নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / খাগড়াছড়ি / পছন্দের ল্যাবে পরীক্ষা না করালে চিকিৎসা দেন না যে চিকিৎসক!
parbatyachattagram

মাথা ব্যথার কারণ জানতে টাইফয়েড, ম্যালেরিয়াসহ প্র¯্রাব পরীক্ষার নির্দেশনা

পছন্দের ল্যাবে পরীক্ষা না করালে চিকিৎসা দেন না যে চিকিৎসক!

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ল্যাব সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ হাসপাতালের উপ সহকারি কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মো. রাশেদুল আলমের বিরুদ্ধে। পছন্দের ল্যাবে পরীক্ষা না করানো হলো চিকিৎসা না দিয়ে রোগীকে বের করে দেওয়া হয়। এমনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভূক্তভোগি এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে।

ভূক্তভোগীরা জানান, হাসপাতালে রোগী যাওয়ার পর প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বিভিন্ন পরীক্ষার নির্দেশনা দিয়ে নিজের পছন্দের ল্যাবে পাঠান তিনি রাশেদুল। গ্রামের সহজ সরল অশিক্ষিত কোন রোগী ভুল করে অন্য কোন ল্যাবে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তখন ওই রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। সেই চিকিৎসকের পছন্দের ল্যাবে পরীক্ষা করাতে পারলে পরেই চিকিৎসা দেওয়া হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়।

রাশেদুলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল বেশ কিছু দিন থেকেই। আর তাঁর পছন্দের ল্যাব হলো উপজেলার বোয়ালখালি নতুন বাজারে ‘পার্বত্য ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। আর হাসপাতাল থেকে বোয়ালখালি নতুন বাজারে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে ‘দীঘিনালা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। পথে এ ল্যাবটি দেখে যদি কেউ এ ল্যাব থেকে পরীক্ষা করিয়ে যান তো রিপোর্ট দেখার পর ল্যাবের নাম দেখেই ক্ষেপে যান রাশেদুল।

কবাখালি এলাকার রাবেয়া আক্তার (২২) জানান, চিকিৎসকের পছন্দের ল্যাবে পরীক্ষা না করানোর কারণে বেশ হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি। হাসপাতালে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। কয়েকটি পরীক্ষা করাতে বলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদুল। বলে দেওয়া হয় পার্বত্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানো জন্য। পথে একটি ল্যাব দেখে সেটিতে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে যান। তা দেখে ক্ষেপে যান চিকিৎসক। তিনি এ রিপোর্ট দেখে কোন চিকিৎসা দিতে পারবেননা বলে জানিয়ে দেন। তখন রাবেয়া মনে করেছিলেন, পরীক্ষা হয়তো সঠিক হয়নি বা পরীক্ষকরা কোন ভুল করেছেন। রাবেয়া তখন সেই ল্যাবে গিয়ে পরীক্ষার জন্য দেওয়া টাকা ফেরত চেয়ে তার কারণ বলেন। সেই ল্যাবের লোকও নাছোড়বান্দা। তাঁরা রাবেয়াকে বলেন, ‘আপনি ডাক্তারকে গিয়ে বলুন ভুল কোথায় তা লিখে দেওয়ার জন্য। না হলে চ্যালেঞ্জ নিয়ে অন্য কোথায় পরীক্ষা করিয়ে মিলিয়ে দেখার জন্য। আমাদের ভুল হলে আমরা তার খেসারত দিব।’ এ প্রস্তাব নিয়ে রাবেয়া আবার হাসপাতালে গেলে রাশেদুল একটি ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন রাবেয়াকে।

সর্বশেষ একই রকম ভোগান্তির শিকার হয়ে সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে রাশেদুলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গঙ্গারাম এলাকার সুধীল চন্দ্র চাকমার ছেলে সুজন চাকমা (৪৮)।

লিখিত অভিযোগে সুজন উল্লেখ করেছেন, ‘আমি গত কয়েকদিন যাবত অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য দীঘিনালা হাসপাতালে আসি। আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. রাশেদুল আলম আমাকে দেখে এবং অসুস্থতার কথা শুনে কয়েকটি পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন বলে লিখে দেয় এবং বোয়ালখালি বাজারে গিয়ে পার্বত্য ডায়াগনস্টিক ল্যাবে পরীক্ষা করাতে বলে। আমি অসহায় অসচেতন মানুষ অনেক দুর্গম এলাকার মানুষ বিধায় অত্র এলাকায় ল্যাবের সম্পর্কে জানা না থাকায় বোয়ালখালি বাজারে যাওয়ার পথে লারমা স্কোয়ার এর পাশে একটি ডায়াগনস্টিক দেখে সেইখানে গিয়ে ডাক্তারের লিখিত কাগজ দেখিয়ে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে আবার বর্ণিত ডাক্তারের নিকট গেলে তিনি রিপোর্ট দেখে আমাকে বলেন যে, আমি যেখানে পরীক্ষা করানোর কথা বলেছি, সেখানে কেন পরীক্ষা করেননি তাই আমি এই রিপোর্ট দেখতে পারব না। আমি অসুস্থ মানুষ অনেক আকুতি মিনতি করার পরও তিনি আমার রিপোর্ট না দেখে আমাকে যেখানে খুশি সেখানে যাও আমি চিকিৎসা দিতে পারব না।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাশেদুল বলেন, ‘ওই রোগী পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আসার সময় আমি ব্যস্ত ছিলাম, তাই তাকে চিকিৎসা দিতে পারিনি। অবশ্য অন্য এক চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন, সে তো আর চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যায়নি।’

অপরদিকে এ বিষয়ে ভূক্তভোগি সুজন চাকমা জানান, তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে রাশেদুল বের করে দেওয়ার পর অন্য একজনের পরামর্শে তিনি আরেক চিকিৎসকের নিকটে গেলে সেই চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন।

রোগী মাথা ব্যথার পরীক্ষা ৫টিঃ সুজন চাকমা জানান তিনি চিকিৎসকের নিকট গিয়েছিলেন প্রচন্ড মাথাব্যাথা নিয়ে। তাঁকে ৫টি পরীক্ষা করতে লিখে দেন রাশেদুল। পরীক্ষার নির্দেশনায় দেখা যায়, পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে ম্যালেরিয়াসহ ২টি, মাথার এক্স-রে, প্র¯্রাব এবং টাইফয়েড।

ডিপ্লোমা হয়ে দেখবেন মাথার এক্স-রেঃ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপ সহকারি কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. রাশেদুল আলম। এসএসসি পাশ করার পর তিন বছরের ডিপ্লোমা এন্ড মেডিক্যাল অ্যাসিস্টেন্ট কোর্স সমাপ্ত করে যোগ দেন চাকুরিতে। মাথার এক্স-রে দেখার মতো বিশেষজ্ঞ নন। তবুও রোগীর মাথা ব্যাথার কারণে মাথার এক্স-রে করানোর পরামর্শ দেন।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগটি স্বাস্থ্য বিভাগের লোকের বিরুদ্ধে তাই তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বলা হয়েছে। তারা কি করেন সেটা জানার পর প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে মাতৃভাষায় পাঠদান

২০১৭ সাল থেকে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর শিশুদের হাতে মাতৃভাষার বই দেয়া হলেও এখনো …

Leave a Reply