ব্রেকিং নিউজ
নীড় পাতা / ফিচার / অরণ্যসুন্দরী / পর্যটকের পদচারণায় চাঙ্গা পাহাড়ের অর্থনীতি
parbatyachattagram

পর্যটকের পদচারণায় চাঙ্গা পাহাড়ের অর্থনীতি

শীতকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে পর্যটন শিল্প। সাগর দ্বীপের পাশাপাশি পাহাড়েও ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমিরা। পর্যটক পদভারে জমে উঠেছে স্থানীয় প্রায় সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য। পর্যটকরা স্থানীয়ভাবে থাকা, খাওয়া, ঘুরে বেড়ানোর, স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলো কেনাকাটায় টাকা খরচ করছেন। এতে পাহাড়ে টাকার প্রবাহ বাড়ছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের চাহিদার জোগান দিতে বাড়ছে পণ্যেও সরবরাহ। এসব মিলে জমে উঠেছে পাহাড়ের অর্থনীতি। পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ক্ষেত্রে চাঙ্গা ভাব তৈরি হয়েছে। রাঙামাটি জেলায় প্রতিবছর পাঁচ লক্ষ পর্যটকের আগমন ঘটে। এরমধ্যে প্রায় তিন লক্ষাধিক পর্যটক শীত মৌসুমে ভ্রমণ করে।

শীতের মৌসুমে নাগরিক জীবনে যন্ত্রণা পিছনে ফেলে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে পর্যটকরা এখন ভিড় করছে হ্রদ, পাহাড় ও ঝর্নার দেশ পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে। পর্যটকের ভিড়ে মুখর এখন অরণ্যসুন্দরী রাঙামাটি। জেলার সর্বত্রই এখন পর্যটকদের পদচারণা। শহরের অর্ধ শতাধিক হোটেল-মোটেলগুলোতে অগ্রিম বুকিং রয়েছে।

রাঙামাটি শহরে এখন সারাদেশ থেকে আসা হাজারো মানুষের ভিড়। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শীতের মৌসুমে হ্রদ পাহাড়ের শহর রাঙামাটিতে ছুটে এসেছেন হাজারো পর্যটক। নগরজীবনের ক্লান্তি দুর করতে পাহাড়ি এই জনপদে ভিড় করা এসব পর্যটকরা রাঙামাটির অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ। পর্যটনের ঝুলন্ত সেতু, পলওয়ে পার্ক, আরণ্যক, সুবলং ঝর্ণা, সাজেকসহ সর্বত্রই এখন হাজারো মানুষের সরব উপস্থিতি।

অরণ্যসুন্দরী রাঙামাটিতে ঘুরতে আসা শারমিন আলম বলেন, বাচ্চাদের পরীক্ষা শেষ, আবার কয়েকদিন পর ব্যবস্থা শুরু হবে। তাই সময়টাকে পাহাড় দেখতে আসা। হ্রদ ও পাহাড়ের সুন্দর মিলন দেখতে পাওয়া রাঙামাটিতে এটি আর কোথায় আছে বলে আমার মনে হয়না। সুন্দর মনোরম পরিবেশ।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, সারা বছর ইট পথরের শহরের থাকতে থাকতে বিরক্ত। নাগরিক যান্ত্রিক জীবনটাকে কিছু দিনের জন্য পিছনে ফেলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে মনটা ভরে গেল। কবির কবিতার লাইনের মত সুন্দর আমার দেশ।

পাবনা থেকে ঘুরতে আসা আরেক পর্যটক ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, গত দুই বছর আগে যা দেখি গেছি এখন তাই আছে। রাস্তা ঘাটসহ নতুন অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল। সরকার চাইলে পর্যটন খাত থেকে অনেক টাকা ইনকাম করার সুযোগ আছে। সরকারকে পর্যটন খাতকে আরো নজর দেওয়ার অনুরোধ করবো।

হোটেল মতি মহলের এর মালিক মো. শফিউল আজম জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর আমাদের ধরনার চেয়েও বেশি পর্যটক এসেছে রাঙামাটিতে। অনেকও আমরা রুম দিতে পারছি না। আগামী ফেব্রুয়ারি মার্চ পর্যন্ত এই দ্বারা অব্যাহত থাকুক এই কামনা আমাদের। তিনি আরো বলেন, ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরে বেশি আনাগুনা থাকায় ব্যবসা-বানিজ্য ভালো থাকে বছরের বাকীসময় তেমন লোকজন না থাকায় স্টাফ বেতন দেওয়াই কষ্ট হয়।

রাঙামাটি পর্যটন বোট ঘাট ইজারাদার, রমজান আলী জানান, শীত মৌসুম আসলে পর্যটক আসে তখন আমাদের বোট ভাড়া হয় প্রচুর। বাকী সময়টা প্রায় অলস সময় কাটে। আমরা সারা বছর এই সময়টার অপেক্ষায় থাকি। তিনি আরো বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বর পর থেকে প্রচুর পর্যটক নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে কাপ্তাই হ্রদে। আগামী ২৫ ডিসেম্ব বড় দিন উপলক্ষে প্রচুর পর্যটক আসবে এবং তাদের কাপ্তাই হ্রদে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নতুন নতুন অনেক বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রাঙামাটি জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশ, পুলিশ পরিদর্শক, মাকসুদ আহাম্মদ বলেন, রাঙামাটিতে ভ্রমনে আসা সকল পর্যটকদের সড়ক ও নৌপথে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। রাঙামাটি ভ্রমণে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও শঙ্কা নেই জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাঘাইছড়িতে ত্রাণ সহায়তা পেল ১৩শ’ পরিবার

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রভাবে কর্মহীন ১ হাজার ৩শ’ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা …

Leave a Reply