রাঙামাটি

‘নেত্রীর জন্য’ কর্মসূচীতে ‘নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি’ রাঙামাটি ছাত্রদলের !

সুহৃদ সুপান্থ
উপলক্ষ্য ছিলো বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং মুক্তির দাবি। আয়োজনেও ছিলো বিশালত্ব,উপস্থিতিও ছিলো ব্যাপক। বহুদিন পর পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে বেশ ভালো জমায়েত নিয়ে একটি মোটামুটি বড় আকারের বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সমাবেশেও মিলিত হয় রাঙামাটি জেলা ছাত্রদল। কিন্তু বিপুল উপস্থিতির প্রানবন্ততা মুুহুর্তেই খেই হারায় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর উশৃংখলতায়। শনিবার বিকালে শহরের পৌরসভা থেকে শুরু হওয়া মিছিল বনরূপা ঘুরে এসে কাঠালতলীতে সমাবেশে মিলিত হতেই যেনো ছন্দ হারায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

দলীয় চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত ‘আবেগি কর্মসূচী’ শেষ হয় ‘নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি’র মতো অরাজনৈতিক আচরণে ! এনিয়ে ক্ষুদ্ধ সাধারন নেতাকর্মীরাও। অনেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন,সাবেক নেতারা দুষছেন দায়িত্বরত নেতাদের ‘অনৈক্য আর বিভেদ’কে।

তবে ঘটনার দায় যাদের তাদের ভাষ্যে নেই কোন মিল। সভাপতি সম্পাদকের নিজ নিজ গ্রুপের দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল উঠলেও কৌশলী বক্তব্য দিয়েছেন দুজনই।

রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক আলী আকবর সুমন বলছেন-‘ মূলত সমস্যাটি শুরু হয়েছে ছাত্রদল সভাপতিকে ঘিরে। কথা ছিলো এই আয়োজনে মামলাজনিত কারণে তিনি উপস্থিত থাকবেন না,প্রস্তুতি সভায় এমন সিদ্ধান্তই হয়েছে। সেই মোতাবেক সহসভাপতি হেলালউদ্দিন সমাবেশে সভাপতিত্ব করার বিষয়টিও চূড়ান্ত ছিলো আগে থেকেই। কিন্তু মিছিল পৌরসভা থেকে শুরু হয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর পথে কিছু অনুসারি নিয়ে হঠাৎ করেই মিছিলে প্রবেশ করেন সভাপতি । মিছিল শেষে সমাবেশে তার ভূমিকা কি হবে এটা তাৎক্ষনিক ‘প্রধান বক্তা’ হিসেবে সমাধান করা হলেও এর জের ধরে কিছু নেতাকর্মীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। এরই জেরে কিছু ঘটনা ঘটেছে,যা আমাদের সিনিয়রদের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রন করা হয়।’

অন্যদিকে সভাপতি ফারুক আহমেদ সাব্বির বলছেন,‘আমি সমাবেশে থাকতে নাও পারি,এমন সম্ভাবনার কথা বলেছি,থাকবই না, এমন কথা বলিনি। যেহেতু আমি চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে তাই বিভাগীয় প্রোগ্রামের জন্য চট্টগ্রামেই থাকার কথা,কিন্তু আমাদের রাঙামাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা শ্যামল ভাই আমাকে রাঙামাটির প্রোগ্রামে অংশ নিতে বলায়,আমি সেখানে অংশ নিই। এটা নিয়ে কোন কিছুই হয়নি। সেক্রেটারি কেনো এটা বলছে আমি জানিনা। তবে সমাবেশ শেষে কি কারণে যেনো জুনিয়রদের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। মূলত: ছাত্রদলের তবলছড়ি এবং রিজার্ভবাজারে কর্মীদের মধ্যেই এটি হয়েছে। এই ঝামেলাটি বড় হয়নি,কারণ সিনিয়ররা হস্তক্ষেপ করে সেটা সমাধান করেছে।’ ছাত্রদলে কোন গ্রুপিং নেই এবং সুমনের সাথেও তার বেশ ভালো সম্পর্ক বলে মন্তব্য করেন সাব্বির।

ছাত্রদলের এদিনের প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল। শাকিল বলছেন- ‘বেশ ভালো জমায়েত নিয়ে ছাত্রদল কর্মসূচী পালন করেছে। প্রোগ্রামের একেবারে শেষ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা ভুলবোঝাবুঝি হয়েছিলো,হাতাহাতি করেছে তারা। সেটা ততটা বড় কোন বিষয় নয়। সিনিয়রদের হস্তক্ষেপে দ্রুত সমাধান হয়েও গেছে। আশা করছি এই ভুলবোঝাবুঝি থাকবে না।’

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জানাচ্ছেন, সমাবেশ উপস্থিত সাব্বির ও সুমনের সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি শ্লোগান দিচ্ছিলো,সেটা নিয়ে বৈরিতা তৈরি হয়। ফারুক প্রোগ্রামে আসার কথা ছিলোনা। কিন্তু আসার পর তাকে সভাপতিত্ব না করে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে দেয়া হয়। কিন্তু সে বক্তব্য রাখার সময় ছবি তোলা নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তাড়াহুড়ো করে প্রধান অতিথিও তার বক্তব্য শেষ করেন। এরপর সভাপতিত্ব করা হেলাল দ্রুত সমাবেশ সমাপ্ত করে দেন। এরপরই কার্যালয়ের বাইরে প্রধান সড়কে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। শহরের প্রধান সড়কে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হাতাহাতি আর উশৃংখলাতায় কিছুক্ষন বন্ধ ছিলো সড়কও।

এবিষয়ে কথা বলার জন্য রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক দীপন তালুকদারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

রাঙামাটির কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন জানিয়েছেন, তাদের মিছিল শেষ হওয়ার পর পুলিশ চলে আসে,তবে আবার সেখানে হাতাহাতির ঘটনা শুনে পুলিশ দ্রুত সেখানে যায়,তার আগেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে বলে জেনেছি। তবে কি কারণে তাদের কাদের মধ্যে সমস্যা হয়েছে আমরা জানিনা।’

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button