ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

‘পার্বত্য অঞ্চলে এত বরাদ্দ আসে, কিন্তু উন্নয়ন হবে না কেন?’

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, ‘দেশ যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে পার্বত্য অঞ্চল পিছিয়ে থাকলে হবে না। দেশের সাথে পার্বত্য অঞ্চলকেও এগিয়ে যেতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে প্রতি বছর এত বরাদ্ধ আসে কিন্তু উন্নয়ন হবে না কেন? এ অঞ্চল তো পিছিয়ে পরার কথা নয়।’

বুধবার বিকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সভা কক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও জন প্রতিনিধিদের সাথে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, এ জনপদের নানান খবর নেওয়ার জন্যই আমাদের এখানে আসা। আমরা জনগণের সকল খবর জানতে চাই । পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক বিষয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সরকার এ অঞ্চলকে উন্নত করতে কাজ করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা’র সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ, জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ, রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর, জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, সকল সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ নুরুল আমিন রাঙামাটির সকল সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এবং সকল দপ্তরের খোঁজ-খবর নেন।

সচিব বলেন, ‘আমি মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে অত্র এলাকার সার্বিক অবস্থা ও পরিস্থিতি দেখে গেলাম এবং শোনে গেলাম। আশা করি আমরা অত্র এলাকার জন্যে কিছু করতে পারবো, এই আশায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করে যাবে ।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি অনুসারে যদিও বলা আছে জেলা পরিষদ হস্তান্তরিত সকল দপ্তর দেখা-শোনা করবে কিন্তু প্রায় দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতার জন্য কাজ এগিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, আমরা সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করলে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিকে উন্নত করা সম্ভব হবে। জেলা প্রশাসনের সাথে সম্পর্ককৃত সকল বিভাগ সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামীতেও কাজ করে যাবে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, পর্যটন শহর নামে যদিও এ জেলা পরিচিত কিন্তু সে তুলনায় পর্যটন খাতে তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। তাই এখানে যে সকল উন্নয়ন মূলক দপ্তর রয়েছে সকলে মিলে সমন্বয়ভাবে পর্যটন খাতে উন্নয়ন করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা প্রশাসক মাদক বিরোধী অভিযান চলমান রেখেছে। এছাড়া কাপ্তাই হ্রদকে দূষণ মুক্ত রাখতে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যদি কোন অবৈধ স্থাপনা থেকে থাকে তবে তার জন্য মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হবে।

স্বাস্থ্য কেন্দ্র বিষয়ে তিনি বলেন, দূর্গম এলাকায় যে সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিদ্যুৎ নেই সে সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সোলার’র মাধ্যমে বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করে দিবে জেলা প্রশাসন।

পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবীর বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও সহযোগিতাকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সকল থানায় বলে দেওয়া হয়েছে। আশা করি বাস্তবায়নের রূপ রাঙামাটিবাসী দেখবে। রাঙামাটিতে পর্যটন খাতে কাজ করার মত অনেক কিছুই রয়েছে, তার জন্য সঠিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন।

শহরের যান চলাচল প্রসঙ্গে এসপি বলেন, রাঙামাটি শহরের মধ্যে একটি মাত্র যানবাহন ব্যবস্থা রয়েছে যা দিয়ে এখানকার মানুষ চলাচল করে। শহরে বিকল্প যানবাহনের জন্য চিন্তা করা প্রয়োজন এবং এ প্রসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

ি কমেন্ট

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: