খোলা জানালাপ্রকৃতিপুরাণব্রেকিংলিড

পরিবেশ বাঁচলেই বেঁচে যাই আমরা…

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আজ

কাপ্তাই হ্রদ বাঁচানোর আহ্বান জানিয়েছিলো গ্লোবাল ভিলেজ ১০ বছর আগেই…

আমাদের শৈশবের স্কুল কলেজের দিনগুলোতে ৫ই জুন অনেকটা উৎসবের মত ছিলো। আমরা এই দিনটার অপেক্ষা করতাম প্রস্তুতি নিতাম।আবৃত্তি বিতর্ক রচনা কুইজ নানামুখী আয়োজনে মুখর থাকতো একটা পুরো সপ্তাহ।পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত রচনা প্রতিযোগিতার পাশাপাশি গ্লোবাল ভিলেজ রাঙামাটি নামে পাহাড়ের একমাত্র পরিবেশবাদী সংগঠন পেয়েছিলাম আমরা।পরিবেশকে চেনানো জানানোর এত এত আয়োজন সেখান থেকেই শেখা।পরিবেশ রক্ষা পরিবেশ দুষনে জনগন সরকারের পক্ষে বিপক্ষে তীব্র যুক্তি তর্কের সে দিনগুলোই পরিবেশ চেনাতে জানাতে গিয়ে পরিবেশ প্রকৃতির প্রেমে ডুবিয়ে নিয়েছে খুব করে।তাই সম্ভবত সমস্ত দিবসের ভীড়েও নাড়া দিয়ে যায় একটা দিবস।

আমাদের চারপাশ ঘর সংসার সবটা নিয়েইতো পরিবেশ।যেখানে মানুষের যতটা অবস্থান ঠিক ততটা প্রকৃতিরও।অথচ আমাদের মনুষ্য চর্চা ঢের প্রকৃতি চর্চা ক্ষীন! মানুষ পরিবার পরিজনের রাগ অভিমান কষ্ট আমরা বুঝি ঠিকিই অথচ প্রকৃতিকে বুঝবো কি হিসেবেও আনিনা!অথচ সে কবেই জগদীশ চন্দ্র বসু জানিয়ে গেছে গাছেরও প্রাণ আছে।সেটুক একটু আকটু বুঝে আমরা নিজ ঘরের ছাদের ব্যালকনির গাছে্র বেশ যত্নআত্তী টানলেও গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে পোষ্টার সাইনবোর্ড লাগানোর সময় ভুলে যাই! ভুলে যাই পাখিদের কথা তাদের আবাসের কথা।

জলবায়ু নায্যতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান

পাহাড় আর প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপেক্ষা করতে পারিনা আমরা।পর্যটন শিল্প যেকোন দেশের জন্য সবচেয়ে বড় রাজস্ব খাত হিসেবে কাজ করে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে বিশাল রাজস্ব খনি নিয়ে বসে আছে।অথচ যারা একটু ঘুরাঘুরি পছন্দ করেন দেশে এবং দেশের বাইরে তারা খুব ভালোভাবেই জানেন আমরা ঠিক কতটা পিছিয়ে আছি।সার্বিক ব্যবস্থাপনা যতটা দায়ী তার চেয়ে খুব বেশি দায়ী আমরা যারা ঘুরি এবং ঘুরতে যাই।দুদিনের জন্য ঘুরতে যাই বলেই হয়তো আমাদের ঠিক সে মায়াটা কাজ করেনা জলে জঙ্গলে এখানে সেখানে নিজের ব্যবহার্য সামগ্রী ভাসিয়ে দিয়েই চলে আসি। কেবলমাত্র পরিচ্ছন্নতা এবং যথেচ্ছ তদারকি  শহর এবং দেশ দুটোর সৌন্দর্যযের সাথে সাথে রাজস্বও যে বাড়াতে পারে তার সবচেয়ে ভালো উদাহরন মালদ্বীপ মালয়শিয়া।আরো কাছ থেকে যদি দেখি বাংলাদেশের যেখানে পর্যটন খাত থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক আয় ৭৬.১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাশের দেশ ভারত সেখানে বার্ষিক আয় করছে ১০,৭২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।দেশ বড় আয় বেশি ব্যাপারটা যতটা এটা তার সাথে আছে তাদের পর্যটন শিল্প এবং পর্যটন কেন্দ্রের প্রতি চর্চা বাচিয়ে রাখা।পুরনো ঐতিহাসিক স্থাপনা ভেংগে আধুনিকতার চর্চা আমাদের মত আর কেউ করেনা হয়তো! সিঙ্গাপুর,হংকং,থাইল্যান্ড এমন বেশ কিছু দেশ আছে যাদের রাজস্ব আয়ের অর্ধেকই আসে পর্যটন শিল্প থেকে।

