অরণ্যসুন্দরীব্রেকিংরাঙামাটিলিড

পাথুরে জলে নতুন পথের গান

মাথার উপর ঝকঝকে শরতের শুভ্রতা আর পা ফেলতেই পা ছুঁয়ে বয়ে যাওয়া জলের স্রোত। চারপাশে সুনসান বাঁশঝাড় আর সবুজের ছায়ায় ভেসে আসে কেবল জলের সুর।জলভরা পাথুরে পথ ধরে যত সামনে এগুনো যায় জলপথ যেন ততই টানে।পথের দুপাশে হঠাৎ হঠাৎ স্থানীয় আবাসের চিহ্ন।ভরদুপুরে ছুটোছুটির দেখা না মিললেও বুঝাই যায় এই পথেই তাদের নিয়মিত যাতায়াত এই পাথুরে জলপথেই।সারি সারি পেয়ারা বরইয়ের বাগান সাথে ছোটবড় জলস্রোত।স্থানীয় জনগন খাবার পানি সংগ্রহ করে এই বেয়ে আসে ছোট জলস্রোত থেকেই।যারা পাহাড়ী পথে ছুটেন তারা জানেন এই পানি যথেষ্ঠ সুপেয় শুদ্ধ।
পাথুরে জলপথে কোথাও পানি গভীর কোথাও অগভীর।পা ফেলতে হয় বেশ সতর্কভাবেই।হাঁটতে হাঁটতেই কোথাও উচু পাথর কোথাও ছোট পাথুরে পথ।ওইযে মাথার উপরের ঝকঝকে শরতের তেজ কোনটাই কিন্তু গায়ে লাগবে না এই দীর্ঘ পথে।শান্ত সবুজ পথ কেবল প্রশান্তি ছড়ায়।জল আর জলের ঘ্রানে পথ পেরিয়ে প্রায় চলি­শ মিনিট পার!ঘড়ির কাটা সেটাই বলে!জলের শব্দ তীব্র থেকে তীব্রতর হতে হতেই জানান দেয় আছি খুব কাছাকাছিই।তীব্র হুংকারও এত টানে সে কেবল জলধারার কাছে গেলেই অনুভব করা সম্ভব।
মোড় পাড় হতেই খানিকটা অদূরেই তীব্র গতিতে আছরে পড়ছে পাহাড়ের উপর থেকে ভেসে এসে অন্যপাহাড়ে।জানান দিচ্ছে নিজের তীব্র প্রানচঞ্চল উপস্থিতি।কদিনের ভরা বৃষ্টিতে একদম স্বরুপে হাজির।
এইখানটায় এসে পথটা ঠিক আর অত মসৃন নয়।একদম কাছাকাছি যেয়ে পোহাতে হয় আরেকটু কাঠখোর।পিচ্ছিল পাথর মাড়িয়ে সাবধানে পা ফেলে একদম পাথুরে সরু গলি দিয়ে উঠতে হবে খানিকটা উপরে।খুব সাবধান।বেশ পিচ্ছিল থাকে এই অংশটা।আর পেছনেই যেহেতু সব পাথুরে গতিপথ।ততক্ষনে পানির ঝাপটা উড়ে এসে ভিজিয়ে নিচ্ছে সব।এই দীর্ঘপথ হেটে আসার ক্লান্তি কিনবা সময়ের স্রোত মূহুর্তেই হার মেনে যায় এই তীব্র স্রোতধারায়।কি অদ্ভুত প্রশান্তি কি নির্মল সৃষ্টি!
সেইযে শুরুতে দেখেছিলাম শরতের নীল শুভ্র ঝকঝকে আকাশ এই এইখানেও উপরে তাকালেই দেখা মিলে ছোট্ট একটুকরো আকাশ।যেন সে আগলে আছে এই পাহাড় এই ধারা।আগমনী বার্তা নিয়ে সে আগেই হাজির ঝর্নার কাছে।
