ব্রেকিংরাঙামাটি

পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া তিন শিশু বরকলে উদ্ধার

সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে ফুসলিয়ে এনে রাঙামাটিতে বিক্রি করা তিন শিশুকে উদ্ধার করেছে বরকল থানা পুলিশ। স্থানীয় জনতার মাধ্যমে সন্দেহভাজন তিনটি শিশুর বিষয়ে জানতে পেরে শনিবার জেলেদের আড্ডায় হানা দিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তরুণ জ্যোতি চাকমা ও স্থানীয়রা খবর দিলে তিন শিশুকে শনিবার সকালে বরকল থানার বরুনাছড়ি থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিন শিশু হলো সিলেটের গেলাপগঞ্জ থানার কলাগাও গ্রামের মোঃ মাসুদের ১১ বছরের শিশু সন্তান আপন, একই গ্রামের আহম্মদ আলীর ১৫ বছরের শিশু সন্তান রিমন এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথ গ্রামের মোঃ হারুনের ১৪ বছরের শিশু সন্তান আবু হানিফ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তরুণ জ্যোতি চাকমা ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীদের সহযোগিতায় শনিবার সকালে ওই ইউনিয়নের বরুনাছড়ি ইসলামপুর এলাকা থেকে শিশুদের উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, চলতি মাসের ২ তারিখ সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে ওই ৩শিশুকে বরুনাছড়িতে নিয়ে আসে ওই এলাকার মনসুর হাওলাদারের ছেলে মাছ ব্যবসায়ী মোঃ লিটন। পরে লিটন শিশুদেরকে ইসলামপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে সিরাজের কাছে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। ৫ হাজার টাকায় কেনার পর থেকে সিরাজ শিশুদের দিয়ে কেচকি জাল টানা, গৃহস্থালীর কাজসহ বিভিন্নভাবে কঠিন পরিশ্রম করায় এবং শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। সুবলং ইউপি চেয়ারম্যান তরুন জ্যোতি চাকমা বলেন, আমরা শিশুদের হাতে ফোসকা দেখেছি, তাদের অবস্থা খুবই করুন। জানা গেছে ওই শিশুদের সিরাজ জোর করে মদ খেতে বাধ্য করে।

সুবলং পুলিশ ফাড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রউফ বলেন, একটা চক্রের মাধ্যমে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম হয়ে শিশুদের রাঙামাটি আনা হয়েছে। মাছ ধরার কাজে লাগানোর জন্য তাদেরকে বরুনাছড়িতে নিয়ে আসা হয়। শনিবার ইসলামপুরের লিটনের বাসা থেকে শিশুদের উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুরা আমাদের জিম্মায় আছে।

বরকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফজল হোসেন জানান, সিলেট রেল স্টেশন থেকে ৩টি শিশুকে কে বা কারা এখানে মাছ ধরার কাজে লাগানোর কথা বলে নিয়ে এসেছে। তাদের দুজনের বাড়ি সিলেটে এবং একজন সুনামগঞ্জ থেকে। যোগযোগ করে অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়েছে। শিশুদের সুবলং ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় পুলিশ ফাড়ির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনও কোন মামলা হয়নি। এদিকে শিশুদের উদ্ধারের পর থেকেই লিটন ও সিরাজ পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button