নীড় পাতা / ব্রেকিং / নীরবেই পেরিয়ে গেলো শহীদ সাংবাদিক রশীদের মৃত্যুবার্ষিকী
parbatyachattagram

শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় স্মরণ করলেন রাজনৈতিক সহযোদ্ধারাই

নীরবেই পেরিয়ে গেলো শহীদ সাংবাদিক রশীদের মৃত্যুবার্ষিকী

গত ৪ জুন অনেকটা নীরবেই পেরিয়ে গেলো আশির দশকে রাঙামাটির তুখোর তরুণ রাজনীতিবিদ ও অসংখ্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক,শ্রমিক ও নাগরিক সংগঠনের সাথে জড়িত তুমুল জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ আব্দুর রশীদ এর ২৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য,মরহুমের সর্বশেষ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ও ছাত্র জীবনের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ছাড়া আর কেউই মনে রাখেনি তাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথিকৃত হিসেবে পরিচিতি রশীদের মৃত্যুবার্ষিকীতে এই দুটি সংগঠন ছাড়া আর কেউ তার স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়া কিংবা কোন স্মরণসভা বা মিলাদ মাহফিল করার প্রয়োজনও বোধ করেনি ! অথচ ১৯৮৯ সালের ৪ জুন যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন তখনো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদালয়ের সিনেট সদস্যসহ রাঙামাটির ২৪ টি সংগঠনের সাথে কোন না কোনভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। রাঙামাটি প্রেসক্লাবও মনে রাখেনি তাদের সাবেক এই সদস্যকে। অথচ সাপ্তাহিক পার্বত্য বার্তার সম্পাদক ও রাঙামাটি প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। রাঙামাটির কোন সাংবাদিক সংগঠনও পালন করেনি কোন কর্মসূচী। এমনকি যেসব শ্রমিক সংগটনের প্রাণপুরুষ ছিলেন রশীদ,তারাও ভুলে গেছে এক কালের প্রিয় এই নেতাকে।

শ্রদ্ধায়-ভালোবাসায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ সাংবাদিক কমরেড আব্দুল রশীদকে স্মরণ করেছেন শুধুই তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা। গত মঙ্গলবার সকালে রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার পৌর পার্ক এলাকায় আব্দুল রশীদের স্মৃতিসৌধে তার ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় কমিউনিস্ট পার্টি, যুব ইউনিয়ন ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা ।

পরে শহীদ আব্দুল রশীদের স্মরণে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি এম জিসান বখতিয়ারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) রাঙামাটি জেলার সভাপতি সমীর কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক অনুপম বড়ুয়া শংকর, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অভিজিৎ বড়ুয়াসহ অন্যরা।

এসময় বক্তারা বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল রশীদ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম একজন নেতা ছিলেন। বাম মতাদর্শিক এই ব্যক্তি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজের সাথেও জড়িত ছিলেন। আমাদের কমরেড রশীদের আদর্শকে বুকে ধারণ করতে হবে। রশীদ হত্যার ২৮ বছর পার হলে গেলেও এখনও এই হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি।’

তারা আরও বলেন, ‘আজ দেশে এক ধরণের ফ্যাসিবাদী শাসন বলবৎ আছে। ইট পাথরের উন্নয়নে দেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে নেই। কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে দিশেহারা। অন্যদিকে শোষকরা আরও শোষণ করে চলছে। মানুষের জন্যই রাষ্ট্র, সরকার; মানুষের কথা রাষ্ট্রকেই ভাবতে হবে। উদাসীন ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না। আজ দেশে বেকার সমস্যা আরও বেড়ে গেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ছাত্ররা বেকার জীবন পার করছে।’

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালের এই দিনে আততায়ীর গুলিতে নিজের পত্রিকা পার্বত্য বার্তা অফিসে কাজ করার সময় নিহত হন প্রথিতযশা এই সাংবাদিক ও সমাজকর্মী। আব্দুল রশীদকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম নেতা ছিলেন। ছাত্র জীবনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নসহ অন্যান্য সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথেও যুক্তি ছিলেন শহীদ আব্দুল রশীদ। বাম রাজনীতির সাহসী নেতা, একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক চৌকস ছাত্রনেতা, সুবক্তা আর অসাধারণ গুণাবলীর অধিকারী আব্দুল রশীদ খুব সহজেই সবার হৃদয় জয় করতে পারতেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে অপহৃত ৬ পাহাড়ি মুক্ত

অপহরণের ২৪ ঘন্টা পর মুক্তি পেয়েছে বান্দরবানের রুমা থেকে অপহৃত ৬ পাহাড়ী। সোমবার বিকাল ৪টার …

Leave a Reply