আমরা না পেরেছি তদারকি করতে না পেরেছি যত্ন করতে।ইদানীং ভ্রমনে একটা জেনারেশনের খুব আগ্রহ দেখা গেলেও দেখা যায় না পরিবেশ প্রকৃতির প্রতি সচেতনতা।আমরা যতটা না ভালোবেসে প্রকৃতির কাছাকাছি যাই তার চেয়ে বেশি যাই কেবলই ছুটি কাটাতে,আড্ডা দিতে ঘুরতে।আর এই আড্ডার ছলেই কিনবা জেনেই সমুদ্রের পাড়ে বসে কখন যে চিপসের প্যাকেটটা জলে ফেলে দেই খেয়ালই থাকেনা। অথচ সেই সমুদ্রের পাড়ে রাখা প্রতিটা বেঞ্চের পেছনে একটা করে বিন রাখা আছে,জানাও হয়না খোঁজাও হয়না।অথচ ওই ঠিক সমুদ্রের পাড়েই ঝালমুড়ি বিক্রি করে যে মামা সে আপনার হাতে ঝালমুড়ি দিতে দিতে বলবে মামা খাওয়া হলে প্যাকেটটা তার পাশে রাখা বিনে ফেলতে নাইলে চেক করতে আসলে দেখলে তাদের বকবে!!অথচ এটা কি তার বলে দেয়ার কাজ ছিলো!সে না হয় ঝালমুড়ির প্যাকেট নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে বললো কিন্তু বাকি জিনিস!

একটা সময় কি পাহাড়ে কি সমুদ্রে শুধু দেশি নয় জমতো ভিনদেশিদের আড্ডাও।অথচ এই শহরেই শেষ কবে বিদেশি পর্যটক দেখেছি ভুলে গেছি।বেশ হিসেব নিকেশ এ পাড়ায়।মানুষ প্রকৃ্তি আর সুন্দরতায় বেশ সতর্ক আমরা। সুন্দরতার চর্চা আমরা করতে না পারলেও অসুন্দরতার চর্চা বেশ। প্রকৃতি এখানে ব্যক্তি সম্পদ।নিজস্ব স্বভাব আচরন বদলাতে না পারলেও প্রকৃতিকে ভালোবেসে জড়াতে ছড়াতে না পারলেও প্রকৃতিকে ঘোমটা পড়িয়ে অন্দরে রাখার অসুস্থ চর্চা আমাদের। অথচ আকাশ জড়িয়ে থাকে যে প্রকৃতি তাকে ঘোমটা পড়ানোর সাধ্য কার……মানুষ আসবে মানুষ ছুটবে কিন্তু আসতে হবে ভালোবেসে।আপনার দুদিনের আমোদ যদি প্রকৃতি পরিবেশের গায়ে আঁচ লাগিয়ে দেয় তবে মানুষ তুমি কেমন মানুষ! আর আমি বা আপনারা প্রকৃতি কাছে ডাকছে বলেই যদি ভাবি সে এপাড়ায় এসেছে বলেই সর্বাত্নক আমার আমি যা ইচ্ছে বলি যা ইচ্ছে করি তাও কি সই!

