ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

পরিবর্তন প্রত্যাশীদের ভোট চান জুঁই চাকমা

ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। এদেশে কিছু মৌসুম আছে; যেমন মাছের মৌসুম, ফলের মৌসুম। যত ধরণের মৌসুমই থাকনা কেন, এই বছর বাড়তি যোগ হয়েছে আরও একটি মৌসুম। সেটি হলো ভোটের মৌসুম। ভোটের মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। কখনো দলীয় সমাবেশ; কথানো মিটিং-মিছিল সেমিনারে। যে যেমনি পারছে; ভোটারদের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। তারা বলছেন উন্নয়ন-পরিবর্তনের কথাও।

সারাদেশের মতো পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের মানোনয়ন ‘দৌড়ঝাপ’। তবে অন্যান্য প্রার্থীদের থেকে ব্যক্তিক্রমীভাবে বলছেন সমাজ পরিবর্তনের কথা; সাধারণ মানুষের দুঃখ দুদর্শার কথা। তিনি হলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী জুঁই চাকমা। এখনও পর্যন্ত শুনা যাচ্ছে এই আসনে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে তিনিই এবার নির্বাচন করতে যাচ্ছেন।

সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, রাঙামাটির দুর্গম বরকল উপজেলার সীমান্ত এলাকার ৫ নং বড় হরিণা ইউনিয়নের রাঙাপানি ছড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জুঁই চাকমা। ছাত্র জীবনে তিনি বরকল উচ্চ বিদ্যালয় বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। বর্তমানে তিনি মফস্বল সাংবাদিকতা করছেন। ‘সিএইচটি মিডিয়া টোয়েন্টিফোর ডটকম’ নামের একটি অনলাইন পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

ছাত্র জীবনে জুঁই সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীণ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) ছাত্রী সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন জুঁই। জেলা জুডে ও আরচ্যারির খেলোয়াড় ছিলেন জুঁই। তিনি আরচ্যারিতে জাতীয় খেলোয়াড় হিসেবেও ছিলেন।

২০১৫ সালে তিনি যোগদান করেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিতে। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির রাঙামাটি জেলা কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য। দল থেকে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে জেলার দশ উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে পার্টির পক্ষ থেকে ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টার টাঙিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

নির্বাচনে প্রার্থীতার প্রসঙ্গে জুঁই বলেন, ‘সারা দেশের থেকে পার্বত্য এই জেলা রাঙামাটির পেক্ষাপট ভিন্ন। এখানে নানাবিধ সংকট রয়েছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের জনগণের চাহিদা অনুযায়ী যুগোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুপীয় পানির সংকট নিরসন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বাড়তি নজরদারিসহ বিভিন্ন বিষয়ে।’

এই নেত্রী বলেন, ‘ব্যক্তিস্বার্থে নয়; জনগণের স্বার্থেই আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। জনগণের চাহিদা, আকাঙ্খা পূরণের লক্ষ্যেই আমি কাজ করবো। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় যেভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে, এতে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আমরা মানুষের সাথে কথা বলে দেখেছি; তারা পরিবর্তন চায়। তারা আমাকে ভোট দিবেন।’

‘এছাড়া বেকারত্ব দূরীকরণের বিষয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্থানীয় শিল্পকারখানা গুলো পুনরায় চালু করতে। পাশাপাশি নতুন করে শিল্প কারখানা তৈরি করতে হবে। যাতে এখানকার মানুষের বেকারত্বের জীবনযাপন করতে না হয়।’ বলেন জুঁই

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেত্রী বলেন, ‘১৭৯১ সালে যে আদর্শ ও চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্ত স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ ৪৭ বছরেও মানুষের সেই স্বপ্নসাধ বাস্তবায়ন হয়নি। যারাই ক্ষমতায় আসছে; তারাই ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করতে মরিয়ে হয়ে উঠেছে। আমরা একাত্তের মহান যুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক-ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে থাকবো।’

প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে আমরা পথসভারও আয়োজন করেছি। কিন্তু প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে আমাদের পথসভা পর্যন্ত করা হয়নি। কিন্তু অন্যান্য প্রার্থীরা তো নিবিঘেœ সভা-সমাবেশও চালিয়ে যাচ্ছে। সভা-সমাবেশ পথসভা কারার অধিকার সবারই আছে। আমি মনে করবো এ ক্ষেত্রে প্রশাসন সকলের প্রতি নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জয়ের বিষয়টা মূখ্য নয়, অংশগ্রহণ করাই বড় বিষয়। যদি সুষ্টু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আমি অনেকাংশে এগিয়ে থাকবে। আর যদি জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারে; তাহলে কখনোই অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। তখন সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারাবে। হারবে গণতন্ত্র। তাই জনসাধারণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণে নিশ্চিতকরণে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকতে হবে।’

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯নং রাঙামাটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ১৮ হাজার ২৪৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৮৫৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৯৫ জন। মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২০৩টি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 5 =

Back to top button