রাঙামাটিলিড

পথের বাবু পথেই নামলেন ফের

`দ্য রিয়েল হিরো’ !

অরণ্য ইমতিয়াজ
পথেই ছিলেন তিনি,পথের মানুষের সাথেই মিলে মিশে একাকার ছিলো তার সাধারন জীবন। সেই পথ থেকে উঠে হয়েছিলেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি,তাও দু দুইবার। কিন্তু শেষবার বিজয়ী না হওয়ার পর ফের পথেই নেমে এসেছেন তিনি,যেনো নিজেরই পুরনো জীবনে। অটোরিক্সা চালকের পুরনো পেশায়। তিনি মিজানুর রহমান বাবু, কমিশনার বাবু নামেই পরিচিত পার্বত্য শহর রাঙামাটির মানুষের কাছে। পৌরসভার অভিজাত ও সবচে বড় আবাসিক অঞ্চল তবলছড়ি এলাকা নিয়ে গঠিত ৪ নং ওয়ার্ড থেকেই কাউন্সিলর ছিলেন তিনি দু’বার। সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ফের পুরনো পেশাতেই ফিরে গেছেন তিনি। গত কয়েকদিন ধরে শহরে টেক্সি চালাতে দেখা যাচ্ছে তাকে,সামাজিক মাধ্যমে নিজের টেক্সি চালনার ছবি পোস্ট করেছেন নিজেই।
কাউন্সিলর হওয়ার আগেও টেক্সিই চালাতেন বাবু। বাবা জেলা প্রশাসনের কর্মচারি হলেও খুব বেশিদূর পড়াশুনা না করা বাবু শ্রমিক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং টেক্সিচালনাকেই পেশা হিসেবে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে মাইজভান্ডারি ভক্ত বাবু’র ফেসবুক নামও আজব ‘ দরবার মিজানুর রহমান বাবু’। মাইজভান্ডারের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসার কারণে নিজের নামের সাথে লাগিয়েছেন ‘দরবার’ শব্দটি।
কাউন্সিলর হিসেবে ছিলেন বেশ জনবান্ধব। তার ওয়ার্ডে কিংবা ওয়ার্ডের বাইরে কারো মৃত্যুর পর বাবুর হাতের ছোঁয়া ছাড়া দাফন হয়েছে, এমন নজির কম। মৃতদেহ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার পর সম্মিলিত কন্ঠে উচ্চারিত ‘আল্লাহু রাব্বি…’র চিরচেনা শব্দটির কন্ঠটিও নিশ্চিত ছিলো বাবু’রই।
চলনে বলনে কথায় কাজে ভীষণ সাদামাটা বাবু, গত নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন। করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক কাজ করে করোনাক্রান্ত হয়েছিলেন,তবুও কাজ থামাননি। অথচ সেটার মূল্যায়নও পেলেন না ভোটের রাজনীতিতে ! তাই বেশ কিছুদিন নীরবে বন্ধুদের সাথে বড়শি মেরেই কাটিয়েছেন সময়। এরই মাঝে নিজের প্রিয় বোন রেখার মৃত্যুতে মুষরে পড়েছিলেন। সেই শোক কাটিয়ে জীবনের অন্য চ্যালেঞ্জে যেনো ফের আবার মাঠে নামলেন বাবু।
বললেন-‘আমিতো টেক্সিচালকই,মাঝে জনগণ চেয়েছে,ভোট দিয়েছে তাই কাউন্সিলর হয়েছিলাম,তাদের ভোটে জেতার পর চেষ্টা করেছি তাদের জন্য কিছু করতে। এবার যেহেতু জিতিনি তাই নিজের পেশাতেই ফিরে গেলাম। এবার নিজের পেশার মানুষের পাশে থাকতে চাই দীর্ঘসময়,তাদের জন্য কিছু করতে চাই।’

দ্বিধাহীন চিত্তে শহরজুরে নিজের প্রিয় বাহনটি নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সাবেক এক পৌর কাউন্সিলর,বিষয়টি উপভোগও করছেন অনেকেই। কেউ কেউ তাকে বলছেন ‘ দ্য রিয়েল হিরো’ !

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button