পাহাড়ের রাজনীতিরাঙামাটিলিড

পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বে সুমন-নিপন-জগদীশ

২৫তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্পন্ন

‘হে ছাত্র সমাজ, দৃঢ়কন্ঠে ধরো মুক্তির জয়গান; পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে আপোষহীন সংগ্রামে হও আগুয়ান’- এই স্লোগানকে ধারণ করে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহযোগী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) ২৫তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৫ জুন) রাঙামাটি জেলা শহরের কল্যাণপুরে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে সুমন মারমাকে সভাপতি, নিপন ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক ও জগদীশ চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) কেন্দ্রীয় সভাপতি জুয়েল চাকমা’র সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক সুমিত্র চাকমার সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরা (মিল্টন)। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙামাটি জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক ডা. গঙ্গা মানিক চাকমা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি, হিল উইমেন্স ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ। কাউন্সিলে সামগ্রিক প্রতিবেদন পাঠ করেন পিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সুমিত্র চাকমা এবং পিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির আর্থিক প্রতিবেদন পাঠ করেন অর্থসম্পাদক কাজল চাকমা।

সামগ্রিক প্রতিবেদনে সুমিত্র চাকমা বলেন, ‘কভিড ১৯ মহামারির কারণে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির চরম মেরুকরণ হচ্ছে। সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী রাষ্ট্র যতদিন প্রতিষ্ঠা না হবে, ততদিন আমাদের শ্রেণীহীন ও বৈষম্যহীন সমাজের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার দাবি করলেও মূলত সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী, উগ্র বাঙালি-জাতীয়তাবাদ লালন করে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে সমাধানের জন্য পার্বত্য চুক্তি হয়েছে। কিন্তু সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন না করে দেশে বিদেশে নানাবিধ ষড়যন্ত্র করে চলেছে। চুক্তির প্রতি পদে পদে লঙ্ঘন করে চলছে। শত বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে জুম্ম জনগণের আত্বনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার কল্পে পিসিপি ছাত্র যুব সমাজকে নিয়ে সর্বদা আন্দোলনরত রয়েছে।’

বিদায়ী বক্তব্যে সহ-সাধারণ সম্পাদক সুলভ চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের পার্টির আন্দোলনকে জাতীয় মুক্তির আন্দোলন মনে করি। এই আন্দোলনে শুধু ছাত্র-যুব সমাজের বা রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে করলে হবে না, সমগ্র জুম্ম জনগণের অংশগ্রহণ করতে হবে। পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সংস্কৃতি, মূল্যবোধ মেনে চলা উচিত। সবক্ষেত্রে আমাদেরকে মনোযোগ নিতে হবে। জুম্ম জনগণের চলমান আন্দোলনে যা কিছু প্রয়োজন একজন কর্মী হিসেবে সবসময় ভেঙে নতুন ভাবে গড়ে তুলতে হবে।’

বিশেষ অতিথি ডা. গঙ্গা মানিক চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তির আন্দোলনে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের অবদান অনস্বীকার্য। জুম্ম জনগণের অধিকারের জন্য পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের আরও ব্যাপকভাবে সক্রিয় অংশগ্রহণ পাহাড়ী সমাজ আশা করে। দেশীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখার জন্য অধ্যয়ন করতে হবে।পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে শাসকগোষ্ঠী সবসময় ষড়যন্ত্র করে চলেছে। সেজন্য আমাদেরকে সবসময় সাবধানে পা ফেলতে হবে।’

প্রধান অতিথি সাধুরাম ত্রিপুরা বলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র দিনদিন মৌলবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশী হতে পারি, কিন্তু বাঙালি হতে পারবো না; এর প্রতিবাদে পার্বত্য চট্টগ্রামে আন্দোলন সূচিত হয়েছে। নেতৃত্ব ধারাবাহিকতা না থাকলে জুম্ম জনগণের আন্দোলন ব্যাহত হবে। সে জন্য যোগ্য ব্যক্তিত্ব অর্জন করতে হবে। পিসিপিকে সে নেতৃত্বে হাল ধরতে হবে।’

বিদায়ী কমিটির সভাপতি জুুয়েল চাকমা বলেন, ‘পিসিপি সর্বদা আমার কাছে আবেগের। দীর্ঘ পথচলার আজকে ইতি টানতে হচ্ছে। আমাদের রক্ত পিচ্ছিল পথ চলা থেকে সরে দাঁড়ানোর কোন যুক্তি নেই। পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ এ সংগ্রামের পথচলা পাথেয় করতে হবে। পার্টির আদর্শ ধারণ করে প্রত্যেক কর্মীকে আন্দোলনে সামিল হতে হবে।’

আলোচনা সভা শেষে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ২৫তম কেন্দ্রীয় কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান বিদায়ী কমিটির সভাপতি জুয়েল চাকমা। বিজ্ঞপ্তি

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button