আমাদের যতটা পরিবেশ বান্ধব হতে হবে ঠিক ততটায় পর্যটক বান্ধব।প্রকৃতিকে আলিঙ্গন করতে হবে ভালোবেসে আর পর্যটককেও ঠিক ততটাই যত্নে।ভালোবাসলেইতো ভালোবাসা মেলে।

নতুবা প্রকৃতির বিচার প্রকৃতি নিজ হাতে তুলে নেয় এই বাধ্য সময়ের চেয়ে ভালো উদাহরন আর কি হতে পারে!মাসের পর মাস ঘরবন্দি জীবন,খুব টের পাচ্ছি আমরা শুধু ঘরটাইতো জীবন খোলা আকাশ জল পাখি গাছ সবইতো চাই আমাদের।তাদের শূন্যতা খুব পোঁড়ালেও আমরা তাদের ঠিক কতটা ভাবি,কতটা যত্ন করি!জল বায়ু আকাশ সবকিছুকে দূবির্ষহ করে রাখা আমরা যখন ঘরবন্দী তারা খেলছে আপন মনে।বাতাসে কমেছে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান জলে ভাসছে জলজ নিল জল নীল হয়ে খেলছে আপন মনে জলে পাড়া বাতাসে দুলছে সাগরলতা।সেরে উঠছে ওজোন স্তরের ক্ষতও।এই মন্দ সময়ে এইসবই সুস্থ সুন্দর বার্তা।তবুও কি আমরা বুঝি বুঝতে পারছি প্রকৃতির অভিমান।সোশ্যাল মিডিয়ায় এইসব বিষয়াদী নিয়ে বিস্তর ট্রল মজা নেয়া আসলে কি বুঝায়।এই যান্ত্রিক সভ্যতায় আমরা আসলে প্রকৃতির কাছাকাছিই পৌঁছাতে পারিনা।ভালোই বাসতে পারিনি।আমরা ঘুরি ঘুরে বেড়াই কেবলই সময়ের চাহিদা মেনেই।আধুনিক হতে গিয়ে প্রকৃতিকে-ই মেরে না ফেলে প্রকৃতিকে সাথে নিয়েই ছুটতে পারি আমরা। অথচ আমরা পারিনা আমরা করিনা আমরা বুঝিনা।আমরা আমাদের বারবার বারবার প্রানরক্ষাকারী সুন্দরবনকেই বাঁচতে দেইনা।বারবার মারতে চাই মারার নতুন নতুন ফন্দী বুনি,আচ্ছা যেদিন সুন্দরবন মুখ ফিরিয়ে নিবে সেদিন কি এমন ঘর বন্দী থেকেও বাঁচবো আমরা!বাঁচার কোন উপায় থাকবে!এইযে জানছি সাগরলতা ডলফিনেরা হাসছে সুন্দরবন মুখ ফিরিয়ে নিলেতো সুন্দরী পশুর হাসলো না কাঁদলো সেটাও জানার সুযোগ রাখবেনা প্রকৃতি আমাদের জন্য।

এই করোনা কাল আমাদের অন্তত এইটুক শিখিয়ে যাক ঠিক কতটা মার্জিত হতে হবে আমাদের, আমাদের প্রকৃতি পরিবেশের প্রতি।যদি বাঁচিয়ে দেয় শেষমেশ প্রকৃতি তবে প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়ে যাক প্রকৃতির ঋন।বাঁচবো ভালোবাসবো দেশ প্রকৃতি পরিবেশ।জল গাছ ফুল পাখি মিলে পরিবেশ বাঁচুক পরিবেশ বাঁচাক আমাদের……

লেখক : পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমদৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম’র ফিচার এডিটর ও ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত স্কলার

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button