ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

পর্যটক বরণে প্রস্তুত রাঙামাটি

প্রাকৃতিক নৈসর্গে ঘেরা পর্যটনের ভরা মৌসুমে রাঙামাটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত। শহরের অর্ধশতাধিক হোটেল মোটেল সকল প্রস্তুতি শেষ করে পর্যটক বরণে প্রস্তুতি সেরেছে। পাশাপাশি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে টেক্সটাইল পণ্য বিক্রতা ও হ্রদ ভ্রমণের যান চালকগণ। বাহারি ডিজাইনের পোশাক শোভা পাচ্ছে দোকানগুলোতে।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো শীতের মৌসুমে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে হ্রদ পাহাড়ের শহর রাঙামাটি। শহরের প্রায় অর্ধশতাধিক হোটেল মোটেল তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিয়েছেন। ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক যান্ত্রিক শহরের ক্লান্তি দুর করতে ছুটে আসবেন পাহাড় হ্রদে ঘেরা মনোরম প্রকৃতির লীলাভূমি পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে। রাঙামাটিতে পর্যটকদের জন্য দেখার মত রয়েছে সাজেক ভ্যালি, ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই লেক, পলওয়ে পার্ক, আরণ্যক ও সুবলং ঝর্ণা। ইতোমধ্যে রাঙামাটিতে আসতে থাকা পর্যটকরাও রাঙামাটির বিনোদন কেন্দ্রগুলো ঘুরে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শীতের মৌসুমে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে পাঁচ লক্ষাধিক পর্যটক ভ্রমণ করে।

ঢাকা থেকে আসা রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘মা ও বাবা’র সাথে প্রথমবার এসেছি রাঙামাটি। হ্রদ ভ্রমণ করেছি। এখানে না আসলে বুঝতেই পারতাম না দেশটা কত সুন্দর। যান্ত্রিক শহরের ক্লান্তি দুর করতে সবাইকে ছুটে আসতে বলবো পাহাড় হ্রদে ঘেরা মনোরম প্রকৃতির লীলাভূমি দেখতে।

পাবনা থেকে আসা মাহামুব আলম বলেন, ‘যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা সময় পাহাড় আর লেকে দেখতে কয়েক বছর পর পর আসি। শান্ত লেকের জল আর উচুঁ উচুঁ পাহাড় দেখলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। খোদা তার সকল সৃষ্টি এখানে ঢেলে দিয়েছে মনে হয়।

পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা প্রদানে হোটেলগুলো বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। হোটেল গ্রিন ক্যাসেল এর স্বত্ত্বাধিকারী মো. আসাদ বলেন, বছরের এই মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসে রাঙামাটিতে। পর্যটক বরণে নতুন করে সাজিনো হয়েছে হোটেল-মোটেলগুলো।

টেক্সটাইল পণ্য ব্যবসায়ী মিতু চাকমা বলেন, পর্যটকদের বিভিন্ন চাহিদা মেটাতে টেক্সটাইল পণ্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পর্যটকদের পছন্দের স্থানীয় ঐহিত্যবাহী পোষাক, শাতীরে শালসহ বিভিন্ন রকমের বাচ্চাদের কাপড়ও হয়েছে।

পর্যটন বোট ঘাট ইজারাদার, রমজান আলী বলেন, কাপ্তাই লেক, সুবলং ঝর্ণাসহ বিভিন্ন স্পটে নিরাপদে পর্যটকদের ঘুড়ানোর জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।

রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন কান্তি বড়–য়া বলেন, বিজয় দিবসের ছুটি শুরু হওয়ার সাথে সাথে অনেক বিদ্যালয়ের পরীক্ষাও শেষ হয়ে যাবে। বছর শুরুতে নতুন করে পড়ালেখা শুরু করার আগেই সাবই একটু ঘুরা ফেরা করে নিতে চাই। তাদের বরণে আমরা প্রস্তুত। এবছরও শীতের মৌসুমে পর্যাপ্ত পর্যটক আসার আশাবাদ ব্যক্ত করে পর্যটন কর্পোরেশনে ইতোমধ্যে ৬০ ভাগ হোটেলের রুম বুকিং রয়েছে বলে জানান এই পর্যটন ব্যবস্থাপক।

রাঙামাটি ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টও মাকসুদ আহাম্মদ বলেন, প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শীতের মৌসুমে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে প্রচুর পর্যটক ভ্রমণ করতে আসেন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রস্তুত হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button