ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

পচা আলু-পেঁয়াজ বিতরণ ইউএনডিপি’র !

কোভিড সহায়তার বস্তায় পচা ও মানহীন খাদ্যদ্রব্য !

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী-ইউএনডিপি’র বিরুদ্ধে পচে যাওয়া খাদ্য সামগ্রী বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুদিন ধরে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ২ হাজার পরিবারের মাঝে এসব পঁচে যাওয়া খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে সংস্থাটি। পচা খাদ্য সামগ্রী বিতরণের অভিযোগ নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরাও।

খাদ্যসামগ্রী গ্রহীতাদের অভিযোগ, বিতরণকৃত এসব খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে আলু, পেঁয়াজ, চালসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীতে পঁচন ধরেছে। তারাহুরো করে সংস্থাটি এসব খাদ্য সামগ্রী দুস্থদের মাঝে বিতরণ করে নিজেদের দায় সারছে। তবে বিতরণকৃত খাদ্য সামগ্রীর আলু ও পেঁয়াজ মোটেও খাবারের উপযোগী নয়। অন্যদিকে অনেকের চালও নষ্ট হয়েছে। তাই খাদ্য সহায়তা পেয়েও বিশেষভাবে লাভ হচ্ছে না দুস্থ জনগোষ্ঠীর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দুস্থ ও গরীব পরিবারের মাঝে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু করে। তবে জেলার কাউখালী উপজেলায় প্রথম দিকে অভিযোগ ছাড়া সংস্থাটি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেও দ্বিতীয় দফায় পঁচে যাওয়া খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। বিগত দুইদিন ধরে উপজেলার ফটিকছড়ি, বেতবুনিয়া, কমলপতি ও ঘাগড়া ইউনিয়নের ২ হাজার পরিবারের এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। খাদ্য সামগ্রী মধ্যে রয়েছে- ১৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি লবনসহ ৭ ধরণের শাক-সবজির বীজ ও ৫টি মাস্ক।

কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আজ (বৃহস্পতিবার) ঘাগড়া ইউনিয়নের ১, ২, ৪, ৫, ৬ এই ৫টি ওয়ার্ডের ২৬০টি পরিবারের মাঝে ইউএনডিপি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। এরমধ্যে যারা খাদ্য সহায়তা পেয়েছে তাদের প্রায় সবারই আলু ও পেঁয়াজ সম্পূর্ণ পঁচে গেছে। বেশিরভাগ মানুষ যেখানে বিতরণ করা হয়েছে সেখানে আলু, পেঁয়াজ ফেলে গেছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানায়, ২০-২৫ দিন আগে প্যাকেট করার কারণে এসব খাদ্য সামগ্রী পচে গেছে।

খাদ্যপণ্য নিতে আসা স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী দিবে জেনে আমরা এসেছি। কিন্তু যেসব দিয়েছে এর মধ্যে আলু, পেঁয়াজ সব পঁচে গেছে। বেশিরভাগ মানুষের চালও নষ্ট হয়েছে। যেগুলো রান্না করা যাবে না। এত কষ্ট করে এলাম ত্রাণ নিতে অথচ মূল পণ্যগুলোই পচে গেছে। তারা (ইউএনডিপি) জেনেশুনে আমাদের এসব পঁচা খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন।
কলমপতি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমাদের ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে পাঁচশ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে,সবার পেঁয়াজ ও আলু সম্পূর্ণ পঁচা,এটা কোনভাবেই খাবার উপযোগি নয়। কেনো তারা এটা পরীক্ষা না করেই বিতরণ করল বুঝতে পারছি না। বিষয়টি আমরা তাদের জানিয়েছি।’

ইউএনডিপি’র যে প্রকল্পের উদ্যোগে এই সহায়তা দেয়া হচ্ছে,সেই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের কাউখালী উপজেলা সমন্বয়ক মিঠুন মারমা জানিয়েছেন, বিতরণকৃত খাদ্য সামগ্রী মূলত বাঘাইছড়ির উপজেলার জন্য বরাদ্দ ছিল। কিন্তু বাঘাইছড়িতে বিতরণের পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় কাউখালী উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। খাদ্য সামগ্রীগুলো প্যাকেটিং করা হয়েছে আরো ২০-২৫ দিন আগে। কিন্তু তালিকা তৈরির কাজ করতে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় বিতরণ করতে করতে কিছু খাদ্য সামগ্রী পঁচে গেছে। তবুও আমরা বলেছি, যেগুলো পঁচে গেছেÑ সেগুলো সংরক্ষণে রাখতে, পরে ক্ষণে আমরা এসব পঁচে যাওয়া খাদ্য সামগ্রী পরিবর্তন কবে দিব।

তিনি আরো বলেন, মূলত এসব খাদ্য সামগ্রী মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে ইউএনডিপি বিতরণ করছে। আমরা জেলা পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে দেখভাল করছি। তাই অনুরোধ করব, নিউজ না করার। নিউজ হলে তারা এসব খাদ্য সামগ্রী পরিবর্তন করে দিবে না।

এদিকে ইউএনডিপি’র এমন কাজকে ‘দায়িত্বহীন’ মন্তব্য করে রাঙামাটির দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) সভাপতি ওমর ফারুক বলেছেন-‘ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে কোভিডকালে সহায়তার নামে এমন পচা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে দায়িত্বহীন আচরন করেছেন। অবশ্যই এসব বিলি করার আগে তাদের দেখা উচিত ছিলো, এর মান ঠিক আছে কিনা। ‘সলিডারিটি’ কর্মসূচীর নামে এমন কাজ খুবই দু:খজনক।’

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শতরূপা তালুকদার এ ব্যাপারে জানিয়েছেন, ইউএনডিপির খাদ্য সামগ্রীর বিতরণ নিয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। আলু, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু খাদ্য সামগ্রী পঁচে গেছে যা আমি নিজেও দেখেছি। এ বিষয়ে তারা আমাদের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, যাদের খাদ্য সামগ্রী পঁচা পড়েছে তাদের সেসব পণ্য বদলে দেবেন। তাই আবার তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পঁচা জেনেও কেন এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে ইউএনডিপি-এই প্রশ্নে ইউএনও বলেন, দেখুন কাউখালী উপজেলায় এর আগেও ২০০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে ইউএনডিপি। এখন হয়ত খাদ্য সামগ্রী ঐচ্ছিক থাকায় তারা আবারো কাউখালীতে বিতরণ করছেন। তবে কিছু খাদ্য পণ্য পঁচা পড়লেও তারা বদলে দিবে বলেছেন। এক্ষেত্রে হয়ত উপকারভোগী আবার এসে সংগ্রহ করতে হলে বাড়তি কষ্ট করতে হবে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button