ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

পরীক্ষার চাপে স্থগিত শ্রেণি কার্যক্রম!

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত দেশের অন্যান্য কলেজগুলোতে পরীক্ষার ফাকেঁ ফাকেঁ ক্লাস চললেও রাঙামাটি সরকারি কলেজের চিত্রটা যেনো কিছুটা ভিন্ন। শ্রেণি কক্ষ সংকট ও সতন্ত্র পরীক্ষা হলের অভাবে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার কারণে কলেজটিতে বিভিন্ন সময় শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত করা হলেও এবার একটানা ৫৭দিন শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
গত ৪ই নভেম্বর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: মঈন উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত রাখার কথা জানিয়ে বলা হয়েছে,‘ দ্বাদশ শ্রেণির নির্বাচনি পরীক্ষা, একাদশ শ্রেণির অর্ধ বার্ষিকী পরীক্ষা, অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা, ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষা, বিজয় দিবস, যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন ও শীতকালীন অবকাশ উপলক্ষ্যে ০৫ই নভেম্বর থেকে আগামী ৩১ই ডিসেম্বর পর্যন্ত কলেজের শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে’
এদিকে পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমের বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, ০৫ই নভেম্বর থেকে ৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোষিত ৫৭দিন বন্ধের মধ্যে শুধুমাত্র পরীক্ষার জন্য শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে ৩৫ দিন! এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে সমালোচনা। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতহুলও।

নতুন শ্রেণীকক্ষ ও স্বতন্ত্র পরীক্ষা হল নিমার্ণের দাবী শিক্ষার্থীদের

কলেজটির ডিগ্রি ১ম বর্ষের ছাত্র ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী অয়ন চক্রবর্ত্তী বলেন,‘ প্রায় তিন বছর যাবৎ কলেজে পড়ছি, কিন্তু এরকম একটানা ৫৭ দিন বন্ধের নোটিশ আগে কখনো পাই নি।’
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ও কালেরকণ্ঠ-শুভসংঘ রাঙামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক রাজু ঘোষ বলেন, ‘সম্প্রতি দীর্ঘসময়ের বন্ধের যে নোটিশ পেয়েছি তা কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য মোটেও ভালো খবর নয়। এভাবে প্রতিবছরই এই কলেজে বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা বা অন্যান্য কারণে বন্ধ লেগেই থাকে,যার ফলে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘœ ঘটে।’
কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা দীপংকর দে এই প্রতিবেদককে জানান,‘ কলেজে আলাদা পরীক্ষা হল না থাকায় কয়েকটি পাবলিক পরীক্ষার কারণে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তারপরও এসব পরীক্ষার ফাকেঁ ফাকেঁ ক্লাস নেওয়া যায় কিনা এই ব্যাপারে আমরা কলেজ অধ্যক্ষের সাথে কথা বলবো। তবে নতুন ভবনটি চালু হলে এই সমস্যা হতো না।-তিনি যোগ করেন।
কলেজ ছাত্রদলের নেতা গালিব হাসান জানিয়েছেন,‘আমাদের কলেজে এই সংকট দীর্ঘদিনের। সতন্ত্র পরীক্ষা হল ছাড়াও আমাদের কলেজ আবাসন ও পরিবহন সংকটে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে”।
কলেজটির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার সুমাইয়া প্রতিবেদককে জানান,‘ স্বতন্ত্র পরীক্ষা হল নিমার্ণের সাথে শিক্ষক সংকটও যদি নিরসন করা যায় তবেই এই সমস্যা দুর হবে।’
এদিকে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: মঈন উদ্দীনের সাথে পাহাড়টোয়েন্টিফোরের সাথে একান্ত আলাপে তিনি প্রতিবেদককে জানান, ‘এবার পরীক্ষা গুলোসব পরপর হওয়ায় এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সকাল-বিকাল উভয় শিফটে পরীক্ষা এবং সতন্ত্র পরীক্ষা হল না থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে আমাদের।
মি. মঈন আরও বলেন,‘ আমাদের একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল নামে নতুন একটি ভবন হচ্ছে। ভবনটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। ভবনটি চালু হলে এই সমস্যা আর থাকবে না।’

আমাদের একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল নামে নতুন একটি ভবন হচ্ছে। ভবনটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। ভবনটি চালু হলে এই সমস্যা আর থাকবে না।….অধ্যক্ষ প্রফেসর মঈনউদ্দিন

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
Close