বান্দরবানব্রেকিং

পর্যটকদের জন্য এখনো বন্ধ স্বর্ণ মন্দির !

বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় স্থান বান্দরবানের বুদ্ধ ধাতু জাদি বা স্বর্ণ মন্দির। প্রতিদিনই এই স্বর্ণ মন্দিরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমায় অসংখ্য পর্যটক। তবে লকডাউন শেষ হলেও এখনো বন্ধ রয়েছে এই স্বর্ণ মন্দির।

করোনা মহামারি ঠেকাতে আগস্টে বান্দরবান লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এতে করে সব পর্যটন কেন্দ্রর সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় এ বুদ্ধ ধাতু জাদিও। তবে লকডাউন শেষে বান্দরবান প্রশাসন থেকে সব পর্যটন কেন্দ্র খুলে দিলেও পর্যটকদের জন্য বন্ধ রয়ে যায় বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান বর্ষাবাস পালনের জন্য এই স্বর্ণ মন্দির।

স্বর্ণ মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই তিন মাস বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত সংযমের মাস। বর্ষাবাস যাপনকালে ভিক্ষুগণ প্রতিটি অষ্টমী, অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে নানাবিধ ধর্মীয় কর্ম সম্পাদন করেন। এ সময় তারা প্রতিদিন গৃহীদের কাছেও ধর্মদেশনা করেন এবং গৃহীদের শীলাদি প্রদানসহ ধর্মীয় জীবনাচারে উপদেশ দেন। এই সময়টুকু বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অতিবাহিত করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা, তাই পর্যটক আগমনে স্বর্ণ মন্দিরের আচার অনুষ্ঠানের যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য আগামী আরও ২ মাস পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকবে বান্দরবানের এই স্বর্ণ মন্দির। আগস্টের ৩ তারিখ থেকে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের এ বর্ষাবাস শুরু হয় এবং এই বর্ষাবাস শেষ হবে আগামী নভেম্বর মাসের ৬ তারিখ।

বান্দরবানের মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বুদ্ধ ধাতু জাদির দায়িত্বে থাকা উ গুণবদ্ধন পঞঞা মহাথের বাংলানিউজকে বলেন, বান্দরবানের বুদ্ধ ধাতু জাদি (স্বর্ণ মন্দির) একটি বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতিদিনই নানা ধরনের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়ে থাকে। তবে বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা প্রায় সময়ই এই মন্দিরের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য মন্দিরের বিভিন্ন অংশে ভ্রমণের সুযোগ নিয়ে থাকে। ইতোপূর্বে আমরা পর্যটকদের এই মন্দির ভ্রমণ করার সুযোগ দিলেও এখন বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের বর্ষাবাস (ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান) শুরু হওয়ায় আমরা এখন পূজারি ব্যতিত কোনো পর্যটককে মন্দিরের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, বর্ষাবাস বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের আত্মবিশ্লেষণাত্মক এবং অধিষ্ঠানমূলক শিক্ষাব্রত বিশেষ। এ সময় ভিক্ষুরা বিধিবদ্ধ শিক্ষা ও একান্ত ধ্যান সমাধির চর্চা করেন, এ ব্রত জীবনকে সত্যিকার মুক্তির পথে নিয়ে যায়। বুদ্ধের সময় থেকেই এ ব্রত পালন করা হয়ে আসছে। বুদ্ধদেব স্বয়ং রাজগৃহে অবস্থানকালে ভিক্ষুসংঘের জন্য এই বর্ষাবাস বিধান প্রবর্তন করেন। এই বর্ষাবাস শেষ হবে আগামী নভেম্বর মাসের ৬ তারিখ আর এরপরে আমরা বিহার কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো বুদ্ধ ধাতু জাদি বা স্বর্ণ মন্দির পর্যটকদের জন্য খোলা হবে না বন্ধ থাকবে।

বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন এই স্বর্ণ মন্দিরের সৌন্দর্য উপভোগে দেশি-বিদেশি অসংখ্য পর্যটকদের আগমন ঘটে জেলায়, তবে স্বর্ণ মন্দির সাময়িক বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই শত শত পর্যটকের সৌন্দর্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button