অন্য আলোখাগড়াছড়িব্রেকিংলিড

পাঠ্যাভ্যাস গড়তে ভূমিকা রাখছে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

তহিদুর রহমান রুবেল, পানছড়ি
ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পানছড়ির সাধারণ মানুষদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে কাজ করছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার’ প্রকল্পের আওতায় পানছড়িতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এ গ্রন্থাগার কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে। ‘আলোকিত মানুষ চাই’- স্লোগানে খাগড়াছড়ির জেলার সব উপজেলার বই পড়তে আগ্রহীদের সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ের বই। রয়েছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার চালু হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী শহরে। বর্তমানে দেশের ৪৫০টি উপজেলার তিন হাজারেরও বেশি স্পটে এই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের মাধ্যমেই পাঠকদের মধ্যে বই দেওয়া-নেওয়া করছে করছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। পানছড়ি উপজেলার তিনটি পয়েন্টে বই দেওয়া-নেওয়া করছে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ। খাগড়াছড়ি জেলায় বই লেনদেনের জন্য মোট ৪০টি স্পট রয়েছে। করোনা অতিমারির সময়টায় ও বর্তমানে পাঠ্য অভ্যাস গড়ে তুলতে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকের মাধ্যমে রচনা, চিঠি লেখা, গ্রন্থ পাঠ, চিত্রাঙ্কন, নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিযোগিতা চলমান রয়েছে।

খাগড়াছড়ি ইউনিটের ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার কর্মকর্তা প্রসন্ন রায় বলেন, শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য সবাইকে বইপ্রেমী ও গ্রন্থাগারমুখী করতে সরকারের এই মহতী উদ্যোগ। পানছড়িতে আমরা প্রতি সোমবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। পানছড়ি সরকারি কলেজ, পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও পানছড়ি সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, পানছড়ি বাজার, ভাইবোনছড়া আইডিয়াল স্কুলসমূহে প্রতি সোমবার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে যে-কেউই আমাদের সদস্য হয়ে বই নিতে পারবেন।আগামী জানুয়ারিতে মাদ্রাসাসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে চাই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ যে-কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে, আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যেকোনো বয়সের যে কেউ সদস্য হয়ে এ লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা দুই ধরণের সদস্যপদ দিয়ে থাকি। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য হতে ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা অর্থবাবদ ১০০ টাকা আর বিশেষ সদস্য হতে দিতে হয় ২০০ টাকা। সাধারণ সদস্যরা অনধিক ১৫০ টাকা এবং বিশেষ সদস্যরা অনধিক ২৫০ টাকা মূল্যের বই বাসায় নিয়ে পড়ার সুযোগ পান। এছাড়াও আরও দুই ধরনের সদস্যপদ রয়েছে।

পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা শুকরিয়া চাকমা বলেন, আমার ছোট মেয়েটা বই পড়তে পছন্দ করে। আমি তাকে এইজন্য ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের সদস্য করে দিই। এর ফলে সে এখান থেকে তাদের পছন্দের বই পড়তে পারছে। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button