছে স্থানীয় বাসিন্দাদের জল তৃষ্ণা নিবারণের জন্য জল দেবতা স্বয়ং এ পুকুর খনন করেন। পুকুরের পানিকে স্থানীয় লোকজন দেবতার আশীর্বাদ বলে মনে করেন। প্রচলিত আছে যে, এ পুকুরের পানি কখনো কমে না।

স্থানীয় পর্যটক জয় দে ও সুম্প্রীতি ত্রিপুুরা বলেন, সুযোগ পেলেই আমরা দেবতা পুকুরে ঘুরতে যান। আগে পুকুওে পৌছাতে দেড় থেকে দু ঘন্টা সময় লাগতো। কিন্তু এখন সিঁিড় বেয়ে ৪৫ মিনিটের মধ্যে পৌছে যাওয়া যায়। এছাড়া বিশ্রামের জন্য সিঁড়ি পথের বিভিন্ন স্থানে বিশ্রামাগাও নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বয়স্করাও সহজে যেতে পারবে। দেবতা পুকুর পৌছাতে প্রায় ১৪৮১টি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় বলেও জানায় তারা।

ঢাকার ট্র্যাভেল গ্রুপ ‘আমার টাকায় আমি ঘুুরি গ্রুপ’র এডমিন কুমু নেসা ও পার্থ দাশ বলেন, দেবতা পুকুরের পুরো যাত্রা পথ এক কথায় অসাধারণ। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে যতদুর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। তারপর সবুজ পাহাড়ে ঘেরার মাঝখানে স্বচ্ছ পানির পুকুরটি দেখতে মনোমুগ্ধকর।

অপর পর্যটক নুরুজ্জামান তালুকদার ও মোঃ টিটু বলেন, যতটুকু জানি পাহাড়ে পানির সমস্যা। বাঁধ দিয়ে পানি সংরক্ষন করতে হয়। সেখানে পাহাড়ের উপরে পানির এমন উৎসব সত্যিই অবিশ্বাস্য।

খাগড়াছড়ির বর্তমানে অন্যতম দুটি পর্যটন স্পটের মধ্যে একটি দেবতা পুকুর ও অপরটি মায়ূং কপাল সিঁড়ি বা হাতির মাথা সিঁড়ি। দুটোতেই পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পর্যটকসহ সবার সুবিধার্থে সিঁড়ি নির্মাণ করে দিয়েছে। হাতির মাথা লোহার সিঁড়ির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩শ ২০ফিট এবং দেবতা পুকুরের সিঁিড়র দৈর্ঘ্য প্রায় ২হাজার ৫শ ফিটেরও অধিক বলে জানান স্থানীয়রা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button