নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / খাগড়াছড়ি / পানছড়িতে এসএসসি ফলাফল বিপর্যয়
parbatyachattagram

পানছড়িতে এসএসসি ফলাফল বিপর্যয়

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬টি প্রতিষ্ঠানের পাশের হার ৫০ ভাগের নিচে। ৭০ ভাগের বেশি শিক্ষার্থী পাশ করেছে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। একটি প্রতিষ্ঠানে ৫৩ ভাগ। এই ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কতিপয় শিক্ষকদের বিশেষ ক্লাসের নামে দায়সারা কোচিং ক্লাস ও প্রাইভেট বাণিজ্যকে দায়ী করছেন অনেকে।

ওয়েবসাইটে প্রাপ্ত ফলাফলে ২০১৯ সালের এসএসসি ফলে পানছড়ি উপজেলার করুণ চিত্র ফুটে উঠে। এতে দেখা যায়, পূজগাং মুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ১৩৬ জন; পাশ ৩৭ জন, পাশের হার ২৭.২১%। লোগাং উচ্চ বিদ্যালয়’র মোট পরীক্ষার্থী ১০৫ জন; পাশ ৪২জন, পাশের হার ৪০.০০%। নালকাটা উচ্চ বিদ্যালয়’র মোট পরীক্ষার্থী ৫০ জন, পাশ ২০ জন, পাশের হার ৪০.০০%। লোগাং বাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়’র মোট পরীক্ষার্থী ১৬১ জন; পাশ ৭৩ জন, পাশের হার ৪৫.৩৪%। পানছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’র মোট পরীক্ষার্থী ১৪৮ জন, পাশ ৬৭ জন, পাশের হার ৪৫.২৭%, পানছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’র মোট পরীক্ষার্থী ৩০ জন; পাশ ১৪ জন, পাশের হার ৪৬.৬৭%, উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়’র মোট পরীক্ষার্থী ৪৫ জন; পাশ ২৪ জন, পাশের হার ৫৩.৩৩%, পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়’র মোট পরীক্ষার্থী ২১০ জন; পাশ ১৫৫ জন, পাশের হার ৭৩.৮১%। পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ৭০জন; পাশ ৫৪ জন, পাশের হার ৭৭.১৪%। মধ্যনগর দাখিল মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ২২ জন;পাশ ১৮ জন, পাশের হার ৮১.৮১%। পুরো উপজেলায় জিপিএ ফাইভ প্রাপ্ত মাত্র একজন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফলাফল বিপর্যয় বিষয় নিয়ে দেয়া একটি স্ট্যাটাসে নানান মন্তব্য- অভিমত উঠে আসে।

উপজেলার সীমান্তর্তী লোগাং গ্রামের বাসিন্দা লোগাং বাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর একজন সচেতন অভিভাবক রাহাত ইসলাম (২৬) বলেন, ‘শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্যমুখীতা ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা থাকলে রেজাল্ট আরও ভালো হতে পারতো।’

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিৎ বলে মনে করছেন ইয়ামিন হোসেন নামের একজন শিক্ষক।

পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী অভিভাবক সমীর সাহা বলেন, ‘এতবেশি ভালো রেজাল্টের জন্য কোচিং বাণিজ্য কি দায়িত্ববোধ এড়াতে পারেন। আমি মনে করি শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয় যদি আন্তরিক হয় আগামীতে আমরা আরো ভালো রেজাল্ট আশা করতে পারি।’

খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বেশি বললে চাকরী নট’।

অপরদিকে পানছড়ির চেঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লাপ্রু চাই মারমা বলেন, ‘অভিভাবককে নিয়ে বারবার মতবিনিময় ও সুপরামর্শ গ্রহণ করলে ফলপ্রসূ হবে আশা করা যায়। কারণ এবিষয়ে সকলে আন্তরিক হতে হবে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাবিপ্রবি’র ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি’র) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৪ বছর মেয়াদী ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান …

Leave a Reply