রাঙামাটিলিড

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের গণশুনানি

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে রাঙামাটিস্থ প্রধান কার্যালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান আশীষ কুমার বড়–য়া (যুগ্মসচিব) সভাপতিত্বে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানিতে রাঙামাটি ও খাগড়ছড়ি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা হতে আগত সেবা প্রত্যাশী সমাজের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এসময় বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান করোনাকালিন গণশুনানিতে অংশগ্রহণ করার জন্য উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- নিয়ে বিস্তারিত অবহিত করেন। এতে উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ হতে বোর্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ প্রদানের জন্য সভায় উন্মুক্ত আলোচনা আহবান করা হয়।

বিভিন্ন বক্তার বক্তব্য ও পরামর্শ গ্রহণ শেষে ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড একটি উন্নয়নধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দীর্ঘ ৪০ দশকেরও অধিক সময় ধরে জনগণের চাহিদাভিত্তিক বাস্তবসম্মত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- পরিচালনা করে আসছে। সেবা প্রত্যাশীদের উদ্দেশে আশ^াস দিয়ে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কৃষি, সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা, সমাজ কল্যাণ ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের নীতিমালা ও নির্দেশনা মোতাবেক পার্বত্য অঞ্চল যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছায়নি সেখানে সুষম উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সেবা প্রত্যাশী জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ এ ধরনের গণশুনানি আয়োজন করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান। তাঁরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দুর্গম ও জনসাধারণের চাহিদার ভিত্তিতে রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট ইত্যাদি নির্মাণ করেছে। বোর্ডের উন্নয়নমূলক প্রতিটি কাজের গুণগত সঠিক মান দৃশ্যমান হওয়ায় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি জনমানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশা বেশি মর্মে মতামত তুলে ধরেন।

এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নিকট রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, সমিতির অফিস, অনাথালয়ের ছাত্রাবাস ভবন, কৃষি কাজে সেচের জন্য বাঁধ নির্মাণ, সোলার বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারের জন্য আবেদন জানান। উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য পরিকল্পনা ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী ও সদস্য বাস্তবায়ন মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও পরামর্শের দেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড তিন পার্বত্য জেলায় আগামী ৫-১০ বছরে যেখানে জাতীয় গ্রিড হতে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব নয় সেখানে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুরু করে পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে ৪০ হাজার পরিবারকে এবং ২৫০০ কমিউনিটি সেন্টারকে বিনামূল্যে সৌর বিদ্যুৎ সিস্টেম দেয়া হবে মর্মে জানানো হয়।

গণশুনানিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (পরিকল্পনা) ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী ও সদস্য (বাস্তবায়ন) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সমিতির নেতা, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দসহবোর্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button