জলের ধারায় ঠাই দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কঠিন।বেশ ভারী।খানিকটা ভেতরের দিকে করে দাঁড়ালেই বেশ।।সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে মুছে পাশের এক উঁচু পাথরে বসে মুগ্ধতায় ডুবে ছিলাম প্রকৃতির ঋনী।
বেলা গড়িয়ে আসছে।ফিরতে হবে।কখন যে বেলা গড়িয়ে গেছে টেরই পাওয়া যায়নি!ফিরতে ফিরতে পথে দেখা ছোট্ট তনয় আর তমালের সাথে।দুইভাই।জলে ছিপ ফেলেছে।মাছ পাওয়ার আশায়।মাঝে মাঝে পাওয়া যায় এমনটাই ভাষ্য।ওইযে বলেছিলাম কোথাও গভীর খাদ কোথাও ছোট।
স্থানীয় বাজারে বিক্রি শেষ ঘরে ফিরছে দম্পতি।বৃদ্ধ পাশের বনে ঝোপঝাড় কাটছে উনুনে আগুন জ্বালাতে।গৃহস্থের হাঁস চড়ে বেড়াচ্ছে জলে।আর এই জল পথেই মানুষেরও চলাচল।জলে স্নান পাথুরে পথ আবার একই সাথে স্থানীয় জনজীবন কী অদ্ভুত মুগ্ধতা এই পথের বাকে বাকে।
দেবতাছড়ি।ঘাগড়া বাজার ফেলে কাপ্তাই- বড়ইছড়ি রাস্তায় খানিকটা এগুলেই হাতের বাঁ পাশে ঢুকে গেছে একটা গলি।কখনো সখনো গাড়ি ঢুকে, তবে অধিকাংশ সময়ই না।কাঁচা পাকা রাস্তা।রাস্তার দুধারে ধান ক্ষেতে নানা সিজনাল সব্জির বাগান।বাজারে সব্জি বিক্রই অধিকাংশ মানুষের জীবিকা।এই পথে ধরে হেটে গেলেই দেখা মিলে সেই শীতল স্রোতধারার।এলাকার নাম অনুসারেই এই ঝর্নাকে বলা হয় দেবতাছড়ি ঝর্না।
লেকের জলে বোটে ভেসে ভেসে যেয়ে ডুব দেয়া শুভলং ঝর্না যেমন আমাদের লেকের মুগ্ধতা আর জলের ধারা দুটোই দেখায় সড়কপথের এই ঝর্না আমাদের দেখায় শহুরে আঁকাবাঁকা পথ স্থানীয় জনজীবনের বৈচিত্র্য খানিক্টা ট্রেকিং আর পাথুরে পথ।এইতো আমাদের বৈচিত্র্য। এইতো আমাদের শহর আমাদের দেশ।
দীর্ঘকাল রাঙামাটি বলতে কেবল শুভলং ঝর্নাই চেনা লোকজন হয়তো নতুন করে চিনবে জানবে রাঙামাটিকে।ভরা বর্ষায় কিনবা বৃষ্টিতে রুপযৌবনে উজ্জল হয়ে উঠা এইসব ঝর্না নিশ্চয় বয়ে নিয়ে যাবে এই শহরের সুন্দরতা মুগ্ধতাকে৷…….

যা করবেন – যেখানেই ঘুরতে যাবেন স্থানীয় সংস্কৃতি রীতি নীতিকে অবশ্যই শ্রদ্ধা করবেন।পরিবেশকে তার মত করে সুস্থ সুন্দর থাকতে দিবেন।
পরিচিত না হলে চেনে এমন কাউকে অবশ্যই সাথে রাখবেন।সতর্ক থাকবেন।অতি আবেগে অথবা অ্যাডভেঞ্চার দেখাতে গিয়ে নিজেকে এবং অন্যদেরও বিপদের মুখে ফেলবেন না।
দেশকে দেখুন দেশকে জানুন।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button