খাগড়াছড়িলিড

‘পাওনা টাকা চাওয়ায় লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুনিরা’

মাটিরাঙ্গায় আবুল বাশার হত্যার তিন দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন

সাগর চক্রবর্তী কমল, মাটিরাঙ্গা ।।

মাটিরাঙ্গায় আবুল বাশার হত্যার তিন দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকান্ডে জড়িতদের আটক করেছেন পুলিশ। ঘাতক মো. আবদুস সালামের কাছে পাওনা টাকা চাইলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মো. আবুল বাশারকে হত্যা করে ঘাতক মো. আবদুস সালাম ও তার সহযোগী মো. আনোয়ার হোসেন প্রকাশ সাগর। হত্যার পর আসামিরা মরদেহ গুম ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত জ্বালিয়ে নষ্ট করে হত্যাকারীরা।

শুধু তাই নয়, ঘটনায় জড়িত হত্যাকারীরা নিজে পুলিশের সাথে পাহাড়ের খাদ থেকে মরদেহ উদ্ধার, ময়নাতদন্ত, জানাজা থেকে দাফন সব কাজেই অংশগ্রহণ করে। এমনকি নিহতের পরিবারের সদস্যদের বাজার খরচও করে দেন হত্যাকারীররা।

ইতিমধ্যে মো. আবদুস সালাম ও আনোয়ার হোসেন প্রকাশ সাগর এ হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আদালতের মাধ্যমে ঘাতক আব্দুল সালাম ও আনোয়ার হোসেন প্রকাশ সাগরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে এমনি চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ।

সাংবাদিক সম্মেলনে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ জানান, আধুনিক তদন্ত পদ্ধতি, গুপ্তচর সহায়তা ও পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে হত্যাকান্ডের তিন দিনের মধ্যে ‘ক্লু লেস’ এ হত্যা মামলাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকান্ডে জড়িতদের আটক করা সম্ভব হয়েছে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে মাটিরাঙ্গাধীন বেলছড়ি ইউনিয়নের বাংলাটিলা (পাঞ্জাবি টিলা) এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল বাশারকে নিজের মুরগীর খামারে ডেকে নেয় মো. আবদুস সালাম। এক পর্যায়ে আবদুস সালামের কাছে পাওনা সাড়ে তিন লাখ টাকা চাইলে আবুল বাশারের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুস সালাম প্রথমে লাঠি দিয়ে আবুল বাশারের মাথায় আঘাত করেন। পরে গলায় রশি পেছিয়ে ধরে। এরপর অপর সহযোগী মো. আনোয়ার হোসেন প্রকাশ সাগরের সহায়তায় হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরে নিহত আবুল বাশারের বাড়ির পাশে পাহাড়ের খাদে মরদেহ ফেলে উল্টো দিক দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর হত্যাকারীরা খামারে ফিরে এসে ঘটনায় ব্যবহৃত আলামত ধ্বংস করে।

প্রসঙ্গত, ১২ ঘন্টারও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পরে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের বাংলা টিলা (পাঞ্জাবি টিলা) এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের পাহাড়ের খাদ থেকে থেকে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মাটিরাঙ্গা সার্কেল) মো. খোরশেদ আলম ও মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে মো. আবুল বাশারের তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশ। ওই দিনই নিহতের ছোট ভাই মো. আবুল কালাম বাদী হয়ে মাটিরাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen + 3 =

Back to top button